বুধবার ২১, ফেব্রুয়ারী ২০১৮ - ৯, ফাল্গুন, ১৪২৪ - হিজরী



ডা. সানাউল হক রিপন

চিকিৎসক, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল


একজন ডাক্তার কখন অসহায়?

পারাবত এক্সপ্রেস এ ঢাকা থেকে সিলেট যাচ্ছি ফ্যামিলি ট্যুরে হঠাৎ কয়েক সিট পিছনে হৈচৈ শুরু হলে কিছু বুঝে উঠার আগেই দেখি কেউ একজন চেন টেনে ট্রেন থামানোর চেষ্টা করছে কিন্তু সফল হচ্ছে না। তখন পিছনে গিয়ে দেখি একজনের কান দিয়ে রক্ত পড়ছে আর সে ছটফট করছে, ভাবলাম বাহির থেকে কেউ বুঝি ঢিল দিয়েছে আর তাতেই এই অবস্থা কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম তার কানে কিছু একটা ঢুকেছে। কিন্তু কি ঢুকেছে তা বলতে পারছে না। ট্রেন তখন যে জায়গায় ছিল সেখানে থামালেও কোন লাভ হত না। তাই রেলওয়ে পুলিশের সহায়তা নিয়েও ট্রেন থামানো গেল না।

এতক্ষণে তাকে ঘিরে উৎসুক জনতার ভিড় বেড়ে গেছে। ভিড় ঠেলে সামনে গিয়ে দেখি লোকটা আল্লাহকে ডাকছে আর দুই হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে ছটফট করছে। কেউ তাকে সাহায্য করতে পারছে না। পারবে কি ভাবে তার যে অবস্থা (কান দিয়ে রক্ত পড়ছে) তাতে একজন ডাক্তার হয়ে আপনি অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে আছেন! আপনি বলতেও পারছেন না আমি ডাক্তার আমাকে একটু দেখতে দিন যখন আপনি জানেন এমতাবস্থায় আপনার কিছুই করার নাই। বিষয়য়টা আপনার জন্য আরও বেদনাদায়ক যখন আপনি সদ্য নাক, কান, গলা বিভাগে এম.এস কোর্সে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছেন। কি যে এক অসহায় অবস্থা আমার তখন বলে বোঝানো যাবে না।

কিন্তু আর চুপ করে থাকতে পারলাম না, আসলে লোকটার অবস্থা চুপ করে থাকতে দিল না। হঠাৎ ভিতর থেকে একটা শক্তি অনুভব করলাম। যা হয় হবে। মহান আল্লারর উপর সম্পূর্ণ ভরসা করে চলন্ত ট্রেনে একটা কটন বাড আর মোবাইলের আলো দিয়ে কিছুক্ষণ চেষ্টা করার পর কান থেকে যা বের হলো তা দেখে সবার চোখ কপালে। এটা একটা জ্যান্ত মৌমাছি! আল্লাহ মহান। উপস্থিত সকলের মধ্যে একটা স্বস্থির হাওয়া বয়ে গেল।

তার মধ্যে একজন বলে উঠলো ভাই আপনি কি ডাক্তার? জি ভাই আমি ডাক্তার কথাটা বলতে তখন অন্যরকম একটা ভালোলাগা, একটা সুখানুভুতি দোলা দিয়ে গেল। যখন রাতের বেলা রুগী ফোন দিয়ে বলে আপনার নামে কিছু টাকা দান করেছে তখন ভালো লাগাটা আরও বেড়ে যায়। লোকটার নাম আ.সাত্তার। (সাত্তার ভাই পরের দিন আমাদের সাথে দেখা করে আমাদের সবাইকে নিয়ে একসাথে দুপুরের খাবারও খেয়েছে)।

ধন্যবাদ আমার ভাগ্নি সিফাত এবং ভগ্নিপতি সিরাজ ভাইকে কটন বাড ও ওষুধের জন্য।

প্রতিনিয়ত এমনি অনেক অসহায় অবস্থার মধ্যে দিয়ে আমাদের কাজ করতে হয় যখন সৃষ্টিকর্তাই একমাত্র সহায়।

বি.দ্র.-বাস অথবা ট্রেনে যারা যাতায়াত করেন একটু সাবধান।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 



পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ-কে নিয়ে আবেগঘন লেখা পোস্ট দিয়েছেন তাঁর ছেলে…

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না

বুধবার রাত ১১ টা। হঠাৎ করে হাসপাতালের সিসিইউ রুমের গেটের দিকে শোরগোল।…

আজিজুল কাহহার স্যারের শেষ কর্মদিবসের কথা

আজিজুল কাহহার স্যারের শেষ কর্মদিবসের কথা

রাউন্ড শেষে জানতে পারি, প্রফেসর আজিজুল কাহহার স্যার এর শেষ কর্মদিবস আজ…

পিতৃতুল্য দরদী শিক্ষক প্রফেসর ডা. মাহবুব

পিতৃতুল্য দরদী শিক্ষক প্রফেসর ডা. মাহবুব

- ' হ ..... !  তুই ই তো প্রফেসর মাহবুব ! দেখ্…

নাপিতের ক্ষুর/ব্লেড থেকে ছড়াতে পারে হেপাটাইটিসের ভয়াবহ জীবাণু

নাপিতের ক্ষুর/ব্লেড থেকে ছড়াতে পারে হেপাটাইটিসের ভয়াবহ জীবাণু

আপনাদের কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় বিরক্তিকর কাজ কি, সেটা আমি জানি না,…

অধ্যাপক ডা. মনসুর হাবীব : স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে চিনলাম যাকে

অধ্যাপক ডা. মনসুর হাবীব : স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে চিনলাম যাকে

আজ আপনাদের একটি গল্প শুনাবো। প্রতিদিনের পরিচিত হতাশার গল্পের ভিড়ে আপনাদের কাছে হয়তো…












জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর