রবিবার ১৭, ডিসেম্বর ২০১৭ - ২, পৌষ, ১৪২৪ - হিজরী

বিদায়ী সংবর্ধনা দিলেন ঢামেক কর্তৃপক্ষ

দোয়া করি স্টুডেন্টরা যেন আমারও চেয়েও ভাল ডাক্তার হয় : অধ্যাপক ডা. আজিজুল কাহহার

মানুষ দুইজনের কাছে হেরে আনন্দ পায়। এক, নিজ সন্তান দুই, নিজ স্টুডেন্ট এর কাছে। আমি দোয়া করি যেন আমার স্টুডেন্টরা আমার চেয়েও ভাল ডাক্তার হয়"- কথা গুলো বলেছেন মেডিসিনের জীবন্ত কিংবদন্তী বিসিপিএস এর সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. আজিজুল কাহহার। শনিবার ঢামেকহা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত তাঁর বিদায়ী সংবর্ধনাতে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢামেক-এর অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলের হাসপাতালের সম্মানিত পরিচালক ও অধ্যাপকবৃন্দ সহ অনেক গুণমুগ্ধ মুখ। অতিথিরা তাদের আলোচনায় অধ্যাপক ডা. আজিজুল কাহহারের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন নিয়ে আলোকপাত করেন।

আবেগঘন ভাষায় অথচ দৃঢ়তার সাথে অধ্যাপক ডা. আজিজুল কাহহার বলেন, পৃথিবীতে এমন কোন্ পেশা আছে, যারা ফ্যামিলির বউ-বাচ্চাকে ঘুমন্ত রেখে হাসপাতালে গিয়ে মানুষের জীবনরক্ষা করে? কেবল বেতন দিয়ে তাঁর এই শ্রমটুকু কখনোই মাপা যাবে না। সেই মহান পেশার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত এবং এই গর্ব আমার চিরকালই থাকবে। সুতরাং ডাক্তার হয়ে মনটা খারাপ করার কোন কারণ নেই।

তিনি আরো বলেন, আমার মনে হয়, পৃথিবীতে মানুষের সবচেয়ে কল্যাণকর কাজটা ডাক্তাররাই করে থাকেন। একমাত্র ডাক্তারি পেশাতেই কাউকে না ঠকিয়ে সকল মানুষকে সমানভাবে সেবা দেয়ার সুযোগ থাকে।

ঢামেকের মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, "আমি মনে করতাম ক্লিনিক্যাল অ্যাসিস্টেন্ট (সিএ) হিসেবে আমিই মনে হয় ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি সময় দিয়েছি, কিন্তু সিএ কালীন সময়ে স্যারের ডিভোশনের কথা শোনার পর এখন আর নিজেরটা বলি না।"

একই বিভাগের অধ্যাপক ডা. শ্যামল সরকার বলেন, "একবার আমার গ্রামের বাড়ির এক রোগি ফোন করে আমাকে বলে দাদা কষ্ট করে যদি কাহহার স্যারের সিরিয়ালের ব্যবস্থা করে দিতেন!"

ছন্দে ছন্দে তার গুণ প্রকাশ করেন অধ্যাপক ডা. মোঃ ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন,

"কেহ বলে বলে মেহেদী,
কেহ কাহহার,
গুরুগম্ভীর ভাব তার,
জ্ঞানের আধার"।

নিজ পেশা ও দায়িত্বকে সবসময় সবার উপরে গুরুত্ব দিয়েছেন অধ্যাপক ডা. আজিজুল কাহহার। সেকথা সেটা ফুটে ওঠে তাঁর সহধর্মিণীর কথায়, "ইন্টার্ণশীপ সময়ে কোথাও ঘুরে বেড়ানোর কথা বললে- উনি বলতেন, এখন সময় হবে না, পরে যাব। আর সিএ থাকাকালীন সময়ে-তো উনি অনেক সময় হাসপাতালে রোগীর চাপে বাসায়ও ফিরতেন না অনেকসময়।"

আর ঢামেকের কে-৬২ ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. নওসাবা নূর বলেন, "স্যার প্রায়ই বলতেন "Devotion, sincerity, integrity & honesty" এই চারটা হল একটা ডাক্তারের বেসিক কোয়ালিটি এবং স্যার নিজে এগুলো 100% মেনে চলতেন "।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমার যদি ক্ষমতা থাকত, তাহলে আজই কাহহার ভাই-এর চাকরিতে এক্সটেনশনের ব্যবস্থা করে দিতাম। এ রকম একজন চিকিৎসকের জাতিকে অনেক কিছু দেয়ার আছে।" 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

বার পঠিত



আরো সংবাদ


শহীদ ডা. মিলন দিবস আজ

শহীদ ডা. মিলন দিবস আজ

২৭ নভেম্বর, ২০১৭ ১১:১৭


তিনি একজন কার্ডিয়াক সার্জন

তিনি একজন কার্ডিয়াক সার্জন

২০ নভেম্বর, ২০১৭ ১৫:৪১















শিশু কিশোরদের পাইলস

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১১:৩২

স্যালুট টু ইউ ডক্টর

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১০:৪১
























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর