ঢাকা      বৃহস্পতিবার ২২, অগাস্ট ২০১৯ - ৭, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী

অজ্ঞাত রোগে ২ উপজাতি শিশুর মৃত্যু : আক্রান্ত ৩৫

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে কমপক্ষে ৩৫টি শিশু অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। উপজেলা সদর ইউনিয়নের মধ্যম তালবাড়িয়া উপজাতিপাড়ার প্রায় প্রতিটি ঘরে এ রোগ দেখা দিয়েছে। ওই রোগে আক্রান্ত হয়ে গত বুধবার দুলিরাং ত্রিপুরা (৪) ও গত রোববার জীবন ত্রিপুরা (৮) নামে উপজাতি দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 


এ দিকে রোগে আক্রান্ত শিশুদের অনেক চেষ্টা করেও চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য সহকারী হোসনে আরা মীর। স্থানীয় উপজাতিরা ওই রোগকে জলবসন্ত বললেও স্থানীয় সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক নাছিমা আক্তার এটিকে হাম বলে ধারণা করছেন। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক নাজমা খানম, নাছিমা আক্তার, কাজী সাইফুল ইসলাম, জিয়াউল হক খান ও মাতৃকা হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা: জামসেদ আলম উপজাতিপাড়ায় গিয়ে হামে আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে নিতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।


গতকাল শুক্রবার আক্রান্ত ১৪ উপজাতি শিশুকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্থানীয় স্বাস্থ্য সহকারী কাজী সাইফুল ইসলাম জানান, রোগে আক্রান্ত উপজাতি শিশুদের নিয়ে তাদের অভিভাবকেরা কোনোভাবে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে রাজি নন। এরপরও তাদের অনেক বুঝিয়ে ১৪টি শিশুকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।


উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ থেকে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার সকালে স্বপ্না ত্রিপুরা, যুথীকা ত্রিপুরা, হামিবাল ত্রিপুরা, নির্মল ত্রিপুরা, মুঝিরিং ত্রিপুরা, মনিবালা ত্রিপুরা, রিমলক্ষী ত্রিপুরা, মিলনমালা ত্রিপুরা, মালা ত্রিপুরা, পলি ত্রিপুরা, সুজন ত্রিপুরা, শিল্পী ত্রিপুরা, ঝিনুক ত্রিপুরা ও সিমল কুমার ত্রিপুরাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। 


হামে মৃত্যু হওয়া দুলিরাং ত্রিপুরার মা সুস্মিতা ত্রিপুরা জানান, ১৫ দিন আগে তার মেয়ের প্রচণ্ড জ্বর ও কাশি শুরু হয়। দুই দিন পর থেকে গায়ে গুঁটিগুঁটি ঘামাচির মতো দেখা দেয়। জ্বর বাড়ার সাথে সাথে বমি ও পাতলা পায়খানা হতে থাকে। এ সময় দুলিরাংকে পল্লী চিকিৎসক থেকে চিকিৎসা করানো হয়। গত বুধবার সকালে অবস্থা বেশি খারাপ হলেও তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে সে মারা যায়। একইভাবে জীবন ত্রিপুরাও মারা যায় বলে জানান তার লক্ষণ ত্রিপুরা। 


পাড়া সর্দার সুরেশ ত্রিপুরা জানান, বর্তমানে পাড়ায়  প্রায় ৩০-৩৫টি শিশু এ রোগে আক্রান্ত রয়েছে। 


সরেজমিন দেখা গেছে, শিশুদের সারা গায়ে ঘামাচির মতো উঠেছে। অনেকের ঠোঁট ও কানের কাছে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যেক শিশুর গায়ে জ্বর ও কাশি রয়েছে। দুই তিনদিন পর জ্বর বাড়তে থাকে এবং শিশুদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। রোগে আক্রান্ত আঁখির মা নয়নবালা জানান, তার মেয়েকে স্থানীয় ডাক্তার থেকে হোমিও ওষুধ খাওয়াচ্ছেন। সে এখন অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছে। 

স্বাস্থ্য সহকারী সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুদের টিকা দিতে উপজাতি অভিভাবকদের প্রচণ্ড অনীহা রয়েছে। তারা অনেকটা জোর করে আক্রান্ত শিশুদের টিকা দেন। তবে বর্তমানে যারা জ্বরসহ রোগে আক্রান্ত তাদের অনেককে কোনো ধরনের টিকা অতীতে দেয়া হয়নি।


উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো: নুরুল আফছার জানান, উপজাতি শিশুরা কি রোগে আক্রান্ত তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বলা সম্ভব নয়। আক্রান্ত শিশুদের রক্তসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছেন তারা।

নয়াদিগন্ত

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ব্যথাবিলাস ও আমাদের ব্যথাসহনীয়া ট্যাবু

ব্যথাবিলাস ও আমাদের ব্যথাসহনীয়া ট্যাবু

ব্যথা নিয়ে আমার নিজের মাথাব্যথা কম। আমার নিজের পেইন থ্রেসল্ড খুবই বেশী।…













জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর