রবিবার ১৭, ডিসেম্বর ২০১৭ - ২, পৌষ, ১৪২৪ - হিজরী




দেশে মোবাইল কোর্ট সিস্টেম অবশ্যই দরকার, তবে..

দেশে মোবাইল কোর্ট সিস্টেম অবশ্যই দরকার। তবে, সেই ক্ষমতা শুধু প্রফেশনালদের অর্থাৎ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের হাতেই থাকা উচিত।

অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, আদালতে এতো মামলা জট রয়েছে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা তো সেগুলো নিয়েই ব্যস্ত। এরপরে তারা মোবাইল কোর্ট চালাবে কিভাবে?

পুলিশের যেমন এসবি, সিআইডি, পিবিআই, ট্যুরিস্ট পুলিশ, এপিবিএন, রেঞ্জ, মেট্রোপলিটন ইত্যাদি সাতটির মত মুল ব্রাঞ্চ আছে, তেমনি জুডিশিয়াল সিস্টেমে মোবাইল কোর্ট নামক আলাদা ব্রাঞ্চ খোলা যেতে পারে।

বিচার বিভাগ স্বাধীন হওয়ায়, তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও জুডিশিয়াল কাউন্সিলে চলে গেছে। ফলে নতুন নতুন আরো ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিবে তারা।

সেখান থেকে প্রত্যেক জেলা ও উপজেলার মোবাইল কোর্ট ব্রাঞ্চে প্রয়োজনীয় ম্যাজিস্ট্রেটদের পদায়ন করবে, যারা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন।

এতে যেমন বহু আইনের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ঘটবে, তেমনি বিচার ব্যবস্থায় প্রফেশনালিজম চলে আসবে, বিচারের গুনগত মান বৃদ্ধি পাবে, লোকদের মাঝে আস্থা তৈরি হবে।

বিচার প্রক্রিয়ার সাথে আইন ব্যাকগ্রাউন্ডের লোকেরা যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেলে এতে বুদ্ধি অপচয় (brain waste) কম হবে। সবাই নিজের অর্জিত জ্ঞান, শিক্ষা ও দক্ষতা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারবে।

অপেশাদার লোক দিয়ে বিচারিক কার্যক্রমের মত স্পেশালাইজড বিষয় চলে না। এতে আইনের অপপ্রয়োগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে ও ক্ষমতা প্রদর্শনের ইচ্ছে চলে আসে তাদের মধ্যে, যা সাম্প্রতিককালে খুব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

প্রশাসনের লোকদের ঠিকাদার, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজ, রাজনীতিবিদ ইত্যাদি সকলের সাথে সম্পর্ক রেখে চলতে হয়। ফলে এটি তাদের মোবাইল কোর্টের কার্যক্রমের উপর প্রভাব ফেলে।

কিন্তু তাদের তুলনায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা এদিক থেকে প্রভাবমুক্ত অনেক বেশি। ফলে তাদের দিয়ে চালিত মোবাইল কোর্ট আরো বেশি নিরপেক্ষ ও কার্যকর হবে।

আইনের কিছু ধারা মুখস্থ করে কিংবা মাস ছয়েক ট্রেইনিং করেই বিচারক হওয়া যায় না। গ্রামের চেয়ারম্যান, মাতব্বররাও তো বিচার করে। কিন্তু সেগুলো আসলে বিচার নয়, সেগুলো শালিস।

শালিস জিনিসটা নন প্রফেশনাল বা অপেশাদার লোকদের জন্য ঠিক আছে।

কিন্তু আইন হল প্রফেশনাল বিষয়, আইন হল একটি দর্শন, আইন হল একটি আশ্রয়ের নাম যার ছায়ায় জনসাধারণ আশ্রয় খুঁজবে।

এই জন্য আইন প্র‍্যাকটিস করতে হলে আইন বিষয়ক ডিগ্রি লাগে, লাগে বার কাউন্সিলের বিশেষ লাইসেন্স।

একজন পেশাদার ও অপেশাদারের কাজের মধ্যে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, বিবেচনা করার সক্ষমতার অনেক পার্থক্য থাকে।

কেউ একটা ফোঁড়া নিয়ে এলে একজন অপেশাদার হাতুড়ে অমনি তা কেটে দিবে। কিন্তু একজন পেশাদার ডাক্তার দেখবেন সেটা কাটা কত বিপজ্জনক, সেটা কাটলে সেখানে কি কি শিরা, স্নায়ু, ধমনী আছে যা ক্ষতিগ্রস্ত হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। এরপর চিন্তা করে উনি সিদ্ধান্ত নিবেন সেটা কাটা যাবে কি না।

তেমনি আইনের বিভিন্ন দিক প্রয়োগ করার আগে বিভিন্ন অবস্থা বিবেচনা করতে হয়, যা শুধুমাত্র একজন পেশাদার আইনবিদই তার আবেগ ও মেজাজকে নিয়ন্ত্রণে রেখে জ্ঞান ও দর্শন দিয়ে বিবেচনা করতে পারেন।

এটা একবিংশ শতাব্দী। সারা বিশ্ব নতুন পথে হাটছে। আর আমরা আটকে রয়েছি ৭০ বছর আগে রেখে যাওয়া ব্রিটিশদের সেই সেকেলে সিস্টেমের জালে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

বার পঠিত



আরো সংবাদ


চাই প্রফেশনাল লিডারশীপ

চাই প্রফেশনাল লিডারশীপ

১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২৩:৩৩

রোগীদের বিদেশমুখীতা কমানোর উপায়

রোগীদের বিদেশমুখীতা কমানোর উপায়

১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৪:২৮





বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবার বিপর্যয়

বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবার বিপর্যয়

০৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১২:৫৮


এইডস প্রতিরোধ করাটাই জরুরি

এইডস প্রতিরোধ করাটাই জরুরি

০৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১১:২৯









শিশু কিশোরদের পাইলস

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১১:৩২

স্যালুট টু ইউ ডক্টর

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১০:৪১
























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর