ঢাকা      বুধবার ২১, অগাস্ট ২০১৯ - ৫, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী



আয়েশা আলম প্রান্তী

শিক্ষার্থী, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ


ডা. তাহমিনা জাহির তাজিন : মার্কিন মুল্লুকে বাংলাদেশি মেধাবী চিকিৎসক

গল্পটা একজন নারী চিকিৎসকের। যিনি এমবিবিএস পাশ করার  ৩ বছরের মধ্যে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাশ করে ফেলেছেন আমেরিকার চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার পরীক্ষা ইউএসএমএলি। শুনে নেয়া যাক, এই নারী চিকিৎসকের দেশে ও বিদেশে  এত অল্প বয়সে এই সফলতা ও সফলতার পেছনের কাহিনী তার কাছ থেকে

 ডা. তাহমিনা জাহির তাজিন ভিকারুননিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২০০৫ সালে  এসএসসি ও ২০০৭ সালে এইচএসসি পাশ করেনবাবা মোহাম্মদ আবদুল জাহির ও মা রাহেলা চৌধুরির একমাত্র মেয়ে ডা. তাজিনবাকি দুই ভাই মোহাম্মদ কবির ও জাহাঙ্গীর কবির দুইজনেই পেশায় চিকিৎসক ও আমেরিকাতে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন।  বড় দুই ভাই এর অনুপ্রেরনা ও বাবার ইচ্ছাতেই ডা.তাজিন ২০০৮ সালে ভর্তি  হোন হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেএইচ এফ ৯ এর ব্যাচ ছিলেন তিনিমেডিকেল এর কঠিন পড়াশোনার জীবনটা সব করেছেন তিনিপড়াশোনা, বন্ধুদের সাথে আড্ডাআশিক, সিফাত, অভি, ঐশি এদের কথা না বল্লেই নয়

 

ডা. তাজিন মেডিকেলে পাশ করলেন ২০১৩ সালের জুলাই মাসে।  শুরু করলেন হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের ইন্টার্নশিপহাসপাতালে কাজ শেখা আর রোগী দেখার ফাঁকে শুরু করলেন মায়ের অনুপ্রেরণায় সংবাদ পাঠিকার কাজ

২০১১ সালে এটিএন নিউজে সংবাদ পাঠিকা হিসেবে যোগদান করেনপ্রতিদিন হাসপাতালের ডিউটি আর টিভির সংবাদ পাঠ, এভাবেই চলছিলো দিনগুলো। 

১১ মাসের ইন্টার্নশিপ শেষে ইচ্ছা পোষন করলেন আমেরিকাতে স্থায়ী হবেন দুই ভাই এর সাথেকিন্তুু বাংলাদেশী এম বিবিএস হলেই আমেরিকাতে চিকিৎসক হওয়া যায় নাএজন্য আপনাকে পাশ করতে হবে আমেরিকার এমডি ইউএসএমএলি পরীক্ষাতিন ধাপে এ পরীক্ষা হয়স্টেপ ১, ২ ও ৩ডা. তাজিন কঠিন পরিশ্রম শুরু করলেন

 

আমেরিকাতে ভাইয়ের বাসায় থেকে পড়েছেনপ্রথম চার মাস কাপ্লান পড়েছেন ও পরের ৬ মাস  গভীর মনোযোগ দিয়ে সব লেকচার ও ভিডিও দেখেছেনকঠোর পরিশ্রম করলেন আর ফলাফল হিসেবে পাশ করলেন স্টেপ ১ ইউএসএমএলি আগষ্ট ২০১৫ তেস্টেপ ২ পরীক্ষায় দুটি ধাপ থাকে  সিকে, সিএসঅক্টোবর ২০১৫ থেকে এপ্রিল ২০১৬ পর্যন্ত প্রতিদিন ৯-১০ ঘন্টা করে পড়েছেন নিয়মিত। পাশ করে ফেলেন দক্ষতার সাথে স্টেপ ২ ইউএসএমএলি ২০১৬ সালের মে মাসে সিকে ও  জুলাই ২০১৬ তে সিএস পাশ করেন

 ব্যাস দীর্ঘ দিনের পরিশ্রমের ফলে ডা: তাজিন শুরু করতে পারলেন আমেরিকাতে হাসাপাতালে কাজ শিখা ও রোগী দেখার  সুযোগ, পেলেন রেসিডেন্সি২৯ নভেম্বর ২০১৬ থেকে তিনি যোগদান করেন আমেরিকার  কুইনসে জামাইকা হাসপাতাল ও মেডিকেল সেন্টারেহাসপাতালে রোগী দেখা, কাজ শেখা আর পড়াশোনা, এভাবে ২০১৭ সালের মে মাসে ডা. তাজিন পাশ করে যান স্টেপ ৩ ইউএসএমএলি পরীক্ষা।  মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি কাজ করছেন আমেরিকাতে রেসিডেন্সি চিকিৎসক হিসেবেকাজ করেছেন  এল্মহার্সট হাসপাতালউইনথ্রব ও মেট্রোপলিটন হাসপাতালে।  আর এখন বর্তমানে কর্মরত আছেন এনওয়াইসি কুইনসে অবস্থিত " জামাইকা হাসপাতাল ও মেডিকেল সেন্টার " । 

এত অল্প বয়সে সফলতার রহস্য কি জানতে চাইলে ডা. তাজিন বলেন, " উদ্দেশ্য ছিলো যত কম বয়সে যত তাড়াতাড়ি নিজেকে ভালো চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলা যায়২০১৪ থেকে  ২০১৭ কঠোর পরিশ্রম করেছিকোথাও যায়নি, কিছু করিনি, এমনকি ফেসবুকেও বসতাম নাসময়টাকে খুব ভালো ভাবে ব্যাবহার করতে চেষ্টা করেছি আর খুব পড়াশোনা করেছিআলহামদুলিল্লাহ আমি পেরেছি কিছুটা হলেও"

 

 

যারা ডা. তাজিনের মতো হতে চান তাদের জন্য ডা. তাজিনের পরামর্শ ইন্টার্নশিপ শেষ হওয়ার ২-৩ বছরের মধ্যে খুব চেষ্টা করতেআর প্রথম চেষ্টাতে সবচেয়ে ভালো স্কোর তুলতে চেষ্টা করাকারণ ইউএসএমএলিতে বয়স, পাশ করার বছর এ সব কিছু গুরুত্বপূর্ণআর কোন সময় নষ্ট করা যাবেনাসময়ের সঠিক ব্যাবহার করতে হবেতাহলেই কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে সফল হওয়া সম্ভব

মাত্র ২৭ বছর বয়সী এ নারী চিকিৎসকের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হওয়া ও আমেরিকাতে ববসবাসরত বাঙালিদের বিনা পারিশ্রমিকে সেবা দেয়া, তাদের পাশে থাকাভবিষ্যতে সুযোগ পেলে দেশের জন্য কিছু করতে চান এ মেধাবী

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর