রবিবার ১৭, ডিসেম্বর ২০১৭ - ২, পৌষ, ১৪২৪ - হিজরী

পরিবেশ রক্ষায় ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আইন চান বিশেষজ্ঞরা

ইলেকট্রনিক ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য থেকে প্রতিনিয়ত ই-বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। এগুলো ফেলা হচ্ছে যত্রতত্র। সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এই ই-বর্জ্য সৃষ্টির হার বেড়েই চলছে। দেশেও ব্যাপকহারে ই-বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। কিন্তু, এ বিষয়ে বাংলাদেশে এখনও কোনো আইন নেই। আছে শুধু খসড়া। দেশের পরিবেশ রক্ষায় এ আইনটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা দরকার। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ই-বর্জ্য আইন বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।

 

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই আইনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনার আয়োজন করে গ্রামবাংলা উন্নয়ন কমিটি এবং পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

 

ইউনাইটেড ন্যাশনস ইউনিভার্সিটির স্টেপ ইনিশিয়েটিভ-এর তথ্য মতে ২০১২ সালে পৃথিবীতে ৪৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন (৪ কোটি ৫৬ লাখ) টন ই-বর্জ্য সৃষ্টি হয়েছে। অন্য এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ই-বর্জ্য ২০১৬ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৯৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন (৯ কোটি ৩৫ লাখ) টন। পৃথিবীতে বর্তমানে ৩৫৬ কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ২০১৮ সাল নাগাদ এই সংখ্যা ৪০০ কোটিতে গিয়ে দাঁড়াবে। গবেষণা তথ্য আরও বলছে, উন্নয়নশীল দেশের শহরগুলোর মোট পৌর বর্জ্যের শতকরা পাঁচ ভাগই হচ্ছে ই-বর্জ্য যা সরাসরি ডাস্টবিনে, রাস্তা-ঘাটে ও বর্জ্যের ডাম্প সাইটে ফেলা হচ্ছে।

 

এতে আলোচক ছিলেন সাংবাদিক খায়রুজ্জামান কামাল, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আহমেদ কামরুজ্জামান, স্বাস্থ্য মহা-পরিচালক অধিদপ্তরের ড. আশীষ কুমার সাহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক একেএম মাকসুদ, গ্রাম বাংলা উন্নয়ন কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ রসুল এবং পবা’র সভাপতি আবু নাসের খান।

 

আবু নাসের খান বলেন, দেশ ডিজিটাল হয়েছে, অর্থনৈতিকভাবে উন্নত হয়েছে। কিন্তু এই অর্থনৈতিক উন্নয়নের খেসারত পরিবেশকে দিতে হচ্ছে।

 

অধ্যাপক এ কে এম মাকসুদ বলেন, ওয়েস্ট (বর্জ্য) এখন আর ওয়েস্ট নেই, এটা এখন ওয়েলথ হয়ে গেছে। তবে ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ডিভাইসের ব্যবহার বেড়ে গেছে। ফলে বর্জ্যও বাড়ছে। এই বর্জ্য যেখানে সেখানে ফেললে এসিডিক কন্ডিশন তৈরি হয়, যা পরে মাটির স্তর ভেদ করে পানির স্তর পর্যন্ত চলে যায়। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই আইন এখন সময়ের দাবি।

প্রফেসর কামরুজ্জামান বলেন, আমেরিকায় প্রতি ২২ মাসে একজন মোবাইল পরিবর্তন করে। আমাদের দেশে এই হার আরও বেশি। ই-বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা না করা গেলে ঢাকার ধুলা আরও বেশি দূষিত হবে। তাই এটা এখনই নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

 

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইন নিয়ে আলোচনায় বক্তারা ৬টি সুপারিশ উত্থাপন করেন। সুপারিশগুলো হচ্ছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা চূড়ান্তকরণ, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পৌর কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা চূড়ান্তকরণ, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে ই-বর্জ্য ও পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শ্রমিকদের প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার আওতায় এনে তাদের স্বাস্থ্য ও জীবিকা সুরক্ষা করা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জনসচেতনতা ও জনদায়িত্ববোধ সৃষ্টি করা, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইলেকট্রনিক এবং ইলেকট্রিক সামগ্রী উত্পাদকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার ই-বর্জ্য ও পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত আইন ও বিধিমালার কার্যকর প্রয়োগ।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

বার পঠিত



আরো সংবাদ



















শিশু কিশোরদের পাইলস

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১১:৩২

স্যালুট টু ইউ ডক্টর

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১০:৪১
























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর