রবিবার ১৭, ডিসেম্বর ২০১৭ - ২, পৌষ, ১৪২৪ - হিজরী



অধ্যাপক ডা. রাশিদা বেগম

ইনফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ


গর্ভকালীন পরিচর্যা ও প্রসূতীর নিরাপত্তা

গর্ভকালীন পরিচর্যার উদ্দেশ্য হচ্ছে গর্ভাবস্থাজনিত কোন সমস্যা আগেভাগেই সনাক্ত করে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া। কোন অসুস্থতা যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, এ্যাজমা, থাইরয়েড ডিসঅর্ডার ইত্যাদি বিভিন্ন অসুস্থতাসহ প্রেগন্যান্সি হলে উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রনে রাখা। অর্থাৎ ঝুঁকিপূর্ন এবং উচ্চঝুঁকিপূর্ন গর্ভাবস্থাকে পাহাড়া দিয়ে টেনেটুনে বাচ্চা পোক্ত করা পর্যন্ত নেবার পরে একজন সুস্থ নিরাপদ মা এর কাছ থেকে একটি সুস্থ নিরাপদ শিশুকে পাওয়া।

কিন্তু যথাযোগ্য যত্ন সহকারে গর্ভাবস্থাকে টেনে নিয়ে যাবার পরেও সবসময়ে মা ও বাচ্চার শতভাগ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়া যায় না। কিছু অনুনমেয় উপসর্গ এবং জটীলতা যে কোন সময় হতে পারে।

তারই একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ। এই প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণের জন্য একসময়ের ভিকারুন্নিসা নুন কলেজের অধ্যক্ষের মেয়ে আমেরিকার মত জায়গায় মৃত্যুবরণ করেন। পরিচিত একজন ইংল্যান্ডের মত জায়গায় মৃত্যুবরণ করেন। ভয়াবহ অবস্থা এই রক্তক্ষরণ। যাকে বলে অবস্টেট্রিসিয়ান'স নাইটমেয়ার। 

যদি কোন হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসক গাফিলতি করে তৎপর হয়ে ব্যবস্থা না নেয় সেটা তার/ তাদের গর্হিত অপরাধ। প্রমাণ সাপেক্ষে উপযুক্ত শাস্তির দাবীদার।

কিন্তু আন্তরিকতার সাথে সকল প্রচেষ্টার পরেও যদি পেশেন্টকে রক্ষা করা না যায় তাহলে চিকিৎসককে অপরাধী করা কতখানি যুক্তিযুক্ত? সেখানে অপরাধী করে ৩০৪ ধারায় কেস কতখানি যুক্তিসঙ্গত? ডাক্তারতো পেশেন্ট এর শত্রু নয়। পেশেন্ট ভাল হলে ডাক্তার দেবতা বনে যায়। আর খারাপ হলেই শত্রু হয়ে যায়।

কোন প্রসূতীর মৃত্যুই কাম্য নয়। একটি ফিজিওলজিক্যাল প্রসেস সন্তান জন্মদানের জন্য কারো মৃত্যু কোনভাবেই সহ্যের নয়। তাই কোন মৃত্যুকেই জাস্টিফাই করছিনা। কিন্তু আনএভয়ডএবল মৃত্যুর জন্য চিকিৎসকদের যারপরনাই চেষ্টার পরেও চিকিৎসককে এটেম্পট টু মার্ডারে দোষী সাব্যস্ত করা কাম্য কিনা সেটাই প্রশ্ন।

পেরিফেরিতে অবস্টেট্রিক্স ম্যানেজ হয় বলেই মাতামৃত্যুর হার কমে এসেছিল। যদিও ২০১০ থেকে ২০১৬ তে একটু ব্যাকগীয়ারে গেছে। এমন ৩০৪ ধারা চললে ক্রমশ: আরও ব্যাকগীয়ারে যায় কিনা তাই ভাবছি।

সকল চিকিৎসক যেন দক্ষ হাতে তার চেষ্টার সবটুকু ঢেলে দেয় তার হাতে জীবন সঁপে দেয়া প্রসূতীর উপর।

সকল প্রসূতী তাদের বাচ্চাসহ নিরাপদে থাকুক, বেঁচে থাকুক এবং বেঁচে থেকে তাদের পরম কাছের লোক চিকিৎসককে বাঁচিয়ে রাখুক, নিরাপদে রাখুক।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

বার পঠিত



আরো সংবাদ

শিশু কিশোরদের পাইলস

শিশু কিশোরদের পাইলস

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১১:৩২

মেয়েদের বিয়ে, মাতৃত্ব ও ক্যারিয়ার

মেয়েদের বিয়ে, মাতৃত্ব ও ক্যারিয়ার

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১০:২৯

শিশুর দাঁত উঠছে না?

শিশুর দাঁত উঠছে না?

০৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৯:৩৩

যে ১০টি খাবারে দেহে রক্ত বাড়ে

যে ১০টি খাবারে দেহে রক্ত বাড়ে

০৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৩:০৫

ডায়রিয়ায় কী ওষুধ খাবেন?

ডায়রিয়ায় কী ওষুধ খাবেন?

০৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৫:৩১

লবণ ও উচ্চরক্তচাপ

লবণ ও উচ্চরক্তচাপ

০২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৪:৩৭


শীতে অন্ত্র ও মলদ্বারের সমস্যা ?

শীতে অন্ত্র ও মলদ্বারের সমস্যা ?

০২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১০:৫৩

নখকুনি সমস্যা নিরাময়ের উপায়

নখকুনি সমস্যা নিরাময়ের উপায়

৩০ নভেম্বর, ২০১৭ ২২:০৩

আমরা কিভাবে শুনতে পাই?

আমরা কিভাবে শুনতে পাই?

৩০ নভেম্বর, ২০১৭ ২০:০৮

এ সময়ের শিশুরোগ ব্রংকিওলাইটিস

এ সময়ের শিশুরোগ ব্রংকিওলাইটিস

৩০ নভেম্বর, ২০১৭ ১৮:৫১








শিশু কিশোরদের পাইলস

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১১:৩২

স্যালুট টু ইউ ডক্টর

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১০:৪১
























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর