অধ্যাপক ডা. কাজী মুশতাক হোসেন

অধ্যাপক ডা. কাজী মুশতাক হোসেন

বিভাগীয় প্রধান, রেডিওথেরাপী বিভাগ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ।
সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সোসাইটি অফ রেডিয়েশন অনকোলজিস্টস (বি এস আর ও) 
সদস্য, কার্যকরী পরিষদ, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি (বি সি এস) 
কাউন্সিলর, ফেডারেশন অফ এশিয়ান অর্গানাইজেশনস ফর রেডিয়েশন অনকোলজী (ফারো)।


০৯ মার্চ, ২০১৮ ০৩:২২ পিএম
ক্যান্সার প্রতিরোধে ৭ টি টিপস

ক্যান্সার বার্তা : পর্ব-০৪

ক্যান্সার বার্তা : পর্ব-০৪

ক্যান্সারএকটি জটিল ও দুরারোগ্য রোগ। চিকিৎসা ব্যয়বহুল বলে অনেকেই চিকিৎসা করাতে পারেননা। তাই এর প্রতিরোধের ব্যবস্থা করতে পারলে সবার উপকার হয়। ব্যাপারটা যত কঠিন মনে হয়েছিল আসলে ততটা কঠিন নয়। জীবন যাপন পদ্ধতির কিছু পরিবর্তন, খাদ্যাভ্যাসের কিছু পরিবর্তন এবং নিয়মিত স্ক্রীনিং করলে প্রথমত প্রতিরোধ এবং দ্বিতীয়ত প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা করার মাধ্যমে নিরাময় করা যায়। প্রতিরোধ করা নিয়ে নানা রকম কথা থাকলেও বিভ্রান্ত না হয়ে জীবন যাপন পদ্ধতির সামান্য পরিবর্তন করে নিজেই এর উপকারিতা উপলব্ধি করতে পারবেন। মাত্র ৭ টি বিষয়ে লক্ষ্য করে দেখতে পারেন এর উপকারিতা।

১। তামাক বর্জন করুন- সিগারেটবা বিড়ি অর্থাৎ ধূমপান বর্জন করুন। যেকোন প্রকারের ধূমপান ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ধূমপান করলে ফুসফুস, মুত্রথলি, কিডনি এবং জরায়ুর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। চিবিয়ে খাওয়া তামাক যেমন গুল, খৈনি, জর্দা, ইত্যাদি মুখের ও গলার ক্যান্সারের কারন। তাই এই বিষ বর্জন করে আপনি অনেক গুলো ক্যান্সার থেকে রক্ষা পেতে পারেন। তামাক বর্জন করা কোন কঠিন কাজ নয় , আপনার সদিচ্ছাই যথেষ্ট। প্রয়োজনে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নেন।

২। স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করুন- বাজার থেকে ভাল ভাল জিনিষ কিনে আনলেন কিন্তু সব খাবার কি স্বাস্থ্যসম্মত? খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হলে কান্সার ছাড়াও অন্য অনেক অসুখ থেকে রেহাই পাবেন। যেমন
প্রচুর ফলমূল, শাকসবজি এবং দানাদার শস্য ক্যান্সার প্রতিরোধে আপনাকে সাহায্য করবে।

তেল জাতীয় খাবার কম করে খাবেন। বিশেষ করে এনিমাল ফ্যাট যেমন গরু বা খাশির মাংশ, এগুলতে যদিও ক্যালরি বেশি কিন্তু এতে ওজন বৃদ্ধি পায় ফলে হৃদরোগ এবং অন্যান্য রোগের সঙ্গে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। যদি আপনি মদ্যপানে অভ্যস্ত হন তাহলে তা একেবারেই নিম্নে কমিয়ে আনুন। কেননা মদ পানে স্তন কান্সার সহ অন্ত্র, কিডনি, লিভার এবং ফুসফুস এর ক্যান্সার হতে পারে।

৩। আপনার ওজন ঠিক রাখুন অর্থাৎ আপনার বয়স এবং উচ্চতা অনুযায়ী যে ওজন থাকা উচিত সেই ওজন মেইনটেন করুন। এজন্য পরিমান মত খাদ্য গ্রহনের পাশাপাশি ব্যায়াম করুন বা হাটা হাটি করুন। দিনে অন্তত ৩০ মিনিট শারীরিক পরিশ্রম করুন। বেশি ওজন স্তন কান্সার এবং কিডনি, প্রস্টেট গ্ল্যান্ড, ফুসফুস এর ক্যান্সার করে।

৪। সূর্য রশ্মি থেকে দূরে থাকুন- বিশেষ করে দুপুরের রোদ অর্থাৎ বেলা ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত যতটা পাড়েন ছায়াতে থাকুন, এসময় সূর্যের আলোর তীব্রতা সবচেয়ে বেশী থাকে। রোদে গেলে ছাতা, সানগ্লাস ব্যাবহার করুন। ফুলহাতা ঢিলা জামা পড়ুন। সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করুন প্রয়োজন মত এবং বাড়ে বাড়ে। সূর্যস্নান পরিহার করুন।

৫। প্রতিশোধক টিকা গ্রহন করুন- বর্তমানে কতগুলো ক্যান্সারকে যৌনবাহিত রোগ বলা হয়। কিছুকিছু ভাইরাস এর টিকা গ্রহন আপনাকে ক্যান্সার থেকে বাঁচতে সাহায্য করবে। যেমন হেপাটাইটিস বি ভ্যাক্সিন লিভার ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। যারা যৌনবাহিত রোগের ঝুকিতে আছেন তাদের অবশ্যই এই টিকা নেয়া উচিত। এছাড়া হিউমান প্যাপিলমা ভাইরাস টিকা গ্রহন করলে জরায়ু ক্যান্সার থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এই টিকা বর্তমানে বাংলাদেশে পাওয়া যাচ্ছে।

৬। ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ পরিবর্তন করুন–কিছু কিছু আচরণ পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্যান্সার থেকে বাঁচতে পারা যায়। যেমন নিরাপদ যৌন জীবন যাপন আপনাকে অনেক গুলো ক্যান্সার থেকে বাঁচতে সাহায্য করবে যেমন জরায়ু মুখের , পায়ুপথের এবং মুখের ক্যান্সার। যারা বহুগামি তাদের কনডম ব্যবহার এবং ভাক্সিন গ্রহন জরুরী। কিন্তু এই অভ্যাস পরিবর্তন করলে নিরাপদ থাকা সম্ভব। এছাড়া একই সূচ এর সাহায্যে অনেকের ইনজেকশন গ্রহন ক্যান্সার এবং এইডস এর মত রোগ সংক্রমণ করে। যারা মাদকাসক্ত তারা এইসব রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

৭। শুরুতেই রোগ নির্ণয়ের ব্যাপারে পদক্ষেপ নিন- আমরা যাকে বলি স্ক্রীনিং। অর্থাৎ নিজে নিজে এবং চিকিৎসকের সাহায্যে স্তন পরীক্ষা বা ত্বক, অন্ত্র বা কলোন, প্রস্টেট এবং জরায়ুমুখ পরীক্ষা করার মাধ্যমে এই স্থান গুলোর ক্যান্সার সহজেই বা সূচনাতেই শনাক্ত করা যায়। আর সূচনাতে ধরা পড়লে এই ক্যান্সার গুলোর নিরাময় করা যায়।

দেখা যাচ্ছে সামান্য কিছু ব্যপারে সতর্ক হলে বা পদক্ষেপ নিলে ঘাতক ব্যাধি ক্যান্সার কে প্রতিরোধ করা যায়। উন্নতদেশ সমুহে এই স্ক্রিনিং ব্যাপারটা ব্যাপক ভাবে চালু হয়ে গেছে। আমরা একটু সচেতন হলে আমাদের দেশেও এটা চালু করা সম্ভব। আমাদের সচেতনতা আমাদের রক্ষা করতে পারে। সচেতন হন, সুস্থ্য থাকুন।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে