ঢাকা      শুক্রবার ২১, সেপ্টেম্বর ২০১৮ - ৫, আশ্বিন, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. লতিফুর রহমান

ইন্টার্ন চিকিৎসক, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল


ডাক্তারদের মৃত্যুর কারণ

ডাক্তারদের মারা যাবার অন্যতম দুইটি কারণ হল:

১। কিডনি ডিজিজ
২। এক্সিডেন্ট

কথাটা খোলাসা করি:

অতি ভোর থেকেই শুরু হয় ডাক্তারদের কর্মচঞ্চলতা। সেটা চলে গভীর রাত পর্যন্ত সাথে নাইট থাকলে তো কথাই নাই। এতো ব্যস্ততার মাঝে তারা খাওয়া দাওয়ার সময় খুব কম পায়। খাওয়া দাওয়া ঠিক মত মেইনটেইন হয় না। এতে স্বভাবতই পানি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম পান করা হয়। ব্যাপারটা খুব ক্রনিক। ফলে দীর্ঘ দিন এ প্রক্রিয়া চলতে চলতে কিডনি ক্রমেই তার স্বাভাবিকতা হারায়। বেশ কয়েকজন সিনিয়র, মিড লেভেল ও জুনিয়ার ডাক্তারের সাম্প্রতিক কালের ডিজিজ পর্যবেক্ষণ করে অধিকাংশর ই কিডনি ডিজিজ পাওয়া যায়। 

অতি সকাল টু গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ততা। ( এতো ব্যস্ততার কোন মানে হয়? কিন্ত এছাড়া উপায়ই বা কি আছে!)। এ নিয়ে একটা গল্প প্রচলিত আছে, ডাক্তার প্রতিদিন সকালে উঠে কর্মস্থলে চলে যায়, আবার আসে গভীর রাতে। ফলে যাওয়ার সময়ও বাচ্চা ঘুমিয়ে থাকে, আসার সময়ও বাচ্চা ঘুমিয়ে থাকে। এতে বাচ্চার সাথে ডাক্তার বাবার দেখা খুব কম হয়। রাতে বাচ্চার হঠাৎ ঘুম ভেংগে গেলেই কেবল দেখা হয় বাবার সাথে। তো একদিন বাচ্চা তার মাকে জিজ্ঞেস করে, আম্মু, অতি সকালে যে লোকটা বেরিয়ে যায়, ও গভীর রাতে যে লোকটা আসে সে লোকটা কে? গল্পটা দুঃখজনক হলেও অনেক ডাক্তারের ক্ষেত্রে সত্য।

যেহেতু ডাক্তারদের ব্যস্ততা কমছে না বরং বাড়ছে, তাই সমাধান হিসাবে একটা করে পানির বোতল কর্মস্থলে নিয়ে গেলে কিছুটা সমাধান হবে।

২য় কারণ এক্সিডেন্ট। যাদের গ্রামে বাড়ি তারা মাত্রই এর প্রয়োজনীয়তা খুব অনুভব করতে পারে। কবে শুক্রবার আসবে আর রোগি তার রোগ দেখাবে ডাক্তারকে। রোগিরা তাই মুখিয়ে থাকে শুক্রবারের জন্য। ডাক্তাররাও একদিন ছুটি পেয়ে ছুটে যায় গ্রামের পথে চিকিৎসা দিতে। প্রায় প্রতি সপ্তাহে। ফলে তাদের কে জার্নির উপরই থাকতে হয়। আর যাদের প্রাইভেট কার আছে তারা সেটাতেই যায় গ্রামে। অন্যান্য পরিবহণ গুলো প্রাইভেট কারকে প্লাস্টিক বলে থাকে নানা কারণে। এতো ভ্রমণের উপর থাকার কারণে প্রায়ই দেখা যায় ডাক্তাররা এক্সিডেন্ট হয়ে মারা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক কালে এর প্রকোপ আশংকাজনক ভাবে বাড়ছে। মাঝেমধ্যে ভাবি, ডাক্তাররা এতো ক্লান্তি আর হাড় ভাংগা খাটুনির পর যদি গ্রামের পথে ছুটে না গিয়ে বাসায় রেস্ট নিতো তাহলে গ্রামাঞ্চলের চিকিৎসা ব্যবস্থা কি যে ভয়ানক রুপ লাভ করতো তা আল্লাহ মালুম। আমরা শুধু বাইরের দিকটাই দেখতে পায়, ভেতরের খবর কজনই বা খোঁজ নেয়!

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আমি পড়ি ঠিকই কিন্তু আইটেমের সময় সব ভুলে যাই

আমি পড়ি ঠিকই কিন্তু আইটেমের সময় সব ভুলে যাই

স্যার, আমি মেডিকেলের ৩য় বর্ষের ছাত্রী। মেডিকেলে ইতিমধ্যেই ১ বছর লস করেছি।…

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ভয়াবহতা!

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ভয়াবহতা!

সার্জারিতে ইন্টার্নশিপ প্রায় শেষ দিকে। এক ব্যাচমেট রিকুয়েস্ট করলো মেডিসিনে তার একটি নন-এডমিশন…

‘ডাক্তার সাব, আপনি স্টেথোস্কোপ কানে লাগাননি’

‘ডাক্তার সাব, আপনি স্টেথোস্কোপ কানে লাগাননি’

১৯৮৫ সনে যখন আমরা এমবিবিএস পাস করার পর ইন-সার্ভিস-ট্রেইনিং করতাম তখন প্রতি…

বাংলাদেশি ডাক্তারদের সেবার কথা এখনো ভুলেনি ইরানিরা! 

বাংলাদেশি ডাক্তারদের সেবার কথা এখনো ভুলেনি ইরানিরা! 

ইরানের ইস্পাহান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জিহাদে সালামাত’ নামক একটি সংস্থার উদ্যোগে ইরানের পাহাড়ি…

মা তার মেঘে ঢাকা তারা

মা তার মেঘে ঢাকা তারা

শুভ্র মেডিকেলে ফাইনাল ইয়ারে পড়ে তখন। হঠাৎ এক সকালে বাবা তাকে ফোন…

একটা ভুত আমার সামনে দিয়ে কবরখানায় ঢুকে পড়লো!

একটা ভুত আমার সামনে দিয়ে কবরখানায় ঢুকে পড়লো!

খুব সম্ভব ১৯৮২ সনের কথা। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে থার্ড ইয়ারে পড়ি। এল…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর