ডা. আইরিন পারভীন আলম

ডা. আইরিন পারভীন আলম

সহকারী অধ্যাপক (গাইনী)

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপতাল, ঢাকা


০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১২:১৩ পিএম

জরায়ুর মুখের ক্যান্সার ও সচেতনতা

জরায়ুর মুখের ক্যান্সার ও সচেতনতা

মহিলাদের গর্ভধারণের জায়গাটির নাম জরায়ু এবং বাচ্চা বের হবার পথকে জরায়ুর মুখ বলে। জরায়ুর মুখের ক্যান্সার উন্নয়নশীল দেশ বিশেষ করে বাংলাদেশের মহিলাদের অন্যতম ক্যান্সার। এদেশে প্রতি বছর ১২০০০ মহিলা নতুন করে জরায়ুর মুখের ক্যান্সার-এ আক্রান্ত হয়। অনেক কারণে এই জরায়ুর মুখের ক্যান্সার হতে পারে। তবে হিউম্যান পেপীলোমা ভাইরাস নামক জীবাণুকে আজকাল এই রোগের জন্য বেশি দায়ী করা হয়ে থাকে।

কাদের জরায়ুর মুখের:

ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা বেশি

অল্প বয়সে বিয়ে, ঘন ঘন সন্তান প্রসব, অল্প বয়সে বার যৌনমিলন, নিজের বা স্বামীর একাধিক বিয়ে ইত্যাদি নানা কারণে জরায়ুর মুখের ক্যান্সার এর সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আমাদের দেশে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর, কিন্তু অনেক অভিভাবক এ নিয়ম মোটেই মানছেন না। এসব মেয়েরা জরায়ু-মুখের কোষগুলো পূর্ণ হবার আগেই স্বামী-স্ত্রীর মিলনে অভ্যস্ত হন এবং যার ফলশ্রুতিতে কোষে ইনফেকশন ও ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

রোগের লক্ষণ: প্রাথমিক অবস্থায় দুর্গন্ধযুক্ত সাদা স্রাব, রক্ত মিশ্রিত স্রাব, স্বামী সহবাসের পর রক্ত যাওয়া ইত্যাদি হতে পারে, তবে শেষের দিকে প্রস্রাব-পায়খানা করতে সমস্যা, পিঠে ব্যথা,কোমর ব্যথা, শরীর ফুলে যাওয়া ও রক্ত শূন্যতা ইত্যাদি হতে পারে।

চিকিৎসা: চিকিৎসক রোগের লক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগের অবস্থা নির্ণয় করে সে অনুযায়ী চিকিৎসা করেন। প্রাথমিক অবস্থা ধরা পড়লে অপারেশন করা সম্ভব হয় না, তখন রেডিওথেরাপি বা কেমোথেরাপি দেয়া হয়।

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট: আমাদের দেশের রোগীদের সচেতনতার অভাবে বেশিরভাগ ক্যান্সার ধরা পড়ে একেবারে শেষ পর্যায়ে। তখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কিছু করার থাকেনা। এজন্য এ রোগের প্রতিরোধ করা জরুরি।

কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়: জরায়ুর মুখের ক্যান্সার একদিনে হয় না। জরায়ু মুখের কোষগুলো বিভিন্ন কারণে পরিবর্তিত হয়ে ক্যান্সার হতে ১০-১৫ বছর সময় লাগে। ভায়া, পেপ স্মেয়ার এসব পরীক্ষার মাধ্যমে জরায়ুর মুখের ক্যান্সারপূর্ব অবস্থা সনাক্ত করা সম্ভব। উন্নত দেশে জরায়ুর মুখ নিয়মিত পরীক্ষা করা হয় এবং এ জন্য প্রাথমিক অবস্থাতে সমস্যাটি ধরা পড়ে। তখন চিকিৎসার দ্বারা প্রায় শতভাগ রোগী ভাল হয়ে যায়।

কোথায় জরায়ু মুখ পরীক্ষা করা হয়:

জেলা সদর হাসপাতাল, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এবং নির্বাচিত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, সকল সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা শহরের কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে জরায়ু মুখ পরীক্ষা করা হয়।

কাদের জরায়ু মুখ পরীক্ষা করা প্রয়োজন: মহিলাদের বয়স ৩০ এর বেশি হলেই জরায়ু মুখ অবশ্যই পরীক্ষা করাতে হবে। ১৮ বছরের পূর্বে বিবাহিত মহিলাদের ক্ষেত্রে ২৫ বছর হলেই জরায়ু মুখ পরীক্ষা করাতে হবে। ভায়া পরীক্ষায় সন্দেহজনক জরায়ুর মুখের ক্যান্সারপূর্ব অবস্থা ধরা পড়লে তখন আরও উন্নত পরীক্ষা যেমন- কলপোসকপির মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা হয়। সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে জরায়ুর মুখের ক্যান্সারপূর্ব অবস্থার চিকিত্সা করা হয়ে থাকে। এই চিকিৎসায় রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে থাকার প্রয়োজন হয় না এবং রোগী দিনে দিনে বাড়ি ফিরে যেতে পারে।

বাংলাদেশে ক্যান্সার আক্রান্ত মহিলাদের শতকরা ৩০ ভাগই জরায়ুর মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত। আসুন আমরা সচেতন হয়ে জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ করি।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে