ঢাকা বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১ ঘন্টা আগে
০৩ মার্চ, ২০১৮ ০১:০৩

বিপজ্জনক অ্যামোনিয়ায় নাগরিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি

বিপজ্জনক অ্যামোনিয়ায় নাগরিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি

অ্যামোনিয়ার কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়েছে রাজশাহী মহানগরীর জনবহুল শিরোইলের শতাধিক পরিবার। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) গুদাম অব্যবস্থাপনা কারণে অ্যামোনিয়া দূষণের শিকার হচ্ছে এলাকাবাসী। গুদাম চত্বরে খোলা আকাশের নিচে দিনের পর দিন ইউরিয়া সারের বস্তা স্ত‚পাকারে পড়ে থাকায় রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে। এ থেকে ছড়াচ্ছে মারাÍক অ্যামোনিয়া দুর্গন্ধ।

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন বিসিআইসি সার গুদাম এলাকায় মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ঘটছে। এর আশপাশে বসবাসরত মানুষের শরীরে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যা। অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধে চোখ জ্বলে ও পানি পড়ে। নাকে কাপড় না দিয়ে গুদামের পাশ দিয়ে যাওয়া যায় না। ঝাঁঝাল দুর্গন্ধে মারাÍক হাঁচিও হয়। অসহনীয় ভোগান্তির মধ্যে বসবাস করছেন স্থানীয়রা।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণাগারের রাজশাহীর জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বদরুল ইসলাম বলেন, তীব্র দুর্গন্ধ ও চোখ জ্বালাপোড়া করার কারণ অ্যামোনিয়া গ্যাস। অ্যামোনিয়া ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস দিয়ে ইউরিয়া সার তৈরি করা হয়। সার গলতে শুরু করলে কটু গন্ধযুক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস বাতাসের সঙ্গে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. সঞ্জিত কুমার সাহা জানান, অ্যামোনিয়া বিপজ্জনক গ্যাস। এ গ্যাসে ফুসফুস ও বুক আক্রান্ত হয়। এর প্রভাবে কাশি, বুকে প্রচণ্ড ব্যথা ও শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এছাড়া শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যাহত হয়। শুধু তাই নয়, এর প্রভাবে মানুষ অন্ধও হয়ে যেতে পারে। দেহের স্নায়ুবিক ব্যবস্থাতেও মারাত্মক প্রভাব ফেলে এই গ্যাস।

গুদামটি সরাতে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন। গুদামের পাশে মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য আইনজীবী সৈয়দা শামসুন্নাহার মুক্তির চেম্বার। তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর এলাকায় টেকাই দায়। দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখলেও ঝাঁঝালো গন্ধে চোখ জ্বালাপোড়া করে। নানা রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এতে এলাকার শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুধু দুর্গন্ধের কারণে এলাকায় ভাড়াটিয়া আসতে চায় না। 
দেখা গেছে, গুদামের ভেতরে জায়গা না হওয়ায় পশ্চিম পাশে খোলা আকাশের নিচে ইউরিয়া সারের বস্তা স্ত‚পাকারে রাখা হয়েছে। শ্রমিকরা জানান, বছরের বেশিরভাগ সময় এভাবে বাহিরে সারের বস্তা পড়ে থাকে। এতে তারাও তীব্র দুর্গন্ধ পান। কিন্তু পেটের তাগিদেই তারা এখানে কাজ করেন। অনেকে নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলেও তারা জানান।

গুদামের ইনচার্জ আবু বকর সিদ্দিক এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি। দিতে চাননি কোনো তথ্যও। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলতে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ রয়েছে বলেও তিনি জানান। আবু বকর দাবি করেন, দুর্গন্ধ ছড়ানোর ব্যাপারে এলাকার কেউ তার কাছে কোনো অভিযোগ করেননি। তবে স্থানীয়রা জানান, সার এভাবে ফেলে রাখায় এলাকার পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠছে। সারের বস্তা ফেলে না রাখার জন্য তারা গুদাম ইনচার্জের কাছে বারবার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু তিনি কোনো কথা শোনেন না।

গুদামটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য এলাকাবাসী গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে পরিবেশ অধিদফতরে পাঠিয়েছেন। কিন্তু এতেও কোনো কাজ হয়নি। জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদফতরের রাজশাহীর উপপরিচালক মামুনুর রশীদ এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর রাজশাহীর উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালি বলেন, গুদামে কি পরিমাণ সার মজুদ রয়েছে তারা শুধু এর খবর নেন। কিন্তু গুদামটি ঢাকা থেকে নিয়ন্ত্রিত। এটি সরাতে হলে তাদেরই উদ্যোগ নিতে হবে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত