২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১১:২২ এএম

রংপুর সদর হাসপাতালে পুনরায় সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা চালুর দাবি

রংপুর সদর হাসপাতালে পুনরায় সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা চালুর দাবি

প্রায় ৪২ বছর ধরে বন্ধ রংপুর সদর হাসপাতালের সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা। রংপুরবাসী দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনভাবে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি জানিয়ে আসছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে—১৯৭৬ সালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চালু হওয়ার পর রংপুর সদর হাসপাতালে সাধারণ স্বাস্থ্য সেবার স্বাভাবিক কার্যক্রম অজানা কারণে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এই পরিত্যক্ত হাসপাতাল ভবনের দোতলায় সিভিল সার্জনের কনফারেন্স রুম ও কন্ট্রোল রুমের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া নিচ তলায় রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর জন্য জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপনায় খাবার স্যালাইন তৈরি এবং সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্তমানে নামমাত্র বিভিন্ন সংক্রামক রোগীদের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজের সংক্রামক ব্যাধি ওয়ার্ড হিসেবে চালু রাখা হয়েছে। তবে এখানে রোগী ভর্তি করতে হলে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে চরম ভোগান্তির মধ্যে রোগীর নাম লিখে নিয়ে এসে ভর্তি করতে হয়। এরপর মেলে চিকিৎসা সেবা।

এখানে ডায়রিয়া, কলেরা, টিটেনাস, বসন্ত, হাম, ডিপথেরিয়া ও জলাতঙ্ক রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে বয়সের ভারে জরাজীর্ণ এই ভবনটি এখন নিজেই সংক্রামক রোগীতে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি এলেই গোটা ওয়ার্ডজুড়ে ছাদ বেয়ে অঝোড় ধারায় পানি পড়ে মেঝে ভেসে যায়। বৃষ্টির পানিতে ওয়ার্ডের সামনের অংশে কাদা পানিতে একাকার হয়ে যায়। বাথরুমে পানি পাওয়া যায় না। দুরাবস্থার জন্য ৩/৪ জনের বেশি রোগী এখানে থাকে না। কর্তব্যরত ডাক্তার-নার্সরা অতি কষ্টে দায়সারা দায়িত্ব পালন করে চলে যান। সদর হাসপাতালের সংক্রামক ওয়ার্ডটির দূরাবস্থা সরেজমিন একাধিকবার পরির্দশন করে গেছেন জেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত জাতীয় পার্টির (এ) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। তবে দুর্ভোগের কোন পরিবর্তন হয়নি।

রংপুর সদর হাসপাতালের বিশাল ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশে বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়, স্বাস্থ্য বিভাগের র্কমচারীদের জরাজীর্ণ আবাসিক ব্যবস্থা, জেলা স্বাস্থ্য রক্ষণাবেক্ষণনাগার, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস, জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর অফিস, মাতৃমঙ্গল কেন্দ্র এবং ইপিআই কেন্দ্রের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। ক্যাম্পাসের পশ্চিম প্রান্তে নতুন তিন তলা ভবনে মাতৃমঙ্গল কেন্দ্রে মা ও শিশুদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। প্রসূতি মায়েদের নিরাপদ সন্তান প্রসবের লক্ষ্যে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য এখানে অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটারের সুবিধাও রয়েছে। রয়েছে অভিজ্ঞ মহিলা সার্জনও। এ ছাড়া, হাসপাতাল চত্বরের দক্ষিণ-পূর্বের কিছু অংশজুড়ে সুইপার কলোনি গড়ে উঠেছে। এই সুইপার কলোনি ঘিরে মাদক কারবারের শক্তিশালি আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে খুনের ঘটনাও ঘটেছে একাধিক। চারিদিকের সীমানা প্রাচীর বিভিন্ন অংশে ভেঙে গিয়ে এটি এখন অরক্ষিত এবং চরম নিরাপত্তাহীন ক্যাম্পাসে পরিণত হয়েছে। রাতের আঁধার নেমে এলেই এই ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে ছিনতাইকারী আর মাদকসেবীদের অভায়ারণ্য। দিনের বেলা এটিকে চারণভূমির মতোই মনে হয়।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. অজয় কুমার সাহা বলেন, ‘রংপুর সদর হাসপাতালে সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা চালুর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার পত্র দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, উক্ত চত্বরে অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।’

ইত্তেফাক

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত