ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১৪ মিনিট আগে


১৩ নভেম্বর, ২০১৭ ১২:১৮

ডিপ্রেশন ও আত্মহনন

ডিপ্রেশন ও আত্মহনন

একজন মানুষের শারীরিক মানসিক কর্মক্ষমতা মারাত্মক কমিয়ে দেয় যে কয়েকটি রোগ তার মধ্যে ডিপ্রেশন অন্যতম। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় তিনশ মিলিয়ন (১মিলিয়ন=১০ লাখ) ডিপ্রেশন এর রোগী রয়েছেন। একটি গবেষনায় দেখা গেছে প্রতি ৫ জনের ১ জন মানুষ কোন না কোন ধরনের ডিপ্রেশন বা এনজাইটিতে ভুগেন।

অনেক ক্ষেত্রেই পারিবারিক বা সামাজিক সম্পর্কের অবনতি ডিপ্রেশন বা এনজাইটির জন্যে হয়ে থাকে, যা অনেকেরই অজানা। আবার উল্টো টি হয়। পারিবারিক বা সামাজিক টানাপোড়েন থেকেই অনেক সময় মানুষ ডিপ্রেশনে ভুগেন।

ডিপ্রেশনের ভয়াবহ দিকটি হচ্ছে ডিপ্রেশনের রোগীরা নিরবে নিভৃতে আত্মহত্যা করে বসে। বিশ্বের ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুন তরুণী দের আত্মহত্যার প্রধান কারণ ডিপ্রেশন।

বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৮ লাখ পুরুষ ও মহিলা, ছেলে মেয়ে আত্মহত্যা করে- যা যে কোন যুদ্ধে নিহতের চেয়েও বেশী। এ হিসাবে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে ১ জন নারী বা পুরুষ একটি আত্মহত্যা করছে।

ডিপ্রেশন বেশী দেখা যাচ্ছে মধ্য ও নিম্নআয়ের দেশগুলোতে। ডিপ্রেশনে মহিলারা বেশী ভুগেন। অনেকক্ষেত্রে ডিপ্রেশন থেকে ডায়াবেটিস ও হাইপ্রেশার হয়ে থাকে।

ডিপ্রেশন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অনেক ক্ষত্রে বৃদ্ধ, শিশু কিশোর এমনকি সন্তান প্রসবের পর মায়েদের ও ডিপ্রেশন দেখা দেয় এবং তা থেকে তারা আত্মহত্যা করেন।

আমাদের দেশে কীটনাশক ও গলায় দড়ি পেঁচিয়ে এবং আমেরিকা বা ইউরোপে পিস্তল শুটিং এ বেশীর ভাগ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশের শতকরা ১৮ থেকে ২০ ভাগ মানুষ কোন না কোন প্রকারের ডিপ্রেশন বা এনজাইটিতে ভুগছেন যাদের পরিবারের অনেকে হয়তো জানেনই না যে, তারা ডিপ্রেশন এর রোগী, চিকিৎসা তো দুরের কথা। তবে আমার মতে সংখ্যাটা আরো বেশী এবং তা অনেকটা "টিপ অব দা আইসবার্গ" এর মতো।

বিশ্বের অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি ডিপ্রেশনের রোগী হওয়া সত্বেও সাইকিয়াট্রিস্ট এর চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং এ ডিপ্রেশনকে কাটিয়ে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে রয়েছে। তাদের মধ্যে আব্রাহাম লিংকন, চাঁদে ভ্রমণকারী এডুইন অলড্রিন, আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, উইস্টন চার্চিল, বিখ্যাত "হেরি পোর্টার" এর লিখিকা জে কে রওলিং, গ্রেমী এওয়ার্ড খেতাব প্রাপ্ত গায়িকা শেরিল ক্রো, যুক্তরাষ্ট্রীয় সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোরের স্ত্রী টিপের গোর নাম উল্লেখযোগ্য।

মার্কিন নভোচারী অলড্রিন এর দাদা দাদি ও ডিপ্রেশনের রোগী ছিলেন যারা এ নিয়ে আত্মহত্যা করেন এবং হেরি পোর্টার এর লেখিকা রোলিং একসময় ডিপ্রেশন এর জন্যে মাঝেমধ্যে আত্মহত্যার কথা ভাবতেন। তবে তারা নিয়মিত সাইকিয়াট্রিস্ট সাথে আলোচনা করেন।

ডিপ্রেশন এর রোগীদের প্রতি সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিন, তাদের সাথে আলাপ করুন, গল্প করুন তাদের চিকিৎসায় যথাযথ পদক্ষেপ নিন। নানান প্রকারের কার্যকরী এন্টিডিপ্রেসেন্ট ড্রাগ এবং সাইকোথেরাপি, কাউন্সেলিং-এর মাধ্যমে একজন সাইকিয়াট্রিস্ট ডিপ্রেশনের রোগীকে সম্পুর্নরূপে সুস্থ করে তুলতে পারেন।

ডিপ্রেশনের প্রধান কিছু লক্ষণঃ

১) সারাক্ষণ মন মরা হয়ে থাকা

২) কিছুতেই উৎসাহ না পাওয়া

৩) ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা

৪) রুচির তারতম্য হওয়া

৫) ওজনের তারতম্য হওয়া 

৬) কাজ কর্মে শক্তি না পাওয়া

৭) সব কিছুতেই মনোযোগ হারিয়ে ফেলা

৮) ভুলে যাওয়া

৯) মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া

১০) নিজেকে অপাংক্তেয় মনে করা

১১) সারাক্ষণ অপরাধ বোধ 

১২) আত্মহত্যার কথা ভাবা বা চেষ্টা করা

টানা দু' সপ্তাহ বা তারও অধিক সময় এই লক্ষণগুলোর কমবেশি থাকা।

সারাবিশ্বে ক্রমবর্ধমান ডিপ্রেশনের এই ভয়াবহতা উপলব্ধি করেই এ বছরের ৭ই এপ্রিল (২০১৭) বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের স্লোগান করা ছিলো "ডিপ্রেশনঃ লেট'স টক" অর্থাৎ "আসুন, ডিপ্রেশন নিয়ে আলোচনা করি"। 

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত