১০ মার্চ, ২০১৮ ১০:১২ এএম

কর্মরত ডাক্তারদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গণপদত্যাগের সিদ্ধান্ত!

কর্মরত ডাক্তারদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গণপদত্যাগের সিদ্ধান্ত!

গত এক বছরে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৮৫ জন চিকিৎসক কর্মরত অবস্থায় হামলা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন। হামলাকারীরা কখনও রোগীর আত্মীয়, কখনও বহিরাগত। পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসকদের একাধিক সংগঠন এ তথ্য জানিয়েছে। তারা জানিয়েছেন, ক্রমাগত এই হামলায় চিকিৎসকরা ক্ষুব্ধ, আতঙ্কিত এবং বীতশ্রদ্ধ। এবার তারা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন।

প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে, প্রতিবাদে আজ, শনিবার সরকারি চিকিৎসকদের একটা বড় অংশ গণ-ইস্তফা দেবেন। চিকিৎসকদের সংগঠন, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরাম’ ইতিমধ্যে পদত্যাগ করতে ইচ্ছুক ১৭ জন চিকিৎসক তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের সভাপতি ডা. রেজাউল করিম বলেন, ‘অনেক হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েও লাভ হয়নি। ডাক্তাররা এবার যে পথ নেবেন, তাতে সরকার অস্বস্তিতে পড়বে।’ সেটা গণ-ইস্তফা কি না, জিজ্ঞাসা করায় রেজাউলের উত্তর, ‘হতে পারে। ফেসবুকে ইতিমধ্যে অনেকেই ইস্তফা দেওয়ার কথা খোলাখুলি জানিয়েছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শনিবার চিকিৎসকদের ৭টি সংগঠন মিলে বৈঠকের পর ঘোষণা হবে।’

যদি কোনওভাবে গণ-ইস্তফা না হয়, তা হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য কাজ বন্ধ করা বা অনশনেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন রেজাউল। তিনি বলেন, ‘ডাক্তারেরা এইভাবে পড়ে-পড়ে মার খেতে পারেন না।’

প্রসঙ্গত, গত তিন বছরে শুধু নদিয়া-মুর্শিদাবাদ থেকে ৭ জন সরকারি চিকিৎসক ইস্তফা দিয়েছিলেন। বিক্ষুব্ধ চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কামারহাটি, হাবড়া, ডেবরা, রানাঘাট, বর্ধমানের মতো বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসকদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনায় তাঁদের এ রাজ্যে কাজের ইচ্ছা ক্রমশ কমছিল। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় ৫ মার্চ মথুরাপুরের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীর পরিজনদের হাতে কৃষ্ণা বর্মন নামে এক চিকিৎসক নিগৃহীত হওয়ায়। যা দেখে চিকিৎসক মহল স্তম্ভিত!

ডা. রেজাউল জানান,‘চুলের মুঠি ধরে ওর (ডা. কৃষ্ণা বর্মন) মাথা ঠুকে দেওয়া হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করা হয়েছে।’

ডায়মন্ড হারবার স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক দেবাশিস রায় বলেন, ‘এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে থাকলে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকেরা কাজ করতে রাজি হবেন না। তাঁরা আতঙ্কিত। আমি ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক-সহ সব কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ওরা ভেঙে প়ড়েছেন।’

চিকিৎসকদের সংগঠন ‘ডোপা’র পক্ষ থেকে ডা শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘ন্যক্কারজনক ঘটনা। নিন্দার ভাষা নেই। চিকিৎসকেরা এমন প্রতিবাদের পথে যাবেন যে সকলে চমকে উঠবে।’

শুক্রবার সারা দিনই ফেসবুকে চিকিৎসকদের বিভিন্ন গ্রুপে হামলার প্রতিবাদে গণ-ইস্তফা দেওয়া নিয়ে আলোচনা হয়। একের পর এক চিকিৎসক প্রকাশ্যে নিজেদের ফোন নম্বর পোস্ট করে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। বেশিরভাগ চিকিৎসক তাদের পোস্টে মত দিয়েছেন— বিক্ষিপ্তভাবে ইস্তফা দিয়ে সরকারের টনক নাড়ানো যাবে না। একমাত্র গণ-ইস্তফা দিলে তবেই সরকার চিকিৎসকদের কদর বুঝবেন।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও