০৫ মার্চ, ২০১৮ ১২:১২ পিএম

পেটে গ্যাস - জেনে নিন সুস্থ থাকার নিয়ম

পেটে গ্যাস - জেনে নিন সুস্থ থাকার নিয়ম

আধুনিক এ সময়ে সবাই ব্যস্ত। এত ব্যস্ততার মধ্যে নিজের প্রতি যত্ন রাখাটা হয়ে ওঠে না। কাজের চাপ, মানসিক চাপ, খাওয়া দাওয়ার অনিয়ম নানা কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিশেষ করে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় কষ্ট পাননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকা ও জীবন যাত্রার কিছুটা পরিবর্তন করলে এই সমস্যা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

প্রথমে খুঁজে বের করতে হবে কোন খাবার খাওয়ার পর সমস্যা বেশি হচ্ছে। এর জন্য দৈনিক কী কী খাবার খাচ্ছেন তা খেয়াল রাখবেন। চাইলে লিখেও রাখতে পারেন। যেদিন পেটে অস্বস্তি অনুভূত হবে সেদিন তালিকা মিলিয়ে দেখবেন নতুন কোন খাবারটি যোগ হয়েছে। কিছুদিন সে খাবার বাদ দিয়ে এরপর আবার খেতে দেখুন। যদি আবার সমস্যা হয় বুঝবেন এটিই ট্রিগার ফুড। তাহলে সে খাবারটি এড়িয়ে চললে ভালো থাকাটা সহজ হয়ে যাবে।

কমলার রস, গ্রীন টি, চর্বি ছাড়া মাংস, ছোট মাছ দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় যোগ করুন। খাবারে বেশি তেল ও মশলা পরিহার করুন। এতে পুষ্টির ঘাটতি হবে না আবার বদহজমের সমস্যা থেকেও মুক্ত থাকবেন আপনি যাদের আঁশযুক্ত খাবারে গ্যাস হয় তারা সবজি সিদ্ধ করে খেতে পারেন বা বেশি সমস্যা করে যে সবজিগুলো সেগুলো এড়িয়ে যেতে পারেন। খাবার খাওয়ার কিছু ক্ষণ আগে পানি পান করুন। এতে আপনার খাদ্যনালী সচল হবে ও পাকস্থলী খাবার গ্রহণের উপযোগী হবে। খাওয়ার পর সামান্য হাঁটাহাঁটি করলে পেটের গ্যাস আন্ত্রিক ক্রিয়ার মাধ্যমে বের হওয়ার সুযোগ পাবে। সকালে খালি পেটে ইসবগুলের সরবত পেটের জন্য উপকারী।

একবারে খুব বেশি না খেয়ে বারে বারে অল্প করে খান। এতে খাবার সহজে হজম হবে। যদি দেখেন পেটে গ্যাস জমে রয়েছে, তা হলে অবশ্যই খানিকটা হেঁটে আসুন। দেখবেন কিছুটা স্বস্তি লাগছে। কার্বনেটেড ড্রিঙ্কস খাওয়া একেবারেই ছেড়ে দিন। এই ধরণের পানীয়তে কার্বন ডাই অক্সাইড থাকার ফলে বুদবুদ সৃষ্টি হয়ে গ্যাস তৈরি করতে পারে।

তাছাড়া ধূমপান, এলকোহল, চুইংগাম চিবানো বাদ দিতে হবে। মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। নিয়মিত রাতে ৬-৭ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করুন। এতে শরীরের সব অঙ্গই সচল থাকে। যা হজমে সাহায্য করে। ফলে পেটে গ্যাস জমতে পারে না।

যে সকল খাবার পেট ঠাণ্ডা রাখে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় সে রকম খাবার রাখতে হবে।

• পেট ঠাণ্ডা রাখতে শসার তুলনা হয় না। এটি পেটে গ্যাসের চাপ কমিয়ে আনে এবং বুকের জ্বালা দূর করে।

• দইয়ের মধ্যে রয়েছে প্রোবায়োটিক উপাদান যা হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে পেট ব্যথা কমিয়ে আনে। এছাড়া মাঠাতে থাকা ল্যাক্টিক এসিড গ্যাসকে স্বাভাবিক করে। তাই প্রতিদিন নিয়মিত মাঠা বা দই খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

খাবার পরিবর্তনের পরও যদি পেটের সমস্যা সমাধান না হয়, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

সংকলনে: ডা. আহমাদ হাবিবুর রহিম 

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে