৩১ জানুয়ারী, ২০১৮ ০৯:৫৯ এএম

খর্বাকৃতি কমছে না দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিশুদের

খর্বাকৃতি কমছে না দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিশুদের

দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিশুদের মধ্যে খর্বাকৃতির ঝুঁকি কমছে না। সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে পানি, স্যানিটেশন, হাইজিনসহ নিউট্রেশনাল যেসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তাতে ডায়রিয়া এবং শিশুমৃত্যুর হার কমলেও শারীরিক বৃদ্ধির ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘ল্যানসেট’ মঙ্গলবার বাংলাদেশের ওপর এ বিষয়ে করা একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেইটস ফাউন্ডেশনের সহায়তায় আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র—বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) ও যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে ওই গবেষণা পরিচালিত হয়।

ওই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা জানান, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অন্যান্য কার্যক্রমের সঙ্গে এখন সময় এসেছে শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধির দিকে আলাদা করে নজর দেওয়ার। বয়সের তুলনায় সঠিক মাত্রায় শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি না ঘটলে মনোশারীরিক নানা ঝুঁকি বেড়ে যায়। শিশুদের মেধা-মননের বিকাশে বাধার সৃষ্টি করে খর্বাকৃতি।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এপিডেমিওলজিস্ট স্টিফেন লুবির নেতৃত্বে ‘দ্য ওয়াস বেনিফিটস বাংলাদেশ ট্রায়াল’ নামে ওই গবেষণা পরিচালিত হয়, যা খাবার পানি, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, ও স্বাস্থ্যবিধিসংক্রান্ত ইন্টারভেনশনের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণে পরিচালিত গবেষণা।

আইসিডিডিআরবির এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইন্টারভেনশনের প্রধান এবং ওই গবেষণা কার্যক্রমের সহসমন্বয়কারী ডা. মাহাবুবুর রহমান জানান, গবেষণার ফলাফল অনেকটা অপ্রত্যাশিত। এতকাল ধারণা ছিল ওয়াস কার্যক্রম বা সম্পূরক খাবারের ব্যবস্থা করলে রোগ-প্রতিরোধের সঙ্গে সঙ্গে শিশুর সঠিক শারীরিক বৃদ্ধিও হয়; কিন্তু এই গবেষণায় দেখা গেছে, ওই কার্যক্রমগুলো ডায়রিয়া এবং শিশুর মৃত্যুহার কমালেও শারীরিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে না। এই পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে ভবিষ্যতে শিশুদের বাড়ির ভেতরে ও আশপাশের মল-মূত্রের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখার আরো কার্যকর উপায় খুঁজতে হবে।

তিনি আরো জানান, এখন শিখতে হবে কিভাবে ওয়াস ইন্টারভেনশনগুলোকে মা ও শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও মনোসামাজিক অন্যান্য ইন্টারভেনশনের সঙ্গে একত্রিত করে শিশুদের ওপর এর সর্বোত্তম প্রভাব নিশ্চিত করা যায়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত কয়েক দশক শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধির স্থবিরতার সঙ্গে অনুন্নত পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থাকে যুক্ত করে বিভিন্ন ধরনের  গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে; কিন্তু এই গবেষণাটি নতুন একটি পথ দেখিয়েছে। যেখানে উন্নত পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা, নিরাপদ খাবার পানি, হাত ধোয়ার যথোপযুক্ত ব্যবস্থা রয়েছে এমন সব বাড়িতে জন্মগ্রহণকারী শিশুরা অপেক্ষাকৃত দূষিত পরিবেশে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের তুলনায় লম্বা হওয়ার ক্ষেত্রে আনুপাতিক উন্নতি হয়নি।

আইসিডিডিআরবির ব্যবস্থাপক (মিডিয়া) এ কে এম তারিফুল ইসলাম খান জানান, গবেষণা থেকে পাওয়া ফলাফল অনুসারে শিশুদের বৃদ্ধির স্থবিরতাসংক্রান্ত সমস্যাটি সহজেই পানি, পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যবিধির দিকে স্বল্প গুরুত্ব আরোপ করে সংশোধন করা সহজ হবে না। পরিবেশের সীমিত উন্নতির জন্য সামান্য প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে নিম্ন আয়ের, সীমিত সম্পদের পরিবেশের শিশুদের বাঁচাতে পরিবেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটাতে হবে।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত