২৭ নভেম্বর, ২০১৭ ১১:১৭ এএম

শহীদ ডা. মিলন দিবস আজ

শহীদ ডা. মিলন দিবস আজ

আজ ২৭ নভেম্বর। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহীদ ডা. মিলন এর ২৭তম শাহাদাত বার্ষিকী। ১৯৯০ সালের এদিনে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সামনে সন্ত্রাসীদের এলোপাথাড়ি গুলিতে নিহত হন চিকিৎসক নেতা ডা. শামসুল আলম খান মিলন।

ডা. মিলন ছিলেন তৎকালীন বিএমএ’র নির্বাচিত যুগ্ম সম্পাদক, ঢাকা মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের বায়োকেমিষ্ট্রি বিভাগের প্রভাষক। দেশের জন্য গণতন্ত্র আনতে গিয়ে ডা. মিলনের আত্মত্যাগ আজ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে চিকিৎসক সমাজ-সহ গোটা জাতি। 

পেছন ফিরে দেখা : 

লক্ষ্মীপুরের মো. সাজুদ্দিন খানের ছেলে মিলনের জন্ম হয় ১৯৫৭ সালের ২১ আগস্ট। ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি সরকারী বিজ্ঞান কলেজ থেকে শিল্পকলা (ইন্ডাস্ট্রিয়াল আর্টস) বিভাগে ২য় স্থান অধিকার করে এসএসসি পাস করেন। ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি এইচএসসি পাশ করেন নটরডেম কলেজের ছাত্র হিসাবে। এরপর চিকিৎসক হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন (ব্যাচ কে-৩৪)। ডা. মিলন ১৯৮০ সালের ১১ মার্চ মাহমুদা শিকদার কবিতার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি এমবিবিএস ডিগ্রী লাভ করেন ও ডাক্তারী পেশায় যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে তিনি IGPMR থেকে বায়ো-কেমিস্ট্রিতে এমফিল ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৮৮ সালে বিএমএ’র যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন ডা. শামসুল আলম খান মিলন।

রোগীদের সেবা করার পাশাপাশি জনতার দাবী আদায়ে ডা. মিলন ছিলেন নির্ভীক এবং অকুতোভয়। নয় বছরের স্বৈরশাসনে অন্য সবার ন্যায় চিকিৎসকরাও অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। সে সময় গণবিরোধী স্বাস্থ্যনীতি চাপিয়ে দেয়া হলে সরাসরি সরকার বিরোধী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন চিকিৎসকেরা। ১৯৯০ সালের ২৭শে জুলাই বিএমএম’র বিশেষ বার্ষিক সাধারণ সভায় সকল চিকিৎসক পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেদিন বিবিসি’তে দেওয়া সাক্ষাতকারে ডা. মিলন জোরেশোরে বলেছিলেন, ‘আমরা দাবী আদায়ে মৃত্যুকেও ভয় পাই না।’ 

১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) সরকার বিরোধী সমাবেশে যোগ দেয়ার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি’র গোল চত্বরে স্বৈরাচারের গুন্ডাদের গুলিতে শহীদ হন ডা. মিলন।

ডা. মিলন হত্যার সাথে সাথে দেশের চিকিৎসক সমাজ রাস্তায় বেরিয়ে আসেন এবং এরশাদ সরকারের পদত্যাগের দাবীতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা ডা. মিলনের রক্ত ছুঁয়ে শপথ করে, এরশাদ সরকারের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত কাজে যোগ দেবেন না। এমনকি এরশাদ সরকারের অধীনে চাকুরী না করার অঙ্গীকার করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন তারা। পরদিন ২৮ নভেম্বর চিকিৎসক সমাজ সারাদেশে হরতালের ডাক দেন। স্বৈরাচার বিরোধী বিভিন্ন জোট এই হরতালকে সমর্থন দেন। এবং তারাও নতুন করে স্বৈরাচারের জরুরী আইন ও কারফিউ আইন অমান্য করার কর্মসূচী ঘোষণা করেন। এভাবেই ডা. মিলনের শাহাদাতের মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত