ডা. কায়সার আনাম

ডা. কায়সার আনাম

মেডিকেল অফিসার

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্স অ্যান্ড হসপিটাল।


১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০২:২৮ পিএম

রোগীদের বিদেশমুখীতা কমানোর উপায়

রোগীদের বিদেশমুখীতা কমানোর উপায়

অনেক ক্যান্সার রোগী বাংলাদেশে ডাক্তারদের বিভিন্ন মতামত নিয়ে বিভ্রান্ত বোধ করেন। তাই ভারত চলে যান। এক্ষেত্রে আমাদের সিস্টেম এবং ডাক্তারদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয় বেশি। প্রায় বেশিরভাগ পরিবারে এখন ক্যান্সার রোগী থাকায় উদাহরণ সবার জানা আছে। বিষয়গুলো সবাই জানে। 
আমি এখন রোগীর ভূমিকা বোঝাতে একটা উদাহরণ শেয়ার করব।

এক মহিলার ব্রেস্ট ক্যান্সার। সব ব্রেস্ট ক্যান্সার একভাবে চিকিৎসা করা হয়না। এনার ক্ষেত্রে অপারেশন লাগবে। তবে সাথে কেমোথেরাপি লাগবে। কারো কারো অবশ্যই সার্জারির আগে কেমো দিতে হয়। ওনার ক্ষেত্রে আগে দিলেও চলবে, পরে দিলেও চলবে। 
তিনি সবার আগে গেলেন সার্জনের কাছে। সার্জন বললেন, এখনই সার্জারি করে ফেলেন। 
তিনি সেকেন্ড অপিনিয়ন নেয়ার জন্য গেলেন প্রথম অনকোলজিস্টের কাছে। অনকোলজিস্ট বললেন আগে কেমো দিতে। 
থার্ড অপিনিয়ন নেয়ার জন্য জন্য গেলেন দ্বিতীয় অনকোলজিস্টের কাছে। তিনিও বললেন, কেমো দিয়ে শুরু করতে।
ফোর্থ অপিনিয়ন নিতে গেলেন থার্ড বিদেশি অনকোলজিস্টের কাছে। তিনি বললেন সার্জারি করিয়ে কেমো নেয়ার জন্য আসতে।

এবার পেশেন্টের গার্ডিয়ান হয়ে গেলো চুড়ান্ত কনফিউজড। সে বিদেশি ডাক্তারকে বলল, ভারতে যাবার কথা লিখে রেফার করে দিতে।

যা হয়েছে তা বললাম। এবার যা হবে তা বলি।
ভারতে তিনি পাঁচটা সেন্টারে যাবেননা। গেলে সেখানেও হয়তো বিভিন্ন মতামত পেতেন (যার সবগুলোই ঠিক)। কিন্তু তিনি যাবেন শুধু একটা সেন্টারে। কারণ ওখানে পাঁচটা সেন্টারে ঘোরা ছেলের হাতের মোয়া না। সেই একটা সেন্টার শুধু একটা সিদ্ধান্ত দিবে। সেই একটা সিদ্ধান্ত অনু্যায়ীই চিকিৎসা হবে।

সিদ্ধান্তটা কি হবে সেটাও বলে দিই। আগে সার্জারি হবে। তারপর কেমো নেয়ার জন্য চিঠি লিখে দেশে পাঠিয়ে দিবে। এই সিদ্ধান্ত তারা রোগ বিবেচনা করে করবেনা। রোগী বাংলাদেশী - এই বিবেচনায় করবে। যেহেতু রোগী কেমো নেয়ার জন্য কয়েক মাস সেখানে থাকবেনা, তাই তারা আগে অপারেশন করে ফেলবে।

তারপর রোগী দেশে ফিরে আসবে। মন্তব্য হবে- বাংলাদেশে একেক ডাক্তার একেক কথা বলে। এখানে চিকিৎসা করলে তো সব গোল্লায় যেত!
এই সমস্যা আশু সমাধানের কোন সহজ উপায় নেই।
তবে একটা বিতর্কিত উপায় থাকতে পারে। ভারতের মতো এখানেও মাল্টিপল কনসালট্যান্টের কাছে রোগীর ইজি অ্যাক্সেস কমাতে হবে। তাহলে কনফিউশন কমতে পারে।

আরেকটা উপায়- অনকোলজিস্ট, রেডিওলজিস্ট, সার্জন, প্যাথোলজিস্ট, অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট এর সমন্বয়ে বোর্ড ছাড়া কোন ক্যান্সার চিকিৎসার সিদ্ধান্ত না দেয়া।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত