ঢাকা      মঙ্গলবার ১৮, ডিসেম্বর ২০১৮ - ৪, পৌষ, ১৪২৫ - হিজরী



অধ্যাপক ডা. রাশিদা বেগম

ইনফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ


চিকিৎসকদের অভিভাবক কোথায়?

ছোট্ট এই ভূখন্ডে জনসংখ্যার আধিক্যের কুফল বাতাসে, পানিতে, মাটিতে, রাস্তায়, পথে ঘাটে না কোথায়! আর কু জনসংখ্যার কুফল যে কত প্রকট তার উৎকৃষ্ট উদাহরন এই সোনার বাংলাদেশ।

মানুষের উচ্ছৃঙ্খলতার জন্য দায়ী তার পরিবেশ। নিজ বাড়ী, স্কুল, কলেজ, কর্মক্ষেত্র, সমাজ, রাষ্ট্র ইত্যাদি। প্রতিটি জায়গায় একজন অভিভাবক থাকেন। যিনি দুষ্টের দমন করে শৃঙ্খলা রক্ষা করেন। আর সেই অভিভাবকই নির্ধারক কেমন রাখবেন তার দায়িত্ত্বে রাখা মানুষগুলোকে।

কিন্তু সর্বত্র নজিরবিহীন দুষ্টের প্রশ্রয় মানুষের অসহায়ত্ত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে দিন দিন।

ডা. অমল কুমার রায় একটি পরিবারের সদস্য। তার অভিভাবক কোথায়? কোথাও কি নেই? এই অভিভাবকত্ত্বহীনতা চলে আসছে বহুদিন থেকে। তাই ডা. অমল কুমার এই প্রৌঢ়ত্ত্বে এসেও বাইপাস করা হৃদপিন্ড নিয়ে অকাতরে মানুষের জন্য করেও, এমনকি ঐদিন ঐ পেশেন্ট এর জন্য যারপরনাই চেষ্টা করার পরেও শারীরিক ও মানসিক ভাবে লাঞ্চিত হলেন রোগীর লোকের হাতে। যে এনেস্থেটিস্ট একজন অতন্দ্র প্রহরীর মত পেশেন্টকে পাহাড়ায় রাখেন। তার জন্যই সার্জন নিশ্চিন্তে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন। রোগীকে বাঁচাবার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রমের পুরস্কার তার জন্যও হাজত। (হোক যত স্বল্প সময়ের জন্য)।

আব্দুল্লাহ স্যারের জামিনের কাগজ হাতে বিষন্ন মুখে কোর্টে দাড়িয়ে থাকা, অমলদার ওটি ড্রেস পরা অবস্থায় প্রিজন ভ্যানে চড়ে হাজতে যাওয়া, শামীমা সিদ্দিকা রোজীকে হ্যারাজ করা, প্রতিদিন ছোট ডাক্তারগুলোর মার খাওয়া, মহিলা ডাক্তারদের হ্যারাজ করা, ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যা করা কিংবা ধর্ষণ করা, আই সি টি মামলা-- এযেন পুরো ডাক্তার সমাজকে ধর্ষণ করা। যদি প্রতিবাদের মত প্রতিবাদ না হয় এদের দৌরাত্ম্য বাড়তেই থাকবে।

পি পি এইচ যে কিরকম ভয়াবহ হতে পারে তা যে কোন অবস্টেট্রিশিয়ান মাত্রই বুঝবে। আর বুঝবে সাথে থাকা এনেস্থেটিস্ট। পর্যাপ্ত ব্লাড সাপ্লাই দিতে না পারলে মৃত্যু হতেই পারে। ১৮ ব্যাগ পর্যন্ত ব্লাড লেগেছে এক অপারেশন টেবিলে। মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ এর স্ত্রী, হরতালের দিন তাই মোটরসাইকেল যোগে চতুর্দিক থেকে রক্ত যোগাড় হয়ে গেল। বন্যার পানির মত টারবুল্যান্স হয়ে ব্লিডিং হচ্ছিল। হাজব্যান্ডকে ভিতরে ঢুকিয়ে দেখালাম এবং বললাম শুধু ব্লাডই পারবে ওকে বাঁচাতে। ঐদিন পর্যাপ্ত ব্লাড না পেলে পেশেন্ট এর মৃত্যু ছিল অবধারিত।

অবস্টেট্রিশিয়ানরাই বেশী ঝুঁকির মুখে। পরপর অনেকগুলো ঘটনাই হোল অবস কেস নিয়ে। Laila Banu আপা Firoza Begum আপা Sameena Chowdhury আপা আমাদের কি কিছুই করনীয় নেই? গায়ে হাত তোলা এবং হাতকড়া পরানো কোনভাবেই কাম্য নয়, সমীচীন নয়। এ অন্যায়।

দ্রষ্টব্য: বিভিন্নভাবে পেশেন্টরাও অনেক কষ্টের সন্মুখীন হন। তাদের সাফারিংসও কোন কোন সময়ে অপরিসীম। কিন্তু সেজন্য অধিকাংশ সময়েই চিকিৎসক দায়ী নয়। সিস্টেম দায়ী। সিস্টেম সাধারন চিকিৎসকের হাতে নেই। অধিক জনসংখ্যা দায়ী। কোথাও কোথাও একজন চিকিৎসক দশজনার কাজ করেন। এর সমাধান কী জানি না!

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

প্রেসক্রিপশনের ব্যাপারে যত্নশীল হোন!

প্রেসক্রিপশনের ব্যাপারে যত্নশীল হোন!

রোগীর মুল সমস্যা, উপরের পেটে ব্যথা, বুকে জ্বালাপোড়া, পিঠে ব্যথা, দুর্বলতা। একটা…

ক্লিনিক মালিকের আবদার টেস্ট বেশি দিতে হবে!

ক্লিনিক মালিকের আবদার টেস্ট বেশি দিতে হবে!

নোয়াখালী অঞ্চলে এক ক্লিনিকে কিছুদিন চাকুরী করেছিলাম। ডাক্তার সমাজে খন্ডকালীন এসব চাকুরীকে…

জ্বীন ভূত ও ডাক্তারের ভিজিট

জ্বীন ভূত ও ডাক্তারের ভিজিট

রোগীনী ১৫-১৬ বছরের। বলে, স্যার গায়েবী কথা তো কমছে না। জানতে চাই…

'এইবার মিয়াসাব তাবিজের পাশাপাশি ওষুধ খাইতে বলছেন'

'এইবার মিয়াসাব তাবিজের পাশাপাশি ওষুধ খাইতে বলছেন'

আফিয়া বেগম উদ্ভ্রান্তের মত ৩২ বছর এর ছেলেকে নিয়ে আমার চেম্বারে আসলেন।…

১০ টাকার টিকেটে চিকিৎসা দিলেন তিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

১০ টাকার টিকেটে চিকিৎসা দিলেন তিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

পরিকল্পনা ছিল রাঙামাটি যাওয়ার। সরোবরের কম্বল বিতরণের কাজে। আল্লাহর অনুমতি ছিল না।…

তেত্রিশ বছরে কেউ কথা রাখলো

তেত্রিশ বছরে কেউ কথা রাখলো

না। আজ ক্যান্সার নিয়ে কথামালা নয়। নির্বাচনী কড়চাও নয়। আজ শুধু স্মৃতি…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর