ঢাকা      মঙ্গলবার ১৬, জুলাই ২০১৯ - ১, শ্রাবণ, ১৪২৬ - হিজরী



আলাভী মাশিয়াত নবনী

এনাম মেডিকেল কলেজ


অস্ত্রহীন সৈনিক

বাইরে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার মত হাওয়া, মাতাল বাতাস যেন দিগ্বিদিক শূন্য হয়ে শিস কেটে যাচ্ছে অনবরত। ঘরের ভেতরে মোমবাতির নিভু নিভু আলো। বাইরের তান্ডবে যেন স্থির নয় সেও। দেয়ালে আলোর নাচন, অদ্ভুত এক পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। না চাইলেও যেন গায়ে কাটা দেয়। মোমবাতির সামনে মলিন মুখে বসে আছে কলিন্স। বড় বড় বাদামী চোখে আতংক নিয়ে তাকিয়ে আছে মোমবাতির শিখার দিকে। আজ রাতের শেষ সম্বল এই বাতিটা। এটা শেষ হয়ে গেলে আজকে রাতে আর আলো জ্বলবে না ঘরে। ইশ! বড্ড ভুল হয়ে গেল, ভাবতে ভাবতে অভিমানের ছায়া পরল কলিন্সের মুখে। কিসের অভিমান? জীবনের মাত্র ১৩ টা বসন্ত পার করে এসেছে সে। কিন্তু কয়েকটা বছরেই প্রকৃতির এমন নির্মম নিষ্ঠুরতা যেন স্তব্ধ করে দিয়েছে তাকে।মাত্র কদিন আগে নিজের দু'বছরের বড় বোনটাকে সেদিন সমাধিস্থ করল। সেদিন শেষ নি:শ্বাস ত্যাগের আগে তার কথাটা আজও কানে বাজে, "আমাদের এই অবস্থার জন্য আমরাই দায়ী ভাই। এক সময়ের কিছু অবিবেচক মানুষের ভুলভাল কাজের মাশুল হিসেবে আজ আমাদের একে একে যোগ দিতে হচ্ছে মৃত্যুর মিছিলে।"

আজ থেকে পাঁচশ বছর আগের কথা। তখনকার পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা ঠিক এমন এক সময়ের আশংকাই করেছিলেন। চিকিৎসকেরা ব্যাকুল হয়ে মানুষজনকে বোঝানোর চেষ্টা করতেন। কিন্তু মূর্খ মানুষেরা বুঝে নি তা। মুড়ির মত ঔষুধ খেত তারা। একটু দু'দিনের জ্বরেও যেন অ্যান্টিবায়োটিক না খেলে চলছিল না। একবার পেট ব্যথা করে বাথরুম হলেই খেয়ে নিত ঔষুধ। এই ঔষধগুলো চিকিৎসক প্রেস্ক্রাইব না করলে খাওয়া একদম ই নিষেধ ছিল। কিন্তু কে আর কথা শুনে? কেউ কেউ আবার করত অন্য রকমের অবহেলা। দেখা যেত, ডাক্তার বলার পরেই তারা ঔষধ সেবন করছে, কিন্তু নিয়মমাফিক নয়। এই ঔষধগুলো খেতে হয় নিয়মানুযায়ী, নির্দিষ্ট কোর্স হিসেবে। কোর্সের একটা ঔষধও বাদ দেয়া উচিত না। এই কথাগুলো বারবার বলা সত্ত্বেও মানুষ থোড়াই কেয়ার করত। আর তার পরিণাম আজকের এই মৃত্যুধারা।

একসময়ের পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় বিদ্যা চিকিৎসা শাস্ত্র অধ্যয়নে আজকাল আর কেউ উৎসাহী নয়। হবেই বা কী করে? চিকিৎসকের পরম আরাধ্য হল রোগীর সুস্থতা। কিন্তু আজ সামান্য সর্দি-কাশিতেই পিঁপড়ার সারির মত মানুষ মারা যাচ্ছে। এই চিকিৎসা বিজ্ঞানের এককালীন অগ্রগতি ছিল বিস্ময়কর। যত উন্নয়ন যত অগ্রগামীতা সব করা হয়েছিল মানবজাতির উন্নয়নের স্বার্থে। আজ সেই মানবজাতি এক ব্যাকটেরিয়া নামক অণুজীবের কাছে অসহায় হয়ে ধীরে ধীরে নি:শেষ হয়ে যাচ্ছে। কী লাভ হল মাঝখানের এত পরিশ্রমের, এত জ্ঞান সাধনার?বাইরের উজ্জ্বল রোদে বেরিয়ে যেন কিছুটা স্বস্তি পেল কলিন্স। এখন অনেক কাজ। মোমবাতি নিতে হবে, খাবার নিতে হবে। তুষারপাত থেমেছে। কিন্তু আবহাওয়ার বিশ্বাস নেই। প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি যত মজুদ করে রাখা যায় ততই ভালো। কিন্তু, ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের দিকে তাকিয়ে থমকে গেল সে। ঘড়ির দিকে তাকালো, হ্যা, ঠিক ই তো এগারোটা বাজে। বেশ বেলা হয়ে গেল। এত বেলা পর্যন্ত তো এই দোকান বন্ধ থাকে না। কিছুটা বিস্ময় আর দ্বিধা নিয়েই এগোলো সামনের দিকে। আরও কাছে যেতেই পাশের এক দোকানী ডাক দিল তাকে। বলল, "তুমি যার খোঁজে এসেছো, সে গত পরশুদিন তিনদিনের জ্বরে মারা গিয়েছে। ডাক্তারের কাছে গিয়েছিল, ডাক্তার কোন ঔষধ দিতে পারে নি।"

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণ: আমার দেখা একটি বিভৎস ঘটনা

শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণ: আমার দেখা একটি বিভৎস ঘটনা

শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণ কাজ করাকে পেডোফেলিয়া বলে। আর যাদের এই আকর্ষণ…

মেডিকেল সায়েন্স গবেষণায় ইরানের এগিয়ে চলার গল্প 

মেডিকেল সায়েন্স গবেষণায় ইরানের এগিয়ে চলার গল্প 

যতদিন যাচ্ছে ইরানের মেডিকেল সায়েন্স গবেষণায় যুক্ত হচ্ছে অভূতপূর্ব সব অবিষ্কার। বিশ্ব…

বিদেশে চিকিৎসা: শোনা কথায় কান দিবেন না

বিদেশে চিকিৎসা: শোনা কথায় কান দিবেন না

যখন গাইনী আউটডোরে চাকরি করি তখন এক জুনিয়র এসে বলল "আপু তোমরা abnormal…

সাইমন্ড্স ডিজিজ রোগ ও তার প্রতিকার

সাইমন্ড্স ডিজিজ রোগ ও তার প্রতিকার

আমাদের মাথার ভেতরে পিটুইটারি গ্রন্থির অবস্থান। পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নানা রকম হরমোন…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর