রিয়াদ মুনতাসির

রিয়াদ মুনতাসির

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ


১২ নভেম্বর, ২০১৭ ০৯:১২ পিএম

কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয়

কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয়

কোলন ক্যান্সার সাধারাণত large intestine এর ক্যান্সার এবং রেক্টাল ক্যান্সার সাধারনত মলদ্বারের ক্যান্সার নামে পরিচিত। একসাথে বলা হয় কলরেক্টাল(colo-rectal) ক্যান্সার। কোলন ক্যান্সার অধিকাংশ ক্ষেত্রে এডিনোমাটোস (adinomatous) পলিপ হিসাবে শুরু হয়। কিন্ত সময়ের সাথে সাথে কিছু পলিপ কোলন ক্যান্সার এ রুপ নেয়। সঠিক স্ক্রিনিং এর মাধ্যমে পলিপ ক্যান্সার এ পরিবর্তিত হবার পূর্বেই সনাক্ত করা যায়, বিধায় কোলরেক্টাল ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। কোলন ক্যান্সার আক্রান্ত অধিকাংশই পঞ্চাশোর্ধ।

Clinical Features:

★পায়ুপথে রক্ত ক্ষরণ বা মলের সাথে রক্ত ফোটা দেখতে পাওয়া।
★ মল ত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তন। মলের রঙ গাঢ় লাল বা কালচে হওয়া।(Altered bowel habits) 
★ নীচের পেটে কামড়ানো ব্যাথা।(lower abdominal pain)
★দূর্বলতা অনুভব করা।(weakness)
★ কোন কারণ ছাড়া অত্যাধিক ওজন কমা।(loss of weight with unknown etiology.

কোলন ক্যান্সারের ঝুকিপূর্ণ বিষয় সমূহ/Risk factors:

★ বয়স

সাধারণত পঞ্চাশ বছর পার হলে এ রোগের ঝুকি বাড়তে থাকে। কারণ বেশীরভাগ রোগীদের ক্যান্সার সনাক্ত হবার বেশ কয়েক বছর আগে থেকে কোলনে পলিপ (যা ক্যান্সার নয়) হয়ে থাকে। পরবর্তিতে তা ক্যান্সারে রুপ নিতে থাকে।

★খাদ্যাভ্যাস/Dietary Habit:

অতিমাত্রায় চর্বি জাতিয় খাদ্য বিশেষ করে গরু, খাসির মাংস, বিরিয়ানি, ফাস্ট ফুড, কার্বোনেটেড ড্রিংক্স ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস। পাশাপাশি যদি আঁশ জাতীয় খাবার যেমনঃ শাক-সবজী,তরকারী, ফল ইত্যাদি খাবার কম খাওয়া।

★Family history:

রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়দের কোলন ক্যান্সার থাকলে নিজেরও ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুকি থাকে। কিংবা অন্যান্য ক্যান্সার হয়ে থাকলেও আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। পুর্বে ইনফ্লাম্যাটোরী বাওল ডিজিজ যেমন আলসারেটিভ কোলাইটিস, ক্রনস ডিজিজ হয়ে থাকলে কোলন ক্যান্সারের ঝুকি বাড়ে।

★Life style:

শারীরিক পরিশ্রম কম করলে অথবা অলস জীবন যাপন করলে এবং অতিরিক্ত ওজন বেড়ে গেলে কোলেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া এলকোহল এবং ধুমপান করলে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি আরো বেশী হয়।

কোলন ক্যান্সার স্ক্রিনিং:

বয়স বাড়ার সাথে সাথে কোলন ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। আপনার যদি কোলোন ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে থাকে, তাহলে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। বিভিন্ন স্ক্রিনিং পরীক্ষা পলিপ বা কোলরেক্টাল ক্যান্সার সনাক্তকরনে ব্যাবহার করা হয়ে থাকে। প্রতিটি একে অপরের সাথে একযোগে অথবা কখনো কখনো একা ব্যাবহার করা হয়। কোলন ক্যান্সার সনাক্তকরণে নিম্নোক্ত স্ক্রিনিং সমুহ করা হয়ে থাকে।

· ফিকাল অকাল্ট ব্লাড টেস্ট
· সিগময়েডস্কপী
· কোলনস্কপী
· ডাবল কন্ট্রাস্ট বেরিয়াম এনেমা
সবার জন্য সকল পরীক্ষা suitable নাও হতে পারে।

Treatments:

কোলন ক্যান্সারের চিকিৎসার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদ্ধতি সমুহ নির্বাচন করা হয়ে থাকে।
· কেমোথেরাপি
· রেডিওথেরাপি
· সার্জারি
কোলন ক্যান্সার কোন stage এ আছে তা দেখে চিকিৎসা পদ্ধতি নির্বাচন করা হয়।

How to prevent/কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয় বিষয় সমুহ:

· আপনার যদি কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে থাকে, তাহলে ৫০ বছর থেকে এবং উচ্চ ঝুঁকি থাকলে ৫০ বছরের পুর্বেই স্ক্রিনিং আরম্ভ করুন।
· স্বাস্থ্যকর খাদ্য অর্থাৎ আঁশ জাতীয় খাবার যেমন শাক-সবজী, তরকারী, ফল খাওয়ার অভ্যাস করা।
· উচ্চ চর্বি যুক্ত খাবার, লাল মাংস, ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলা।
· নিয়িমিত ব্যায়াম Colorectal ক্যান্সার এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি কমাতে পারে। তাই সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন ৩০ মিনিট করে হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন।
· শরীরের ওজন শরীরের উচ্চতা অনুযায়ী স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করুন। পেটে যেন মেদ না জমে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
· ধূমপান এবং অ্যালকোহল কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এগুলো পরিহার করুন।

সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা

অতিরিক্ত বেতন নিচ্ছে একাধিক বেসরকারি মেডিকেল

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে