০১ জানুয়ারী, ২০১৮ ১০:৩৯ এএম

বর্জ্যে দূষণ বাড়ছে নবাবগঞ্জের ইছামতী নদীর

বর্জ্যে দূষণ বাড়ছে নবাবগঞ্জের ইছামতী নদীর

ঢাকার নবাবগঞ্জের ইছামতী নদীর তীরে নির্বিচারে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য। স্থানীয়রা বলছেন, এসব বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ ও নদীর পানি।

ইছামতী নদী বাঁচাতে ফেস্টুন, ব্যানার নিয়ে ‘ইছামতী বাঁচাও’ নামে একটি সংগঠন আন্দোলন-সংগ্রাম ও মানববন্ধন করছে। তাদের মতে, দেশের পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পরিবেশবিদেরা যদি দৃষ্টি দেন তাহলে শুধু ইছামতী নদী নয়, বেঁচে যাবে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী বুড়িগঙ্গাও।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নবাবগঞ্জে ইছামতী নদীর তীরে বেশ কিছু বেসরকারি ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। এসব ক্লিনিকের বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে। এ কারণে নদী দূষিত হয়ে পড়ছে। একসময় ঢাকা থেকে ইছামতী নদী দিয়ে নবাবগঞ্জ হয়ে পদ্মায় নৌপথে যাতায়াত করত মানুষ। কিন্তু এখন আর সেই অবস্থা নেই। নদীতে বর্জ্য ও ময়লার স্তূপ থাকায় দুর্গন্ধে পানির কাছে যাওয়া যায় না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আশির দশকে রাজধানীতে যাতায়াতের জন্য ইছামতী নদীপথে লঞ্চ ছিল এলাকাবাসীর একমাত্র বাহন। আর ব্যবসায়ীদের যাবতীয় মালামাল আনা-নেওয়া করা হতো নৌকায়। উপজেলার বান্দুরা টার্মিনাল থেকে সদরঘাট পৌঁছাতে সময় লাগত প্রায় ছয় ঘণ্টা। এরপর স্থলপথের উন্নয়নে কিছু পরিবর্তন আসে। স্থলপথে এখন দুই ঘণ্টায় ঢাকায় পৌঁছাতে পারলেও নদীপথের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী।

নদীভাঙন ও বন্যার কবল থেকে নবাবগঞ্জবাসীকে রক্ষা করতে ১৯৯৬ সালে সরকার পদ্মার মুখে কাশিয়াখালী এলাকায় বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়। সে অনুযায়ী বাঁধ নির্মিত হয়। ফলে নদীপথ বন্ধ হয়ে যায়। নদীপথ বন্ধ হওয়ায় অবহেলিত ইছামতী এখন ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। স্থানীয় ক্লিনিকসহ অসচেতন ব্যবসায়ীরা কাঁচা বাজারের ময়লা-আবর্জনা নদীতে ফেলে দেন। ক্লিনিক থেকে অস্ত্রোপচারের বর্জ্যও নদীতে ফেলা হচ্ছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, নদীমুখ বন্ধ হওয়ায় তাঁদের অনেক অসুবিধা হচ্ছে। তার মধ্যে আবার ইচ্ছাকৃতভাবে নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সরকার কাশিয়াখালী বাঁধের মুখে জলকপাট (স্লুইসগেট) নির্মাণ করে দিলে এলাকাবাসীর সুবিধা হবে। সেই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে পানি ছাড়লে কৃষিজমিগুলোতে পলি জমবে।

তারা আরো বলেন, ‘এই উপজেলায় কিছু লোক তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য ক্লিনিক নির্মাণ করে আমাদের প্রাণের ইছামতী নদী দূষণ করছে। এটা জনগণ মেনে নেবে না। প্রশাসনকে বিষয়টি তাড়াতাড়ি আমলে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে জনগণ আন্দোলন গড়ে তুলবে।’

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ক্লিনিকের বর্জ্য নদীতে না ফেলার জন্য উপজেলার সব ক্লিনিক মালিকদের বলা হয়েছে। তারপরও কেউ ফেললে খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত