ঢাকা      মঙ্গলবার ১৭, জুলাই ২০১৮ - ১, শ্রাবণ, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. এম শমশের আলী

সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি)

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং 

শমশের হার্ট কেয়ার এবং মুন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শ্যামলী, ঢাকা।


অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন

হৃৎপিণ্ড একটি বায়োলজিক্যাল পাম্প, যাকে মেকানিক্যাল পাম্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। হৃৎপিণ্ড প্রতিবার সংকোচনের মাধ্যমে রক্তনালীতে রক্ত সঞ্চালন করে। হৃৎপিণ্ডের এ সংকোচনকেই হৃত্স্পন্দন বলা হয়। প্রতিবার হৃৎপিণ্ড সংকোচন শুরু করার আগে একটি বৈদ্যুতিক সংকেতের প্রয়োজন হয়। এই বৈদ্যুতিক সংকেত হৃৎপিণ্ডের একটি নির্দিষ্ট অংশ থেকে উৎপত্তি হয়ে থাকে যাকে পেসমেকার (Pacemaker)  বলা হয়।

অনিয়মিত হৃত্স্পন্দনের প্রকারভেদ : মূলত চার ধরনের অনিয়মিত হৃত্স্পন্দনই বেশি দেখা যায়- প্রি ম্যাচুর/ ড্রপবিট, যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এই ধরনের অনিয়মিত হৃত্স্পন্দনে নাড়িতে হঠাৎ করে একটি বিট মিস হয়ে থাকে, অনেক সময় রোগী নিজেই এটা বুঝতে পারে। এটা প্রায় সময় ক্ষতিকর বলে বিবেচিত হয় না, তবে যদি খুব বেশি ঘন ঘন হতে থাকে তাহলে এ থেকে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ হতে পারে, যেমন- দুর্বল লাগা, মাথা ঘোরা, বুক ধড়ফড় করা ইত্যাদি। এতে রোগী উৎকণ্ঠিত এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হতে পারে, অনেক সুস্থ সবল মানুষেরও এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সাধারণভাবে দুশ্চিন্তা, অত্যধিক শারীরিক ও মানসিক চাপ, খুব বেশি কায়িকশ্রম, অতিমাত্রায় চা, কফি ও সিগারেট গ্রহণের জন্য এ ধরনের হৃত্স্পন্দন দেখা দেয়।

ঝঠঞ এক ধরনের অনিয়মিত হৃত্স্পন্দন, এক্ষেত্রে হঠাৎ হৃৎপিণ্ডের গতি বৃদ্ধি পায় বা হৃৎপিণ্ড খুব দ্রুতগতিতে চলতে থাকে, রোগীর বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, অস্থিরতা, শরীর ঘেমে যাওয়া, কখনো কখনো বুকের ব্যথা অনুভূত হওয়া, এমনকি খুব মারাত্মক অবস্থায় রোগী অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে। কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই কিছুক্ষণ পর এসব উপসর্গ দূরীভূত হয়ে যায় এবং রোগী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। কখনো কখনো এ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী এবং মারাত্মক হতে পারে তখন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। যাদের এ রোগের প্রবণতা আছে তারা কিছু দিন পর পর এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। রোগীকে ঠাণ্ডা পানি খাওয়ানো, চোখে-মুখে পানির ঝাপটা দেওয়া, গলায় আঙ্গুল দিয়ে বমি করার চেষ্টা করা, দম বন্ধ করে প্রস্রাব-পায়খানার মতো জোরে কোথ দেওয়া অনেককে এ ধরনের আক্রমণ থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারে। ভ্যানট্রিকোলার অনিয়মিত হৃদস্পন্দন দু-ধরনের হয়ে থাকে। ভ্যানট্রিকোলার টেকিকার্ডিয়া, ভ্যানট্রিকোলার ফিব্রিলেশন মারাত্মক ধরনের অনিয়মিত হৃত্স্পন্দন যার ফলে মানুষ প্রায়ই মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। হার্ট অ্যাটাক এ ধরনের অনিয়মিত হৃত্স্পন্দনের অন্যতম কারণ। কখনো কখনো খুব বেশি ভয় পাওয়া ইলেকট্রিক শক, হঠাৎ কোনো দুর্যোগে পতিত হওয়ার জন্য এ ধরনের অনিয়মিত হৃত্স্পন্দন হতে পারে। এসব রোগীর হার্টের সংকোচন-প্রসারণ এত দ্রুত ও এলোমেলো হয় যে হৃৎপিণ্ড রক্ত সঞ্চালন করতে ব্যর্থ হয়, যার ফলে রোগীর খিঁচুনি হতে পারে, রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়ে, সঠিক চিকিৎসা না পেলে রোগী অল্প কয়েক মিনিটের মধ্যে মৃত্যুবরণ করে। চিকিৎসা হিসেবে রোগীকে কার্ডিয়াক ম্যাসেজ বা নিয়মিত বুকে চাপ দেওয়া তার সঙ্গে কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস নেওয়ার ব্যবস্থা করা (যাকে C.P.R বলা হয়) এবং ইলেকট্রিক শকের (ডিফিব্রিলেশন) মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। তার সঙ্গে চিকিৎসা হিসাবে ইনজেকশনের মাধ্যমে ওষুধপত্রও ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

মরণব্যাধি রোগ এমজি

মরণব্যাধি রোগ এমজি

মেডিভয়েস ডেস্ক : সতর্ক না হলে এখনকার স্বল্প পরিচিত যৌনবাহিত একটি রোগই সামনের…

ডায়রিয়া রোগীকে কখন কলেরা স্যালাইন দেয়া হয়?

ডায়রিয়া রোগীকে কখন কলেরা স্যালাইন দেয়া হয়?

কলেরা হলো এক ধরনের সিক্রেটরী ডায়রিয়া যা Vibrio cholerae নামক ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমনে হয়ে…

সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ ও চিকিৎসা

সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ ও চিকিৎসা

সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস হলো এক ধরনের বাত, যার ফলে গোত্রের ব্যথা, ফুলে যাওয়া…

গর্ভবতী মায়েদের আয়রন কেন দরকার?

গর্ভবতী মায়েদের আয়রন কেন দরকার?

গর্ভবতী এবং রক্ত স্বল্পতা খুবই কমন একটি বিষয়। শুধু আমাদের দেশ নয়,…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর