সোমবার ২০, নভেম্বর ২০১৭ - ৬, অগ্রাহায়ণ, ১৪২৪ - হিজরী



ডা. আব্দুন নূর তূষার

ঢাকা মেডিকেল কলেজ

মিডিয়া ব্যক্তিত্ব


৪৮ সেকেন্ডে রোগী দেখার স্টাডিটি কেন অগ্রহণযোগ্য

কিছুদিন আগে বি এম জে ওপেন নামের জার্নালে ছাপা হয়েছে বাংলাদেশে নাকি ডাক্তাররা গড়ে ৪৮ সেকেন্ড করে রোগী দেখেন।

১. যে কোন স্টাডি গ্রহনযোগ্য হতে হলে সেটা যে রিসার্চ পপুলেশনের উপরের করা হয় তার স্যাম্পল বা নমুনা সেই জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বশীল হতে হয় , অর্থাৎ এমন সংখ্যক জনগোষ্ঠিকে গবেষণার আওতায় আনতে হয়, যাতে গবেষণার ভুল কমে যায় এবং সেটা সঠিক চিত্র দেয়।

গবেষকরা লিখেছেন তারা দেশগুলিতে নিজেরা যান নাই বা নিজেরা গবেষণাটি করেন নাই। তারা ১১১ টা জার্নালে প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণাপত্র পড়ে তার আলোকে এই পেপারটি লিখেছেন।

এই গবেষণাগুলি ১৯৪৬ থেকে ২০১৬ এর মধ্যে করা হয়েছে। সময়কালটা চিন্তা করেন। তাহলেই বুঝবেন ১১১ টার মধ্যে কয়টা প্রাসংগিক?

২. ৬৭ টা দেশের ১১১ টা জার্নালের ১৭৮ টা লেখা দিয়ে মোট ২ কোটি অাশি লক্ষ মানুষের উপরে করা স্টাডিকে তারা নিজেরাই বলেছেন যে এটা স্টাডিটার দুর্বলতা। তারপর তারা বলেছেন এটা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এ ধরনের গবেষণা। এটা একটা পরিসংখ্যানগত ফাঁকি।

উদাহরন দিয়ে বোঝাই।

বাংলাদেশের সংবাদপত্র নিয়ে গবেষণা করে আপনি বলতে পারেন এটা পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম স্টাডি। কারন সহজ , দেশে ১৬ কোটি লোক আছে এবং সংবাদপত্রগুলি ১৬ কোটি লোককে প্রতিনিধিত্ব করে।

৩. তারা বলেছেন

Limitations of the review include the fact that differences between rural and urban, and public and private practices, were not taken into account, and the analyses rely on average consultation lengths.

As with many comparisons of international data, the associations comparing consultation length with outcome data contained a relatively small number of data points.

তারা শহর গ্রাম আলাদা করেন নাই, পাবলিক প্রাইভেট আলাদা করেন নাই, এবং আনুপাতিকভাবে খুব ছোট জনসংখ্যার ডাটাপয়েন্ট নিয়ে কাজ করেছেন।

তার মানে এই স্টাডি সংখ্যায় ও পরিসংখ্যানগত ভাবে নির্ভুল হলেও এটা সঠিক চিত্র প্রতিফলিত করে না।

৪. তারা কিন্তু সকল চিকিৎসককে এই গবেষণার অন্তর্ভুক্ত করেন নাই। তারা কেবল প্রাইমারি হেলথ কেয়ার চিকিৎসকদের এই গবেষণায় নিয়েছেন।

বাংলাদেশে প্রাইমারী হেলথ কেয়ার শুধু নয়, বরং এমনিতেই জনসংখ্যা অনুপাতে ডাক্তার কম। প্রাইমারি হেলথ কেয়ার বা প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবায় এই চিকিৎসকের পরিমান রোগীর তুলনায় আরো কম।

রোগীদের একটা বিরাট অংশ সাব অ্যাসিসটেন্ট কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারের কাছ থেকে টিকা নেয়, ইঞ্জেকশন নেয়। পরিবার পরিকল্পনা সেবা নেয় সেবা কর্মীর কাছ থেকে।

তাই যখন মোট সময়, মোট রোগীর পরিমান ও মোট চিকিৎসকের সংখ্যা দিয়ে তারা অংক করেছেন তখন রোগী প্রতি ৪৮ সেকেন্ড নয় আরো কমও হতে পারতো।

কিন্ত এই সংখ্যাটি যে ভুল সেটা প্রমান করতে রকেট সায়েন্স শেখার দরকার নাই।

দরজা খুলতে ও চেয়ারে বসতে ও বেরিয়ে যেতে একজন রোগীর ৪৮ সেকেন্ডর বেশী লাগে। দুটো ঔষধের নাম লিখতেও এর চেয়ে বেশী সময় লাগে।

ঘটনা হলো । রোগী এসেছে ৬০০। মোট ডাক্তার ১ জন। ডিউটি ৮ ঘন্টা। এবার ৬০০ জন দিয়ে ৪৮০ মিনিট কে ভাগ করলে রোগী প্রতি কতক্ষন লাগে? ৪৮ সেকেন্ড।

রোগী অনুপাতে ডাক্তার কম এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের দিয়ে প্রাইমারী হেলথ কেয়ার দেয়ার কারনে যদিও সকলেই চিকিৎসা পেয়ে বাড়ী ফিরছে, জন প্রতি সময় কিন্ত ৪৮ সেকেন্ড হয়ে যাচ্ছে। কারন গবেষণায় কেবল ডাক্তারকে নেয়া হয়েছে, আর কাউকে না।

এই গবেষণার মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা নাই। সরকারী চিকিৎসকদের বাইরে বেসরকারীরা এখানে নাই। তাই দেশের সকল চিকিৎসককে ৪৮ সেকেন্ড রোগী দেখছে বলে গালাগাল করার কোন যুক্তি নাই।

ঢাকা মেডিকেলের রি ইউনিয়নে স্বয়ং মন্ত্রী, বি এম এ সভাপতি ও বড় বড় চিকিৎসক নেতাদের উপস্থিতিতে চিকিৎসকদের গালমন্দ করেছেন।

তারা কেউ প্রতিবাদ করেন নাই। কারন তারা এটা পড়েন নাই, তাদের দরকারও নাই প্রতিবাদ করার। কারন তারা তো নেতা, ডাক্তার না।

দেশের প্রায় সকল পত্রিকায় এটা খবর হয়েছে ও ও কিছু কিছূ চ্যানেলে এই নিয়ে টক শো হয়েছে , যেখানে নামী দামী হাসপাতালের চিকিৎসকরা এসে বলেছেন , না না. ৪৮ সেকেন্ড রোগী দেখা খারাপ তবে আমাদের হাসপাতালে এটা হয় না।

আরে ভাই আপনাদের হাসপাতাল ও আপনারা তো এই গবেষণাতে অন্তর্ভুক্ত ছিলেনই না।

এবার আসেন দেখি বি এম জে ওপেন টা কি ধরনের জার্নাল।

এটাতে লেখকরা নিজেরা পয়সা দিয়ে লেখা ছাপেন।

BMJ Open is an online, open access journal, dedicated to publishing medical research from all disciplines and therapeutic areas. ........... Authors are asked to pay article-publishing charges on acceptance;

গবেষণাটি না পড়ে কেবল ৪৮ সেকেন্ড ৪৮ সেকেন্ড করে লাফালাফি করার অভ্যাসটা ভালো না।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

বার পঠিত



আরো সংবাদ

ডা. হোসনে আরা ও সিজারিয়ান প্রসঙ্গ

ডা. হোসনে আরা ও সিজারিয়ান প্রসঙ্গ

১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১০:০১















High blood pressure redefined for first time in 14 years: 130 is the new high

১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১৯:৪৬


New global commitment to end tuberculosis

১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১৯:৩১


























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর