অধ্যাপক ডা. কাজী মুশতাক হোসেন

অধ্যাপক ডা. কাজী মুশতাক হোসেন

বিভাগীয় প্রধান, রেডিওথেরাপী বিভাগ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ।
সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সোসাইটি অফ রেডিয়েশন অনকোলজিস্টস (বি এস আর ও) 
সদস্য, কার্যকরী পরিষদ, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি (বি সি এস) 
কাউন্সিলর, ফেডারেশন অফ এশিয়ান অর্গানাইজেশনস ফর রেডিয়েশন অনকোলজী (ফারো)।


১০ মার্চ, ২০১৮ ০৭:৪২ এএম

ক্যান্সার বার্তা : পর্ব-০৫

ক্যান্সার বার্তা : পর্ব-০৫

World cancer day theme:

2007- Today’s children, tomorrow’s world.
2008 – Give children and young people a smoke-free environment.
2009 – I love my healthy active childhood.
2010 – Vaccinating to prevent virus related liver cancer.
2011 – Teaching children and teenagers to limit their sun exposure by being sun-smart.
2012 – Together it is possible.
2013 – Cancer – did you know?
2014 – Debunk the myths.
2015 – Not beyond us.
2016, 2017, 2018 – We can, I can.

ক্যান্সারের প্রকোপ কমিয়ে আনা আর রোগাক্রান্তদের চিকিৎসার প্রয়োজন কে সামনে রেখে ১৯৩৩ সালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস পালন করার প্রথম পরিকল্পনা করা হয়। ইউ আই সি সি বা ইউনিয়ন ফর ইন্টারন্যাশনাল ক্যান্সার কন্ট্রোল নামের আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং অন্যান্য কয়েকটি সংগঠনের সমন্বিত মিটিংএ এই সিদ্ধান্তে নেয়া হয়। 

বিভিন্ন সুত্রের তথ্য অনুযায়ী পৃথিবীতে প্রতি বৎসর এক কোটি তিরিশ লক্ষ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে আর প্রায় সত্তর লক্ষ মানুষ মারা যাচ্ছে। লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচানো আর এই ঘাতক রোগ সম্পর্কে মানুষ কে সচেতন করার উদ্দেশ্যেই এই দিবস পালন করা হয়। 

সুত্র মতে বেশীরভাগ ক্যান্সারের প্রাদুর্ভাব এবং ক্যান্সার জনিত মৃত্যু যথাক্রমে ৪৭% এবং ৫৫% ঘটে অনুন্নত দেশ সমুহে। এখন থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ২০৩০ সাল নাগাদ পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে।প্রতি বৎসর ক্যান্সার দিবস পালন করা হয় যাতে করে মানুষ এর কারন গুলো জানতে পারে, প্রতিরোধের উপায় গুলো খুজে পায় বা সুচনাতেই রোগ নির্নয় এবং চিকিৎসা করতে পারে। এজন্য সভা, সম্মেলন, র‍্যালী, ব্যানার ফেস্টুন, পোষ্টার, যাতে করে সাধারণ মানুষ বেশী করে জানতে পারে এবং সচেতন হতে পারে। সরকারী, বেসরকারী বিভিন্ন সংগঠন এ কাজ করতে পারে বা করে আসছে। রিস্ক ফ্যাক্টর গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ধূমপান, স্থুলতা, শাক-সব্জী বা ফল-মূল না খাওয়া বা কম পরিমানে খাওয়া, শারিরীক পরিশ্রম না করা, মদ্যপান, অনিরাপদ যৌন জীবন যাপন, বায়ু এবং পরিবেশ দুষন, পরোক্ষ ধূমপান, অতিরিক্ত সুর্য স্নান এবং বংশগত রিস্ক ফ্যাক্টর সমূহ। প্রতিরোধ বিষয়ে অন্যতম হচ্ছে হিউম্যান প্যাপিলোমা এবং হেপাটাইটিস ভ্যাক্সিন নেয়া আর জানা রিস্ক ফ্যাক্টর গুলোর ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা। 

সাধারনত ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষ বেশ অবহেলার শিকার হয়ে থাকে এমন কি কোন কোন সমাজে অস্পৃশ্য ভাবে। তারা ভাবে যে এটি একটি ছোয়াচে রোগ এবং রোগীর সেবাকারীরা এতে আক্রান্ত হবে। সবার জানা উচিত যে ক্যান্সার রোগীকে আলাদা করা নয় বরং বাসায় সবার সাথে থেকেই চিকিৎসা করতে হবে। অন্য সবার সাথে থাকা এবং সবার সাথে মেলামেশার পুর্ন অধিকার রয়েছে তাদের। তারা তাদের সব ইচ্ছাই অন্য সবার মতই পুরন করতে পারবেন। কোন প্রকারের অবহেলা নয় বরং তাদের প্রতি স্বাভাবিক আচরন করতে হবে। তাদের পুর্ন সম্মান এবং সামাজিক মর্যাদা রয়েছে। তারা রোগাক্রান্ত বলে তারা শাস্তি পাচ্ছেন এমন ভাবা রীতিমত অন্যায়। আবার অতিরিক্ত সহানুভুতি দেখানোরও প্রয়োজন নাই। বরং ইতিবাচক আচরন কথাবার্তা তাদের মানসিক দৃঢ়তা ফিরে পেতে সাহায্য করবে। 
ক্যান্সার দিবস পালন করার অন্যতম কারন এসব ভুল ধারনা থেকে সবাইকে বেড় করে আনা, এবং সকলেই যেন এই রোগের কারন, লক্ষণ, প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে পারে। সচেতন হন, সুস্থ্য থাকুন।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে