ডা. রাজ কামাল আহমেদ

ডা. রাজ কামাল আহমেদ

অর্থোসার্জারি রেসিডেন্ট, বিএসএমএমইউ, শাহবাগ, ঢাকা

মেডিকেল অফিসার, বিসিএস (স্বাস্থ্য)

সাবেক শিক্ষার্থী, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ। 


০৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০৯:৪৯ পিএম

ডা. ফরহাদের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাই

ডা. ফরহাদের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাই

যার জন্য দোয়ার কথা বলছি, ডা. ফরহাদ আলম, কার্ডিওলজিস্ট, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, ঢাকা।

ফরহাদ একজন মানুষ হিসেবে সৎ, মেধাবী, দক্ষ ও পরিশ্রমী! মিষ্টভাষী এবং অমায়িক ব্যবহারের কারণে তার পরিচিতরা সবাই তাকে খুব পছন্দ করে! আজ পর্যন্ত কেউ তার অাচরণে কষ্ট পেয়েছে এমন মানুষ আমার জানা মতে নেই! এ কথা আমি জোর দিয়ে বলছি এ কারনে সে আমার বন্ধু এবং সহপাঠী। আমরা একই স্কুলে এবং একই কলেজে পড়ালেখা করেছি। একই সাথে প্রাইভেট পড়েছি, একই সাথে উঠাবসা করেছি এবং একই সাথে বেড়ে উঠেছি। জীবনের অনেকটা সময় আমরা এক সাথে চলেছি। অনেক সুখ দু:খ ভাগাভাগি করেছি! ফরহাদের মত বুদ্ধিদীপ্ত মেধাবী একজন বন্ধু আমার জীবনে এসেছে সেজন্য নিজেকে ধন্য মনে করেছি বহুবার।

মনে পড়ে, ওর জীবনের লক্ষ ছিল বুয়েটে পড়ে প্রকৌশলী হবে! কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার মাত্র চারদিন আগে সে সিদ্ধান্ত নেয় ইঞ্জিনিয়ারিং পড়বে না, ডাক্তারি পড়বে। এবং মনে আছে বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার দিন পরীক্ষা না দিয়ে আমি এবং ফরহাদ (দু'জন বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন করেও) গলাগলি করে একসঙ্গে ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জ চলে গেছি।

অল্প কয়েকদিনের প্রস্তুতিতে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়ে যাওয়াটা ফরহাদের মত বিরল একজন মেধাবীর পক্ষেই সম্ভব! বলা বাহুল্য, সে স্কুলের পরীক্ষাগুলিতে প্রথম ছাড়া কখনো দ্বিতীয় হতো না! পড়ালেখা আর জাতির সেবায় সে এতটাই অন্তপ্রাণ যে ফেসবুক আইডি খুলে সময় অপচয় করাটাও তার অপছন্দ। এযুগে কারো ফেবু আইডি নাই এটা অত্যাশ্চর্য বিষয় হলেও ফরহাদের বেলায় সেটি অমোঘ সত্য।

এমবিবিএস পাশের পর পরই এফসিপিএস মেডিসিন প্রথম পর্ব সম্পন্ন করে এবং এমডি কার্ডিওলজিতে ভর্তি হয়ে যায় সে।

২৫তম বিসিএসে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে যোগদান করে সরকারি চাকুরিতে।

মাত্রই এমডি (কার্ডিওলজি) পাস করে ডা. ফরহাদ জুনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে যোগদান করে সর্বশেষ ডিপিসিতে।

কিন্তু হঠাৎ ই প্রলয়ঙ্করী ঝড় বয়ে গেল তার জীবনে। সে এখন জীবন্মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।

আমাদের প্রাণপ্রিয় বন্ধুটি এখন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সের আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে! বাঁচার সম্ভাবনা কতটুকু ডাক্তাররাও বলতে পারছেন না।

একটু পেছনের কাহিনী বলি। বিগত চারদিন আগে সে রিক্সায় করে যাচ্ছিল। কাঁধে তার ব্যাগের স্ট্র্যাপ ঝুলানো ছিল। ছিনতাইকারী তার ব্যাগ ধরে সজোরে টান দিতেই চলন্ত রিক্সা থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়। হেড ইনজুরিতে তার ব্রেনস্টেম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাৎক্ষিণকভাবে নিউরোসায়েন্সে তার মাথায় জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। তার জ্ঞান এখনো ফেরেনি। এবং তার অবস্থা সংকটাপন্ন( critical)।

এভাবে জাতির একজন শ্রেষ্ঠ সন্তান, মেধাবী চিকিৎসক পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে বড্ড অসময়ে আমাদের কাছ থেকে চলে চলে যাবে এটা কিভাবে মেনে নিব আমরা! দেশ ও জাতিকে যে অনেক কিছু দেবার বাকি আছে তার!

দু:খজনক হলেও সত্য, ডা. ফরহাদের মত একজন স্বনামধন্য চিকিৎসকের খোদ রাজধানীর বুকে ঘটে যাওয়া এত বড় একটা দুর্ঘটনার সংবাদ কোন প্রিন্টিং বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় আসেনি! কোন টিভি চ্যানেলের স্ক্রলে প্রচার হয়নি; যেখানে অনেক মামুলি খবরও প্রতিটি চ্যানেলে ফলাও করে প্রচার হয়, বড় বড় হেডলাইনে সংবাদপত্রে ছাপা হয়! করো কাছে কোন আর্থিক সহায়তা চাওয়া নয়, এই মুহূর্তে আমরা সবাই যেন ডা. ফরহাদের জন্য পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে দোয়া করি, সে যেন সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসে!

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত