অধ্যাপক ডা. রাশিদা বেগম

অধ্যাপক ডা. রাশিদা বেগম

ইনফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ


১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১০:০১ এএম

ডা. হোসনে আরা ও সিজারিয়ান প্রসঙ্গ

ডা. হোসনে আরা ও সিজারিয়ান প্রসঙ্গ

১। টুইন ডায়াগনোসিস আমরা আল্ট্রাসনোগ্রাফীর উপর নির্ভর করে করি। টুইনের বেলায় আলট্রাসনো নিশ্চিত করে এবডোমিনাল প্রেগন্যান্সি ডায়াগনোসিস করতে পারে না। তাতো এখানেই দেখা গেল। এমন কি সিঙ্গল প্রেগন্যান্সি এর বেলাতেও বাইকরনুয়েড ইউটেরাসের একটি খালি এবং একটিতে প্রেগন্যান্সি ডায়াগনোসিস করে। তবে এবডোমেন এ ফ্রী ফ্লুইড এবং এবনরম্যাল প্লাসেন্টা এবং ইউটেরাস খালি দেখে ডায়াগনোসিস করা যেতে পারে। টুইন বলেই হয়ত এটি ডায়াগনোসড ছিলনা যে হিটারোটপিক প্রেগন্যান্সি। এমতাবস্থায় যে কেউ স্বাভাবিক টুইন এর মতই সিজারের জন্য প্রস্তুত হবে। সে বাচ্চা কোনদিন পর্যন্ত বেঁচে ছিল বা তার বেঁচে থাকার মধ্যেই তাকে উদ্বার করার জন্য ঠিক কোন সময়ে সিজার করতে হোত তা হোসনে আরা কেন, সেরা অবস্ট্রেট্রিসিয়ানের বাবার বাবাও পারত না। তাই ৩৭ সপ্তাহ পর্যন্ত বেঁচে ছিল এবং শেষতক তাকে বাঁচানো গেল না এমন ধারনা অযৌক্তিক। ডেলিভারীর পরেও এদের মরটালিটি ৪০-৯৫%.

২। সে ঝুঁকি আছে বলেই হাত দেয়নি। বরং হাত দিলেই ক্যাটাস্ট্রোপ হবার সম্ভাবনা ছিল।

৩। হোসনে আরা সিজার করতে দক্ষ কিনা তার উচিত ক্লিনিকের রেজিস্ট্রার থেকে তার অপারেশন লিস্টের ড্যাটা দেয়া।

৪। আল্ট্রাসনো টুইন বলেছে, কিন্তু জরায়ুতে একটি বাচ্চা এবং পেটের ভিতরে লাম্প। মাথায় এবডোমিনাল স্ট্রাইক করা উচিত ছিল। তবে ফাইব্রয়েড ইউটেরাস উইথ ইন্ট্রাইউটেরাইন প্রেগন্যান্সি এর একটি অন্যতম ডিফারেনসিয়াল ডায়াগনোসিস। তাই সে টিউমার মনে করে রেফার করাটাও অযৌক্তিক হয়নি। সেক্ষেত্রে সেলাই কাটা পর্যন্ত তার আন্ডারে রাখাটাও অযৌক্তিক নয় যেহেতু টিউমার ইমারজেন্সী কিছু নয়।

৫। ক্লিনিক্যাল ডায়াগনোসিস সবসময়ে সঠিক নাও হতে পারে। এটা দোষের কিছু নয়। এজন্যই আবার কমপ্লেইন হওয়াতে আল্ট্রাসনোগ্রাম, ডায়াগনোসিস এবং ঐ হাসপাতালের মাধ্যমেই ঢাকা মেডিকেলে ট্রান্সফার। এতে অসুবিধের কি হোল?

৬। এবডোমিনাল প্রেগন্যান্সিতে ব্যথা হতে পারে তবে ঠিক লেবার পেইন নয়। এটি জরায়ুতে নয় বলে ডেলিভারীও হবে না, প্লাসেন্টা সেপারেটও হবে না এবং ব্লিডিংও হবেনা। তবে বাচ্চা মারা যাবে, সময়ের সাথে ক্যালসিফাইড হয়ে লিথোপেডিওন এ রূপান্তরিত হবে। তাই এটা নিয়ে এত হৈ চৈ কেন, যেখানে রোগীর মারাত্মক কিছুই হয়নি।

৭। ক্লিনিকের বৈধতা আছে কিনা আমরা ক'জনা দেখি। তবে হ্যাঁ পরিবেশ এবং মেটিকুলাস ব্যবস্থাপনার বিষয় অবশ্যই দেখি।

৮। ঐ হাসপাতালের আশেপাশে সিনিয়র কেউ কি ছিল যাকে হাসপাতাল কল দিয়ে করাতে পারত? তা ছাড়া ফাইব্রয়েড রেখে সিজার করে আমাদের ৯৫ শতাংশ বা তারও বেশী অবস্টেট্রিশিয়ান। সেখানে কল দেবারও যুক্তি নেই। যেহেতু ডায়াগনোসিস ফাইব্রয়েড ছিল যা ইনভলিউশনের সময় অটোলাইসিস হবার কথা।

সব কিছু মিলিয়ে সাংবাদিক ভাইজানকে এতই গুরত্ত্ব দিল কোর্ট কাচারী যে শুধু নাড়ী টিপে পুরিয়া খাওয়ানোর দিন চলে এসেছে। ভয়ে ডাক্তারী কেউ করবে না। অথচ পেরিফেরীর সিজারিয়ান সেকশন এর জন্যই অবস্ট্রাক্টেড লেবার, স্টীল বার্থ এবং ভি ভি এফ সিগনফিক্যান্টলি কমে গেছে।

এদেশে বিনা বাক্যব্যয়ে পার্লার আর ফাস্টফুডের দোকানে মানুষ কাড়ি কাড়ি টাকা দিয়ে আসে। চল সবাই সেখানেই যাই। কথায় বলে, নর্তকীর ঘিলু থাকে পায়ে। তাই তার পায়ের কারিশমা অসাধারন। আর যার ঘিলু মাথায় থাকে তার কারিশমা সবখানে।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত