ডা. এম শমশের আলী

ডা. এম শমশের আলী

সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি)

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং 

শমশের হার্ট কেয়ার এবং মুন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শ্যামলী, ঢাকা।


২৭ জানুয়ারী, ২০১৮ ১০:১৮ পিএম

দীর্ঘমেয়াদি কাশি ও হৃদরোগের সম্পর্ক

দীর্ঘমেয়াদি কাশি ও হৃদরোগের সম্পর্ক

ঘনঘন কাশিতে আক্রান্ত হওয়া ও দীর্ঘমেয়াদি শুকনো কাশির অন্যতম কারণ হৃদরোগ। যাদের দীর্ঘদিন যাবৎ উচ্চ রক্তচাপ, হৃৎপিণ্ডে ভাল্বের সমস্যা আছে এবং বাতজ্বরজনিত হৃদরোগে আক্রান্ত তাদের মধ্যে এ ধরনের কাশির প্রবণতা অধিক হারে লক্ষ করা যায়। মাইওকার্ডাইটিস এক ধরনের প্রদাহজনিত অসুস্থতা, যার ফলে শুকনো কাশি ও তার সঙ্গে জ্বর, শ্বাসকষ্ট এবং ক্ষেত্র বিশেষে হাত, পা ও মুখ ফুলে যায়, বুক ধড়ফড় করা, শ্বাসকষ্ট হওয়ার মতো লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। সাধারণভাবে ভাইরাস জ্বরের প্রভাবে মাইওকার্ডাইটিস হয়ে থাকে তবে অন্যান্য অনেক কারণে মাইওকার্ডাইটিস হতে পারে, যেমন- কিডনি ফেইলুর, যক্ষ্মা, বাতজ্বরজনিত জটিলতা ও ক্যান্সারের ক্যামোথেরাপি ও রেডিও থেরাপি ইত্যাদি। কার্ডিওমাইওপ্যাথি হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশির এক ধরনের অসুস্থতা, যার ফলে দীর্ঘমেয়াদি কাশি ও শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড়, বুকে ব্যথা হয়ে থাকে।

এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে মনে করতে হবে যে রোগীর হার্ট বেশ দুর্বল হয়ে গেছে এবং জরুরি ভিত্তিতে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। কার্ডিওমাইওপ্যাথি অনেক কারণে হতে পারে, যেমন- হৃৎপিণ্ডের রক্তপ্রবাহের স্বল্পতা বা করোনারি আর্টারি ডিজিজের (ব্লক), যারা দীর্ঘদিন যাবৎ ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন বা উচ্চ রক্তচাপজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন অথবা হৃৎপিণ্ডের ভাল্বের সমস্যায় ভুগছেন কিংবা জন্মগত হৃদরোগে ভুগছেন। এছাড়াও বার্ধক্য, বংশগত ও প্রসবকালীন অসুস্থতার ফলে কার্ডিওমায়োপ্যাথি হতে পারে।

সাধারণত হৃদরোগজনিত কাশি দীর্ঘমেয়াদি হয়ে থাকে। কফ সিরাপ বা অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ এতে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে না। কাশি শুকনো ধরনের হয়ে থাকে, কাশির সঙ্গে কফ খুব একটা বের হয় না, কখনো কখনো ফেনা ফেনা জাতীয় কফ বের হতে পারে। এ ধরনের কাশি বিশ্রামকালীনের চেয়ে পরিশ্রম করার সময় বেশি পরিলক্ষিত হয়। অনেকের রাতে বিছানায় শুতে গেলে কাশি শুরু হয়ে যায় এবং ওঠে বসে গেলে তা প্রশমন হয়। এ ধরনের কাশি বেশিদিন বিদ্যমান থাকলে রোগীর বুকে, পেটে ও পিঠে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয়।

অনেক সময় পেটে পিঠে খিল দিয়ে ধরার মতো অবস্থা হয়ে যায়। যা অত্যধিক কষ্টকর, অনেকের কাশির সময় কাপড় নষ্ট হওয়ার মতো প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়। ক্ষেত্রবিশেষে কাশির সঙ্গে রক্ত দেখা দিতে পারে। বাচ্চাদের ঘনঘন সর্দি কাশিতে আক্রান্ত হওয়া, তার সঙ্গে বয়স অনুপাতে ওজন বৃদ্ধি না পাওয়া এবং শারীরিকভাবে সমবয়সী বাচ্চাদের চেয়ে দুর্বল থাকা, জন্মগত হৃদরোগের লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। জন্মগত হৃদরোগের বেশ কয়টি ধরন আছে, তার মধ্যে হার্টে ছিদ্র থাকার প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি।

হার্টে ছিদ্র থাকার প্রভাবে শিশুদের শারীরিক লক্ষণ সব সময় একই ধরনের হয় না। কোনো কোনো শিশুর জন্মের পরপরই হৃদরোগের লক্ষণ পরিলক্ষিত হতে থাকে। আবার কারও হৃদরোগের লক্ষণ ৫০-৬০ বছর বয়সে প্রথম দেখা দিতে পারে। নির্ভর করে ছিদ্রের আকার, অবস্থান, ধরন ও শিশু পুষ্টি, স্বাস্থ্যগত পরিবেশ এবং অন্যান্য অসুস্থতার প্রভাবের ওপর। তবে যেসব শিশুর VSD.TOF-এর মতো ছিদ্র থাকে তারা শিশুকাল অথবা বাল্যবয়স থেকেই রোগের উপসর্গে ভুগতে থাকে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে