ডা. ছাবিকুন নাহার

ডা. ছাবিকুন নাহার

মেডিকেল অফিসার, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল


০৯ মার্চ, ২০১৮ ০৫:০৩ পিএম
এটা আমাদের গল্প

আমি, তুমি অথবা আমরা

আমি, তুমি অথবা আমরা

এক. আমি নামিহা। তখন থ্রি কী ফোরে পড়ি। গ্রামে থাকি। ঢাকা যাবো। এই প্রথম। মহা খুশি যাকে বলে তার চেয়েও বেশি খুশি। বাসে ও এই প্রথম ওঠা। খুব যত্ন করে বাসের কন্ডাকটর লোকটা বাসে ওঠতে সাহায্য করল। প্রায় পাঁজা কোলে করেই। কী ভালো লোক। বাচ্চা মেয়েটা শুধু বুঝল এটা নির্দোষ সাহায্যে ছিলো না। ইচ্ছে করে ছুঁয়ে দেয়া ছিলো। খামচে ধরা রক্তাক্ত ক্ষতটা এখনো সারেনি। সারে না। দগদগ করে জ্বলে ওঠে সময়ে অসময়ে।

দুই. আমার নাম দয়িতা। সিক্সে পড়ি। বছর বারোর কিশোরী। শারীরিক পরিবর্তনে নাজেহাল। পাশের বাসার শফিভাই। বাবার বয়সি। খুব পারিবারিক। আন্তরিক। পড়াশোনার খোঁজ খবর নেন।
একদিন বুকের ছোট্ট ঢিবিতে খুব নিরীহ পানি পড়া টাইপ নসিহত দিলেন। রীতিমতো আপত্তিকর ভাবে। রাগে ফু্ঁসছি দেখে ভয় পেলেন। শুনলাম, তার মেয়েকেও নাকি একই নিদান দেন। এতে নাকি বয়ঃসন্ধির বাজে আছর পড়ে না। আরো কত কী। তখন ঠিকঠাক না বোঝলেও এখন বুঝি। সবই ছিলো পারভার্সনের বহিঃপ্রকাশ! বুজুর্গ সেজে কর্ম সিদ্ধির পাঁয়তারা আরকি! সব ভাঁওতাবাজি।

তিন. বহতা নামে সবাই জানে। নাইনে পড়ি। আব্বা মারা গেলেন। সবাই অভিভাবক বনে যেতে চাইল রাতারাতি। বাহ! সম্পর্কিত ফুফাতো ভাই, যিনি স্বীকৃত মহামানব টাইপ। নারী সংগ এড়িয়ে চলেন বলে জানি। সান্ত্বনা দিতে যেয়ে একটু বেশিই ধরে রাখলেন মনে হলো। নাইন টেনের বাচ্চাকাচ্চা ভয়ংকর হয়, এটা মনেহয় মহামনবের জানা ছিলো না। এখন পর্যন্ত ঘৃণা পুষে রেখেছি। আর একটা দিনও ভালো করে কথা বলিনি। তাকাইনি পর্যন্ত।

চার. রামিসা, আচ্ছা আমি রামিসা। মেডিকেলে পড়ি। দল বেঁধে বন্ধুরা চক বাজার কিংবা সদরে যেতাম। এক বিকেলে টিপ টিপ বৃষ্টির মধ্যে এই দোকানে সেই দোকানে ড্রেস দেখছি। শিফা এক পান খাওয়া ইতর টাইপ লোককে দেখিয়ে কিছু একটা বলতে চাইল। অতনু আছে দেখে ঠিকঠাক বলতে পারল না। আমি অতনুকে সতর্ক করে সামনে দিয়ে হেঁটে গেলাম। ঘুঁঘু এইবার ফাঁদে পড়ল। সমানে থাপরাচ্ছি আর বলছি, আর কখনো মেয়েদের গায়ে হাত দিবি? শুয়োর! পড়িমড়ি করে ছুঁটে পালালো। বেশ করেছিস! দারুণ দেখালি তো। ব্রেভ লেডি! আরো কতো কী!

লঞ্চে। খুব ভোরে ঢাকায় পৌঁছতাম। ব্যাকপ্যাকে রাজ্যের জিনিস। একহাতে পানির বোতল। অন্যহাতে ছোট্ট পার্স। সদরঘাট এক আজব জায়গা। সুযোগ সন্ধানীর দারুণ সুযোগ। একলা নারী। দুই হাত বন্ধ। ভীড়ে গিজগিজ। যেই না.... ওমনি ঠাস করে মাথায় দিলাম বাড়ি। ও মাগো বলে ধরনি প্রপাত! ওঠে পড়িমড়ি করে দৌড়। যে সে দৌড় না। বাপের জন্মে আর এ কাজ করবে বলে মনে হয় না।

বলছিলাম ব্যাড টাচের কথা। এটা কারো একার গল্প না। সব নারীর ঝুলিতেই এমন কিছু না কিছু গল্প জমা আছে। তাই এটা সব নারীর গল্প। সব মেয়ের গল্প। সব বোনের গল্প। সব মায়ের গল্প। এই গল্পে আমি রুপা। এটা রুপার গল্প। এটা রুপাদের গল্প। এটা নামিহার গল্প। এটা জরিনা, রহিমার গল্প। আবার এটা এলিটা, লিসা, টিনাদের ও গল্প। এটা এক বাবার আদরের রাজকন্যার গল্প। এক রাগী ভাইয়ের বোনের গল্প। এক বনলতার গল্প। এক বরুণারও গল্প। নাথিং পার্সোনাল।

সবাইকে বলছি, যারা এই অপকর্মগুলো করে, তারা কিছু ভয় পায় না। জানে নারীরা কাউকে বলবে না। যতই হোক, নারী তো। এই সুযোগটাই নেয় শুয়োরের দল। তবে ভয় যমের মতো ভয় পায় নিরবতা ভংগকে। দ্বিধা ভেংগে একবার, আমি আবারো বলছি, যদি একবার রুখে দাঁড়াও, দেখবে ম্যাজিক! সো গার্লস, লেট আস ব্রেক দ্যা সাইলেন্স। নারী দিবস চাই না। নারী এবং পুরুষ দুজনই মানুষ। মননশীল মানবিক মনুষ্য দিবস চাই। খুব কি বেশি চাওয়া বন্ধুরা?

বিঃদ্রঃ- এই গল্পগুলো আপনার মেয়েটিকে বলুন। ও যেনো মোকাবেলা করতে শেখে। পাশাপাশি ছেলেটিকেও বলেন। আমি আমার ছেলেদের বলব। আমি চাই মায়ের কষ্টগুলি ওদের ছুঁয়ে যাক। ওরা যেনো অন্য কোনো মায়ের কষ্টের কারণ না হয়। আর হ্যাঁ, ব্যাড টাচ্ একটা ব্যাধি। এটা ছেলে বাচ্চাদেরকেও কিন্তু ছাড়ে না। সুতরাং সাধু সাবধান।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না