০১ মার্চ, ২০১৮ ০৫:২৩ পিএম

বিএসএমএমইউ’র ভিসির জন্মদিন পালিত

বিএসএমএমইউ’র ভিসির জন্মদিন পালিত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য ও প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান স্যারের শুভ জন্মদিন গতকাল বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) পালিত হয়েছে।

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান ১৯৫৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানার ভাবনদত্ত গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মোঃ আব্দুল হামিদ তাঁকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়ার পর গত ২৪ মার্চ ২০১৫ইং তারিখে তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। 

এদিকে তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অর্থ ও হিসাব অফিস, পরিচালক (হাসপাতাল) অফিস উল্লেখযোগ্য। এসময় উপস্থিত ছিলেন সম্মানিত উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ শহীদুল্লাহ সিকদার, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল, প্রক্টর হাবিবুর রহমান দুলাল, পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আব্দুল্লাহ আল হারুন, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মোঃ আবদুস সোবহান প্রমুখ। 

মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খানের পিতার নাম মোঃ হারুনুর রশীদ খান এবং মাতার নাম মিসেস রোকেয়া খান। পারিবারিক জীবনে তিনি প্রখ্যাত নাট্যকার ও অভিনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা মামুনুর রশীদের ছোট ভাই এবং তাঁর স্ত্রী অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক। 

মানবসেবায় জীবন উৎসর্গকারী অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এস.এস.সি, ১৯৭৪ সালে নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি ও ১৯৮২ সালে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ এবং ১৯৯৪ সালে সাবেক আইপিজিএমএন্ডআর (বর্তমানে বিএসএমএমইউ) থেকে প্যাথলজিতে এম.ফিল ডিগ্রী অর্জন করেন। 

কর্মজীবনে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ছাড়াও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৯৮৪ সাল থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা হাসপাতালে মেডিক্যাল অফিসার এবং ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের প্রভাষক হিসেবে চাকুরী করেছেন। এরপর ১৯৯১ সালেই তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী হিসেবে অধ্যায়ন শুরু ও ১৯৯৪ সালে এম.ফিল ডিগ্রি অর্জন করার পর তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং পরবর্তী সময়ে প্যাথলজি বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে অধ্যাপনায় নিজেকে যুক্ত রেখে চিকিৎসা শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। 

প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী, রাজনৈতিক বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ছাএ সভার অন্যতম উদ্যোক্তার ভূমিকা পালন করেন। ৩০ এপ্রিল, ২০০৫, ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে দেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল রাজনৈতিক দলকে জননেএী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। 

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ‘জাতীয় প্রেস ক্লাব’-এর সম্মুখে ‘নাগরিক মঞ্চ’ গঠনের উদ্যোক্তা এবং ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

দৃঢ় সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বিভিন্ন পেশাজীবীদের সম্মিলিত সংগঠন পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব, পরিকল্পনাকারী, উদ্যোক্তা ও সংগঠক এবং বর্তমানে তিনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ সংগঠনটির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৯৯৭ সাল থেকে আইপিজিএমএন্ডআর এবং এর পরবর্তী সময় থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য-এর দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক-এর দায়িত্ব পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবীত ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের আজীবন সদস্য। তিনি বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)’র দুইবার বিএমএ’র নির্বাচিত কেন্দ্রীয় সদস্য, দুইবার নির্বাচিত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক-এর দায়িত্ব পালন এবং ২০০২ সালে বিএমএ-এর নির্বাচনে কেন্দ্রীয় মহাসচিব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং বর্তমানে কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি। অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সাবেক সভাপতি (২ বার) এবং ১৯৮৫ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফিজিসিয়ান্স ফর দ্যা প্রিভেনশন অফ নিউক্লিয়ার ওয়্যার (আইপিপিএনডব্লিউ)-এর বোর্ড সদস্য, আন্তর্জাতিক কাউন্সিলর এবং এই সংগঠনের দক্ষিণ এশিয়া অংশের নির্বাচিত সহ-সভাপতি হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। বৈচিএ্যময় জীবনের অধিকারী অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বিসিএস কেন্দ্রীয় সমন্বয় পরিষদের (২৬ ক্যাডার)-এর সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র কেন্দ্রীয় কার্যকর পরিষদের সাবেক সদস্য, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ ও চিকিৎসকদের সংগঠন প্রকৃচির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য, কেন্দ্রীয় ইন-সার্ভিস ট্রেনি চিকিৎসক পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক, সন্ধানীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, আজীবন কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ঘটনাবহুল জীবনের অধিকারী অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান ফিজিশিয়ান ফর সোস্যাল রেসপনসিবল (পিএসআর), বাংলাদেশ-এর সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। 

গুণী চিকিৎসক, দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খানের ৪০টিরও বেশি স্বাস্থ্য, রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিভিন্ন প্রবন্ধ, নিবন্ধ দেশী-বিদেশী জার্নাল ও স্বনামধ্যন্য জাতীয় দৈনিক সংবাদপএে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর `Effects Of Topical Application of Ethylene Glycol on Rats’ শিরোনামে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা রয়েছে। অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান প্রায় অর্ধশত আন্তর্জাতিক সেমিনার ও কনফারেন্সে অংশ নিয়েছেন। তিনি জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি প্রণয়নে বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশনের প্রস্তাবনা কমিটির অন্যতম সদস্য, বিএমএ’র Health Man Power Planning Committee--এর চেয়ারম্যান। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়-এর অন্যতম প্রস্তাবক, আইন ১৯৯৮-এর বিএমএ’র খসড়া প্রস্তাবের অন্যতম রচয়িতা হিসেবে দায়িত্ব পালনসহ ইত্যাদি কার্যক্রমের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখাসহ মানবসেবায় অবদান রেখে চলছেন।

তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এডুকেশন লিডারশিপে ভূষিত হয়েছেন এবং ২০১৭ সালে নরওয়ের অসলোতে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অংশীদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন। 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত