ডা. আহমাদ হাবিবুর রহিম

ডা. আহমাদ হাবিবুর রহিম

লেখক, কলামিস্ট

বিসিএস (স্বাস্থ্য), রেসিডেন্ট, বিএসএমএমইউ।


০৯ মার্চ, ২০১৮ ০৪:২৬ পিএম

সম্মানিত চিকিৎসকবৃন্দের প্রতি কিছু অনুরোধ

সম্মানিত চিকিৎসকবৃন্দের প্রতি কিছু অনুরোধ

* অনলাইনে দেয়া আপনার গুরুত্বপূর্ণ সময়কে দয়া করে অর্থবহভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করুন।

* চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের অযথা সমালোচনা কটু কথায় আহত না হয়ে প্রো একটিভ ভাবে কীভাবে একটি সুন্দর বলয় তৈরি করা যায় তার চেষ্টা করুন।

* সাধারণ মানুষ আমাদের কাছে যা জানতে চান কিংবা যে বিষয়গুলো না জানার কারণে তাদের সেবা গ্রহণ বাধাগ্রস্থ হয় সে বিষয়গুলোতে সংক্ষিপ্তভাবে আলোকপাত করে ধারাবাহিকভাবে লিখুন।

* স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন সমস্যা বা ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়াশীল লেখা না লিখে যথাযথ বিশ্লেষণ করে পূর্ণাঙ্গ মতামত দিন। সেটা সংক্ষিপ্ত হোক সমস্যা নেই তবে যুক্তিপূর্ণ যাতে হয়।

* লেখার বানান ও সাহিত্যিক মান সম্পর্কে খেয়াল রাখুন। আপনি সমাজের এমন স্তরের সদস্য যাকে সবাই অনুসরণ করে। আপনার লেখালেখিতে বড় মাপের ভুল থাকলে তা দৃষ্টিকটু বৈকি!

* এমনভাবে লিখুন যাতে লেখাটি পাঁচ দশ দিন পর অপ্রাসঙ্গিক না হয়ে যায়। লেখাকে একটু গুছানো ও হৃদয়গ্রাহী করার সুযোগটুকু নিন। হাতে সময় থাকলে পত্রিকায় প্রকাশের উপযোগী করে লিখুন। পরিচিত অনলাইন পত্রিকাগুলোতে প্রকাশের জন্য নিয়মিত ইমেইল করতে পারেন। আপনার কথা যতো মানুষের কাছে পৌছুবে আপনি ততোটাই দৃঢ়ভাবে নিজেদের অবস্থান সবার কাছে খোলাসা করা সুযোগ পাবেন।

* চিকিৎসকদের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের ভুল ধারণা দূর করতে হলে তাদেরকে কটু বাক্য শুনিয়ে কাজ হবে না। যৌক্তিক ও শালীন ভাবে বুঝানোর চেষ্টা করুন। বাস্তবের আচরণ দিয়েই ধীরে ধীরে তাদের মনে জমাট চিন্তার পরিবর্তন আনতে হবে।

* নিজেদের ভুল স্বীকার করার সৎসাহস ধারণ করুন। যদি আমাদের সত্যিই ভুল থেকে থাকে তা স্বীকার করলে আমরা ছোট হয়ে যাবো না। বরং আমাদের প্রতি সবার এ আস্থাটুকু তৈরি হবে যে আমরা আসলেই সত্যটা বলি। গায়ে ঠেলে তর্কে জেতার চেষ্টা করি না।

* যে কোন সমস্যাতে প্রতিপক্ষ বা কর্তৃপক্ষকে লাগাতার দোষারোপ না করে আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে কোথায় কোথায় পরিবর্তন আনার সুযোগ আছে সে জায়গাগুলো খুঁজে বের করুন। কাজ শুরু করে দিন।

* গড়পড়তাভাবে কেউ কেউ চিকিৎসদেরককে গালি দিলেও আপনার ফ্রেন্ড লিস্টের অনেকেই ব্যক্তিগত ভাবে আপনাকে শ্রদ্ধা করেন। এখন আপনি যদি কারো ছুড়ে দেয়া অর্থহীন একটা অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে আপনি অশ্রাব্য গালিগালাজ শুরু করে দেন তাহলে কোন লাভতো হবেই না বরং আরও বেশি মানুষের মনে অশ্রদ্ধা প্রকট হবে।

* অনলাইনে যে ভালোগুণের দাবী আমরা করি - অফলাইনে তার বহুল প্রচলনের মাধ্যমে আমরা স্বাস্থ্যখাতের পরিবর্তনে নিজেদের সদিচ্ছাকে সবার সামনে তুলে ধরতে পারি।

আসুন সেবা, সদাচরণ ও যৌক্তিক বোধের বিকাশ ঘটিয়ে সমস্যাগুলোর সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখি। হতাশা আর বিদ্বেষ নয় সততা আর নিষ্ঠার মাধ্যমে নিজেদের ভালোটুকু ছড়িয়ে দেই সবার মাঝে।

ধন্যবাদ

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত