ঢাকা      শুক্রবার ২১, সেপ্টেম্বর ২০১৮ - ৫, আশ্বিন, ১৪২৫ - হিজরী

আবাসিকে কারখানা শব্দদূষণে ভোগান্তি

রাজধানীজুড়ে আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় অবৈধভাবে ওয়ার্কশপ ও গাড়ি মেরামত কারখানা গড়ে উঠেছে। গ্যাসের অবৈধ সংযোগ দিয়ে প্রকাশ্যে গাড়ি মেরামতের কাজ করা হচ্ছে। যত্রতত্র ওয়ার্কশপে লোহা ও স্টিলের সামগ্রী তৈরির ফলে ভয়াবহ শব্দদূষণ বেড়েছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী যেখানে ইচ্ছে সেখানেই গড়ে তুলছেন ওয়ার্কশপ। ফলে শব্দদূষণে ঘুম হারাম অনেক আবাসিক এলাকার বাসিন্দার। এমনকি বাণিজ্যিক এলাকায়ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অতিষ্ঠ লোকজন। শব্দদূষণ ও ওয়ার্কশপ স্থাপনের নীতিমালা থাকলেও বাস্তবে প্রয়োগ নেই কোনটির।

শব্দদূষণ নীতিমালা অনুযায়ী, আবাসিক এলাকায় সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ শব্দসীমা হলো ৫৫ ডেসিবেল এবং রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ৪৫ ডেসিবেল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ৬০ ডেসিবেল শব্দে মানুষের সাময়িক শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে। আর ১০০ ডেসিবেল শব্দে চিরতরে শ্রবণশক্তি হারাতে পারে। ঢাকার বেশির ভাগ এলাকায় এখন শব্দের সার্বক্ষণিক গড় মাত্রা ১০০ ডেসিবেল। তবে ওয়ার্কশপে শব্দদূষণের মাত্রা ১১০ ডেসিবেলেরও বেশি।

বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের মতে, শব্দদূষণের প্রভাবে হত্যা, হার্টের অসুখ, করোনারি থ্রম্বেসিস, গ্যাসট্রিক, আলসার, বধিরতা, মাইগ্রেন, নিদ্রাহীনতা, মানসিক বিপর্যয়, উচ্চ রক্তচাপ, স্নায়বিক অস্থিরতা ইত্যাদি রোগে মানুষ আক্রান্ত হয়। বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় শব্দদূষণ এক নীরব ঘাতকে পরিণত হয়েছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, শব্দদূষণের ভয়াবহতার কারণে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ঢাকার মোট জনসংখ্যার তিন ভাগের এক ভাগ কানে কম শুনবে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, রাজধানীর ফ্রি স্কুল স্টেট আবাসিক এলাকায়ই অর্ধশতাধিক ওয়ার্কশপ কারখানা গড়ে উঠেছে। সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বিরামহীন চলে কাজ। নানা ধরনের কাজের শব্দে এলাকার বাসিন্দারা অতিষ্ঠ।

একই অবস্থা রাজধানীর বিজয়নগর এলাকার। রাজধানীর ব্যস্ততম এ এলাকার বিজয়নগর পানির ট্যাংকি ও জাতীয় বধির ভবনের পাশের সড়কের দুই পাশে শত শত গাড়ি মেরামতের দোকান। দেশে যেখানে গ্যাসের সংকট বিরাজ করছে, সেখানে বিজয়নগরের এসব গাড়ি মেরামতের দোকানে প্রকাশ্যে অবৈধ গ্যাসের ব্যবহার করছে। আইন অনুযায়ী এসব কাজ মধ্যরাতে করার কথা থাকলেও তা মানছেন না মালিকরা।

এ ছাড়া ফার্মগেট ও পুরান ঢাকাসহ বহু এলাকায় ওয়ার্কশপ রয়েছে। এসব ওয়ার্কশপের শব্দদূষণে সব বয়সী মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। এমনকি কারখানা আইনে ১৬ বছরের নিচে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তা হলেও এসব ওয়ার্কশপে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশু শ্রমিক নিয়োগ করা হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, শুধু ওয়ার্কশপেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিযুক্ত। শব্দদূষণের কারণে অধিকাংশ শ্রমিক কানে কম শোনে। ঝুঁকিপূর্ণ এ কাজের ফলে ওয়ার্কশপের অধিকাংশ শ্রমিক জন্ডিসে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন আক্রান্তরা। ক্ষতিকর রশ্মির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় চোখের। আক্রান্ত শিশু শ্রমিক ও অন্য শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

শিশু শ্রমিকরা জানায়, ওয়েল্ডিং কারখানা ও স্টিল কারখানায় কাজ করার কারণে চোখে জ্বালা-পোড়া ও যন্ত্রণা করে।  চোখে ও পায়ে ব্যথা করে। প্রায় সময় চোখ দিয়ে পানি পড়ে। সেই সঙ্গে আছে জ্বালা-যন্ত্রণা।

সূত্র: ইত্তেফাক

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে কেন আত্মহত্যা প্রবণতা?

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে কেন আত্মহত্যা প্রবণতা?

মুশফিক মাহবুব নামে ঢাকা ভার্সিটির এক ছাত্র সম্প্রতি ফেইসবুকে একটি স্টাটাস দেওয়ার…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর