ঢাকা বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ২ ঘন্টা আগে
৩০ জানুয়ারী, ২০১৮ ১২:০৪

দখলে দূষণে মরছে নদী

দখলে দূষণে মরছে নদী

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় শীতলক্ষ্যা ও বানার নদী দুটি মরতে বসেছে। দখল ও দূষণের কারণে নদীগুলোর অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। এর মধ্যে উপজেলার উত্তর-পূর্ব সীমান্ত দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদ এরই মধ্যে মরে গেছে। কোথাও এমন কোনো চিহ্ন নেই, যেটা দেখে মনে হবে এখানে একদিন নদ ছিল।

সরেজমিন জানা যায়, দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় নদ-নদীগুলোর বিভিন্ন জায়গায় চর জেগে বালুচরে পরিণত হয়েছে। টোক নয়নপুর, বরমী, গোসিঙ্গা, লতিফপুর, দস্যুনারায়ণপুর, সাফাইশ্রি, চাপাত সোনারখিল, রানীগঞ্জ ও তারাগঞ্জ এলাকার অনেক স্থানে পানি কম থাকায় অনেক সময় নৌকা আটকে থাকতে দেখা যায়।

স্থানীয় কৃষক খোরশেদ আলম মোল্লা জানান, এক সময় শীতলক্ষ্যার পানিতে বোরো,  গমসহ শাকসবজি চাষাবাদ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে নদীর নাব্য হ্রাস পেয়ে পানি কমে যাওয়ায় তা সম্ভব হচ্ছে না। নদীতে পলি পড়ে চর জেগে ভরাট হয়ে সরু খালে পরিণত হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে শীতলক্ষ্যা হারিয়ে যাবে। নদীর দুই তীর ভরাট করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ড্রেজিং করা হলে শীতলক্ষ্যা তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে।

নৌকার মাঝিরা জানান, উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কিছু কিছু স্থানে ব্রহ্মপুত্র নদে অল্প পানিতে কোনোরকমে খেয়া পারাপার হচ্ছে। একই রকম পরিস্থিতি শীতলক্ষ্যা ও বানার নদীর ক্ষেত্রেও। পানি কমে যাওয়ায় তারা বর্তমানে নৌকা চালাতে পারছেন না। অনেক নৌকাই নদীতে জেগে ওঠা চরে আটকা পড়েছে। কাজ না থাকায় মাঝিরা বেকার হয়ে পড়েছেন। তারা ড্রেজিং করে নদ-নদীগুলোর অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

কাপাসিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বদু জানান, এক সময় শীতলক্ষ্যা দিয়ে নৌকা ও জাহাজে ব্যবসায়ীদের পণ্য আনা-নেওয়া করা হতো। বর্তমানে খরস্রোতা শীতলক্ষ্যা নদীর নাব্য হারানোর কারণে পণ্য পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে।

কাপাসিয়ার ইতিহাস-ঐতিহ্যের গবেষক অধ্যাপক শামসুল হুদা লিটন বলেন, বর্তমানে নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মাঝিরা অলস সময় পার করছেন। অন্যদিকে কৃষি ও ব্যবসা বাণিজ্যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে নদীগুলো ড্রেজিং শুরু করা না হলে এলাকার কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা জানান, শীতলক্ষ্যা, বানার নদী ও ব্রহ্মপুত্র নদ ড্রেজিংয়ের ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। নদীতে চর জেগে ওঠার কারণে নাব্য হ্রাস পেয়েছে। ড্রেজিং করে নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনতে হবে।

কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাকছুদুল ইসলাম জানান, সরকারিভাবে উপজেলার নদ-নদীগুলোর নাব্য ফেরাতে ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নিতে হবে।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত