সোমবার ২০, নভেম্বর ২০১৭ - ৫, অগ্রাহায়ণ, ১৪২৪ - হিজরী



মুজতাবা তামিম আল মাহদি

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ


গল্পে গল্পে জেনে নিই, পিটুইটারি কী এবং হাইপোথ্যালামাসের সাথে কী এর সম্পর্ক?

পিটুইটারি গ্ল্যান্ডের নাম আসলেই সাথে হাইপোথ্যালামাসের নাম চলে আসে। কারণ তো আছে নিশ্চয়ই। পিটুইটারি গ্ল্যান্ড, যার অপর নাম Hypophysis, ছোট্ট একটি গ্ল্যান্ড। মাত্র ১ সে.মি তার ব্যাস, আর ০.৫ - ১ গ্রাম মাত্র ওজন। এই পিটুইটারি গ্ল্যান্ড sella turnica নামক একটি হাড়ের গহ্বরে (bony cavity) আলতো করে বসে থাকে। পিটুইটারি গ্ল্যান্ডের যতো সিক্রেশন সব কন্ট্রোল করে হাইপোথ্যালামাস। এটাই হচ্ছে তাদের মধ্যে সম্পর্ক। অনেকটা বস এবং কর্মচারীর সম্পর্কের মতো। এই সম্পর্ক তৈরী করে দিয়েছে Pituitary (hypophysial) stalk। আর এই সম্পর্কের পিয়ন হিসেবে কাজ করে hypothalamic hypo-physeal portal vessels এবং pituicytes। হাইথ্যালামাসের যেকোনো ওর্ডার তারা পিটুইটারির কাছে নিয়ে আসে। এদের সাথে পরে পরিচয় করে দিচ্ছি।

হাইপোথ্যালামাসের সাথে পিটুইটারির সম্পর্ক তো বোঝা গেলো। এবার হাইপোথ্যালামাস সম্পর্কে একটু জানিয়ে রাখা প্রয়োজন। হাইপোথ্যালামাস হচ্ছে আমাদের ব্রেনের একটা পার্ট যা বিভিন্ন নার্ভাস সিস্টেম থেকে নার্ভ সিগন্যাল রিসিভ করে। ধরেন, কারো কোথাও ব্যাথা হচ্ছে। এই ব্যাথার যে সিগনাল, তার কিছু অংশ হাইপোথ্যালামাসে যাবে। অথবা যখন কেউ কোনো ডিপ্রেশনে থাকে কিংবা কোনোকিছু ভাবতে থাকে, এই সিগন্যালের কিছু অংশও হাইপোথ্যালামাস পাবে। ঘ্রাণ কিংবা গন্ধ অলফ্যাক্টরী নার্ভের মাধ্যমে হাইপোথ্যালামাসে যায়। এমনকি বডির ইলেক্ট্রোলাইট, পানি, বিভিন্ন হরমোনের কনসেন্ট্রেশন যখন পরিবর্তন হয় তখনও হাইপোথ্যালামাস টের পায়। সুতরাং, দেহের অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপের তথ্য সংগ্রহ কেন্দ্র হচ্ছে হাইপোথ্যালামাস। এবং এই তথ্যের ভিত্তিতেই সে পিটুইটারি হরমোনের সিক্রেশন নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

এবার পিটুইটারি সম্পর্কে কিছু কথা জানিয়ে দেই। ফিজিওলজিক্যালি, পিটুইটারি হরমোনকে দ্বিখণ্ডিত করা যায়। এক খন্ডের নাম Anterior pituitary (adenohypophysis), আরেক খন্ডের নাম Posterior pituitary (neurohypophysis)। এই দুটি খন্ডকে আলাদা করে রাখে Pars intermidia। 
ছোট্ট একটি মজার তথ্য জানিয়ে রাখি। এই দুটি খন্ডের ডেভেলাপমেন্ট সোর্স কিন্তু এক না। এন্টেরিওর পিটুইটারি আসে Rathke's pouch থেকে। আর পোস্টেরিওর পিটুইটারিটা হচ্ছে হাইপোথ্যালামাসের নিউরাল টিস্যুর একটি প্রবৃদ্ধি।

পিটুইটারি যেহেতু একটি গ্ল্যান্ড, সুতরাং তার নিশ্চয়ই কিছু সিক্রেশান আছে। তার দুটি খন্ডের জন্য আলাদা আলাদা সিক্রেশান। এন্টেরিওর পিটুইটারি থেকে ক্ষরিত হয় টি হরমোন। তারা হচ্ছে,

১. Growth Hormone (GH) [দেহের বৃদ্ধি ঘটায়, লাইপোলাইসিস স্টিমুলেট করে, ইনসুলিন এর কাজে ব্যাঘাত ঘটায়]

2. Adrenicorticotropic Hormone (ACH) [ গ্লুকোকর্টিকয়েড, এন্ড্রোজেন প্রোডাকশন বাড়ায়, জোনা ফ্যাসিকুলাটা ও জোনা রেটিকুলারিস এর সাইজ নিয়ন্ত্রণ করে]

3. Thyroid stimulating Hormone (TSH) [থাইরয়েড হরমোন প্রোডাকশান স্টিমুলেট করে]

4. Two Gonadotropic Hormone:
a) Follicle Stimulating Hormone (FSH) [ওভারিয়ান ফলিকল ডেভেলাপমেন্ট স্টিমুলেট করে, টেস্টিসে স্পার্মাটোজেনেসিস রেগুলেশন করে।]
b) Luteinizing hormone (LH) [ওভ্যুলেশন ঘটায় এবং কর্পাস লুটিয়াম তৈরী করে। এস্ট্রোজেন, প্রজেস্টেরন প্রোডাকশন স্টিমুলেট করে]

5. Prolactin (PRL) [দুগ্ধ ক্ষরণ এবং তৈরীতে সাহায্য করে]

আর পোস্টেরিওর পিটুইটারি থেকে ক্ষরিত হয় দুটি হরমোন।

1. Antidouretic Hormone (ADH)। অপর নাম Vesopressin। [পানি পুণ:শোষণ করায়, দেহে পানির ঘনমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে]

2. Oxytocin [বাচ্চা ডেলিভারির সময় Uterus কনট্রাকশনে সাহায্য করে এবং ব্রেস্ট গ্ল্যান্ড থেকে দুধ তৈরী করে।]

আরেকটি হরমোন পিটুইটারি থেকে ক্ষরিত হয়। যার নাম 
Melanocyte stimulating hormone। এটি মেলানোসাইট ক্ষরণকে স্টিমুলেট করে।

আমরা আগেই জেনেছি, পিটুইটারি হরমোন সিক্রেশন নিয়ন্ত্রণ করে হাইপোথ্যালামাস। সেটা কিভাবে? চলুন, জেনে নেওয়া যাক।

হাইপোথ্যালামাস এন্টেরিয়র এবং পোস্টেরিওয়র পিটুইটারিকে দুইভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তাই আমরা দুটোকে আলাদাভাবে জানবো। প্রথমে আসি এন্টেরিওর পিটুইটারিতে।

এন্টেরিওর পিটুইটারি সিক্রেশন নিয়ন্ত্রিত হয় কিছু হরমোনের মাধ্যমে। যাদেরকে বলা হয় Hypothalamic releasing and Hypothalamic inhibiting hormone। এই হরমোন হাইপোথ্যালামাস থেকে সিক্রেটেড হয়ে এন্টেরিওর পিটুইটারিতে এসে কাজ করে। এটা কিভাবে আসে সেটা মজার একটা বিষয়। ওই যে বলেছিলাম পিয়ন সাহেব। ওই পিয়ন সাহেবই এই হরমোনগুলোকে অর্থাৎ বসের অর্ডারকে এন্টেরিওর পিটুইটারিতে পৌছিয়ে দেন। অর্থাৎ Hypothalamic Hyoophyseal portal vessels গুলাই হরমোনগুলাকে এন্টেরিওর পিটুইটারিতে নিয়ে আসে। এন্টেরিওর পিটুইটারিতে এই রিলিজিং এবং ইনিহিবিটিং হরমোনগুলো গ্ল্যান্ডুলার সেলে কাজ করে তাদের সিক্রেশন নিয়ন্ত্রণ করে।

এধরনের কয়েকটি রিলিজিং এবং ইনহিবিটিং হরমোনের নাম হচ্ছে

-Thyrotropin releasing hormone (TSH এর রিলিজ ঘটায়)
-Corticotropin releasing hormone ( ACH এর রিলিজ ঘটায়)
-Gonadotropin releasing hormone (FSH এবং LH এর রিলিজে হেল্প করে)
-Growth hormone releasing hormone (GH রিলিজ করে)
-Growth hormone inhibiting hormone (GH ইনহিবিট করে) 
-Prolactin inhibiting hormone (PRL ইনিহিবিট করে)

হাইপোথ্যালাসের কিছু স্পেশাল নিউরন এসব হরমোন সিনথেসাইজ এবং সিক্রেট করে।হাইপোথ্যালামাসে এসব নিউরনের অবস্থান এখনো ভালোভাবে জানা যায়নি। হরমোনগুলো ক্ষরিত হয়ে ব্লাডে (রক্ত) আসে। এই ব্লাড লোয়ার হাইপোথ্যালামাসে একটি ক্যাপিলারি বেড পাস করে পিয়নের কাছে অর্থাৎ hypothalamic hypophyseal vessel এর কাছে হরমোনগুলোকে নিয়ে আসে। এই পিয়ন এটাকে ডিরেক্টলি এন্টেরিওর পিটুইটারির ক্যাপিলারি সাইনাসের কাছে নিয়ে যায়। এইভাবেই হাইপোথ্যালামাস এন্টেরিওর পিটুইটারির সিক্রেশন নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

এখন বলবো পোস্টেরিওর পিটুইটারির সিক্রেশনকে হাইপোথ্যালামাস কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। পোস্টেরিওর পিটুইটারি মূলত কিছু Glial like cell পিটুইসাইট দ্বারা তৈরী। আরেকজন পিয়ন এই pituicyte, মনে আছে তো?

এই পিটুইসাইট হাইপোথ্যালামাসের Supra Optic and Paraventricular nuclei থেকে ব্যুৎপন্ন নার্ভ ট্র‍্যাক্টের টার্মিনাল নার্ভ ফাইভার এবং টার্মিনাল নার্ভ এন্ডিংয়ের সাপোর্টিং স্ট্রাকচার হিসেবে কাজ করে। এই নার্ভ এন্ডিংয়ে অনেক সিক্রেটরি গ্র‍্যানিউল থাকে। এরা ক্যাপিলারি সার্ফেসে থাকে এবং সেখানে দুটি হরমোন সিক্রেট করে। Supra Optic nuclei থেকে ADH তৈরী হয় এবং Paraventricular neclei থেকে Oxytocin সিক্রেটেড হয়।

যখন দুটির কোনো নিউক্লিয়াস থেকে নার্ভ ইমপালস ফাইবারে চলে আসে, তখন মুহূর্তেই সেক্রেটরি গ্র‍্যানিউল থেকে এক্সোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় হরমোন রিলিজ হয় এবং নিকটস্থ ক্যাপিলারতে Absorbed হয়। এভাবেই পোস্টেরিয়র পিটুইটারির সিক্রেশন হাইপোথ্যালামাস নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

এন্টেরিওর এবং পোস্টেরিওর পিটুইটারি থেকে ক্ষরিত হরমোনগুলোর কাজ এবং রেগুলেশন নিয়ে আবারো কোনো একদিন হাজির হয়ে যাবো আপনাদের কাছে। ঠিক ততোদিন পর্যন্ত ভালো থাকবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

বার পঠিত



আরো সংবাদ


শীতে শিশুর সুস্থতায়

শীতে শিশুর সুস্থতায়

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ১৮:২৭



চোখ যখন লাল

চোখ যখন লাল

১৩ নভেম্বর, ২০১৭ ১৯:১৮


ডিপ্রেশন ও আত্মহনন

ডিপ্রেশন ও আত্মহনন

১৩ নভেম্বর, ২০১৭ ১২:১৮

কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয়

কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয়

১২ নভেম্বর, ২০১৭ ২১:১২

হঠাৎ ঘাড় শক্ত?

হঠাৎ ঘাড় শক্ত?

১২ নভেম্বর, ২০১৭ ১৮:০৬



চিকিৎসকের কাছে রোগীর প্রস্তুতি

চিকিৎসকের কাছে রোগীর প্রস্তুতি

১০ নভেম্বর, ২০১৭ ১০:২২




High blood pressure redefined for first time in 14 years: 130 is the new high

১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১৯:৪৬


New global commitment to end tuberculosis

১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১৯:৩১


























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর