ঢাকা      শনিবার ২০, অক্টোবর ২০১৮ - ৪, কার্তিক, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. মো: আবু শিহাব

বিসিএস (স্বাস্থ্য)

এফসিপিএস (শেষ পর্ব), মেডিসিন

এমডি (ফেইজ বি), এন্ডোক্রাইনোলজি

বিএসএমএমইউ।

 

 


ডাক্তারদের কষ্ট নিভৃতে কাঁদে

ডাক্তারদের সাফল্যের কথা গুলো কখনোই মিডিয়াতে আসবে না। এগুলো নিভৃতে কাঁদে। ছবিটি আমার মোবাইলে ২০১০ সালে উঠানো।

গাছ থেকে পাতা পাড়তে উঠে হাত পিছলে পড়ে যায় অন্য একটি ডালের উপরে। এক পাশের বগল দিয়ে ঢুকে অন্য পাশের ঘাড় দিয়ে বের হয়ে যায় ডাল। বাঁচার আশা ছেড়েই দিয়েছিল দরিদ্র এই ছেলেটি।

ই এন টি বিভাগে নাইট ডিউটিতে থাকার সময় আমার ভাগ্যে এই রোগীর সফল অস্ত্রপাচারে অংশগ্রহনের সুযোগ হয়েছিল।

প্রায় ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এর সারা রাতের নির্ঘুম পরিশ্রমের পর বেঁচে যায় ছেলেটি।

কোন মিডিয়া এই খবর ছাপায় নি। কারন এতে তাদের কোন মুনাফা নেই। আজ ল্যাপটপ ঘাটতে যেয়ে পুরাতন কিছু ছবির মাঝে চোখে পড়লো ছবিটি।

কিভাবে সম্ভব হয়েছিল এই জটিল অপারেশন টি? কারো কি কোন ধারনা আছে?

আমরা জি এ দিয়ে রোগীকে অজ্ঞান করতে পারিনি কারন ট্রাকিয়া কম্প্রেসড থাকায় ইনটিউবিশন করা সম্ভব হয়নি, ডাল টা ট্রাকিয়ার সামনে থাকায় ট্রাকিওস্টমিও করা যাচ্ছিল না।

সুতরাং লোকাল এনেস্থেশিয়া দিয়েই কাজ করতে হয়েছে আমাদের।

৩ টুকরা করে আমরা ডালটা অপসারন করি। প্রথমে ঘাড়ের বাম দিকের ডাল টুকু কেটে ফেলা হয়। এর পর ভেসেল পালপেট করে করে স্কিন ইনসিসন দিয়ে আমরা গলার সামনের অংশ এক্সপোজ করি। ভয় পাচ্ছিলাম কোন গ্রেট ভেসেল ইনজুরি হয়ে গেলেই শেষ। অনেক বেশি রিস্ক নিয়ে ফেলেছিলাম আমরা। কারণ ঢাকায় আসার মত গাড়ি ভাড়াও ছিল না দরিদ্র এই ছেলেটির। অনেক সময় নিয়ে সাবধানে আমরা গলার সামনের পুরা ডালটুকু এক্সপোজ করে ফেলি এবং ডান দিকের ঘাড় পর্যন্ত ডালের অংশটা কেটে ফেলে দিই। এখন থাকে শুধু বগল থেকে ঘাড় পর্যন্ত অংশটুকু। এক্সিলা তে ইন্সিসন দিয়ে এক্সপোজ করার পর টান দিয়ে বের করে ফেলি ডালটির বাকি অংশটুকু। হা প্রথমে বিশ্বাস না হলেও বেঁচে যায় ছেলেটি।

এই ছিল একজন দরিদ্র ছেলেকে বাঁচানোর জন্য কয়েকজন চিকিৎসক ( কসাই!) এর রাতভর পরিশ্রমের ইতিহাস।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে চান্স না পেলে এখন মেডিকেলে পড়ে!

ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে চান্স না পেলে এখন মেডিকেলে পড়ে!

মেইড ইন চায়না এখন শুধু জিনিসপত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। শুরু হয়েছে হিউম্যান রিসোর্স…

মুলারিয়ান এজেনেসিস: প্রকৃতির অবিবেচক খেয়াল ও প্রমিতির কান্না

মুলারিয়ান এজেনেসিস: প্রকৃতির অবিবেচক খেয়াল ও প্রমিতির কান্না

প্রমিতি, বয়স- ১৬। এইচএসসি ১ম বর্ষে পড়ে। প্রাণবন্ত, উচ্ছ্বল প্রজাপতির মতো। যখন কথা…

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা

ফাঁকিবাজির মহান ব্রত নিয়ে ইন্টার্নি শুরু করেছিলাম। আমি জন্মগত ভাবেই ফাঁকিবাজ। সবাই…

সব মৃত্যুই দুঃখের, সুখের কোন মৃত্যু নেই!

সব মৃত্যুই দুঃখের, সুখের কোন মৃত্যু নেই!

তখন আমি সিওমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন। মেডিসিন ওয়ার্ডে রাউন্ড দিচ্ছেন প্রফেসর ইসমাইল পাটোয়ারি…

‘বুকের ভিত্রে চ্যাংনা চ্যাঁও চ্যাঁও করে’

‘বুকের ভিত্রে চ্যাংনা চ্যাঁও চ্যাঁও করে’

ডাক্তার- আপনার সমস্যা কী? রোগী- বুকের ভিত্রে চ্যাংনা চ্যাঁও চ্যাঁও করে। ডাক্তার-…

‘তোমরা তো একদিন ডাক্তার হবে, কেন বুঝতে পারছ না খাবার খেতে দিলে তোমারই ক্ষতি?’ 

‘তোমরা তো একদিন ডাক্তার হবে, কেন বুঝতে পারছ না খাবার খেতে দিলে তোমারই ক্ষতি?’ 

বছরখানেক আগের কথা। আমার মুখে গুনে গুনে ৩৪টা এফথাস আলসার হয়েছে। একটা…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর