তাশহীদ মোহাম্মদ

তাশহীদ মোহাম্মদ

শিক্ষার্থী, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ


১২ নভেম্বর, ২০১৭ ০৫:১৩ পিএম

দ্যা ডিসেকশন অব ড্রাকুলা

দ্যা ডিসেকশন অব ড্রাকুলা

বইয়ের পাতায় দৃষ্টি নিবদ্ধ, একাগ্রচিত্তে কি যেনো পড়ছেন ডা. রিবন। গবেষণাগারে কাজের ফাঁকে বই পড়ার সময় পাওয়া যায় না। একটু অবসর পেতেই লাইব্রেরি থেকে বইটা নিয়ে পড়তে বসেছেন। ডা. রিবনের দিকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে কৌতুহল দমাতে পারলেন না ডা. পিয়েরে এন্টেনিউ। উঠে গিয়ে পিছনে দাড়ালেন। কারো উপস্থিতি টের পেয়ে যেনো বাস্তবে ফিরে এলেন ডা. রিবন। মাথা ঘুরিয়ে স্মিতহাস্য ডা. পিয়েরেকে দেখলেন তিনি।

কিছুটা বিরক্তি নিয়েই বললেন- 

- কিছু বলবেন ডাক্তার? 

- না, তেমন কিছু না। এতো আগ্রহ নিয়ে কি পড়ছেন? 

- বইটা বেশ ইন্টারেস্টিং। ক্যাসেল ড্রাকুলা নিয়ে লিখা। আচ্ছা, আপনি ক্যাসেল ড্রাকুলা সম্পর্কে কি জানেন, বলেন তো? 

- ক্যাসেল ড্রাকুলা? এ আবার কি জিনিস? 

নিজের রসিকতায় নিজেই হেসে উঠলেন ডা. পিয়েরে এন্টেনিউ। ডা. রিবনের বেশ জুনিয়র তিনি। কয়েকবছর আগেই যোগ ফিয়েছেন ডা. রিবনের সহকারী হিসেবে। স্বাভাবিকভাবেই ক্যাসেল ড্রাকুলা সম্পর্কে তার জানার কথা না।

ডা. রিবনের কপালে গভীর চিন্তার ভাজ দেখে হাসি থামিয়ে দিলেন ডা. পিয়েরে। বুঝতে পারলেন বিষয়টা সিরিয়াস।

ওদিকে ডা. রিবনের মাথায় চলছে চিন্তার ঝড়। তিনি কিছুতেই মেলাতে পারছেন না। কয়েকদিন আগেই এক সহকর্মীর কাছে ক্যাসেল ড্রাকুলার কথা শুনেছিলেন। তার কাছে সব আজগুবি মনে হয়েছিলো। স্রেফ হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। আজ এই বই পড়তে গিয়ে রীতিমত অবাক হচ্ছেন তিনি। তাহলে কি ক্যাসেল ড্রাকুলা বলতে আসলেই কিছু আছে? বইটা শেষ করলেই হয়তো সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তার। তাই ডা. পিয়েরের কাছ থেকে বইয়ের দিকে আবার মনোযোগ নিবদ্ধ করলেন তিনি।

মধ্যরাতের ট্রেনে ট্রান্সসিলভানিয়া যাচ্ছেন ডা. রিবন ও ডা. পিয়েরে। বিকেলে যখন জানতে পারলেন যে, ক্যাসেল ড্রাকুলা বলতে আসলেই কিছু একটা ছিলো, তখনই এদের অবস্থান সম্পর্কে খোজ লাগিয়েছিলেন ডা. রিবন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর এটুকু ধারণা পেয়েছেন তিনি যে ট্রান্সসিলভানিয়ার আশেপাশে কোথাও ক্যাসেল ড্রাকুলার অবস্থান ছিলো। তাই রাতের ট্রেনেই ট্রান্সসিলভানিয়া যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

অনেক খোঁজাখুঁজির পর ক্যাসেল ড্রাকুলার লোকেশন সম্পর্কে একটা ধারনা পাওয়া গেল। ট্রান্সসিলভেনিয়ার কাছাকাছি কোথাও এটি হবে।

ডা. রিবন এবং ডা. পিয়েরে ট্রান্সসিলভেনিয়ায় পৌছে একটি হোটেলে উঠলেন। ম্যানেজারের কাছ থেকে জানতে পারলেন, এলাকার লোকজন কমবেশি সবাই ক্যাসেল ড্রাকুলার অবস্থান জানেন।

লোকজনের সাহায্য নিয়ে ডা. রিবন ক্যাসেলে পৌছালেন। ক্যাসেলে পৌছে সাথে সাথেই তিনি প্রাসাদ দেখার কাজে লেগে গেলেন। প্রাচীন আমলের বেশ কিছু নিদর্শন লক্ষ্য করলেন তিনি। কিন্তু তার মনে অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছিলো। কারণ, যে উদ্দেশ্যে আসা তার এখনো কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। দেখতে দেখতে বেসমেন্টে একটি পারিবারিক কবরস্থান সন্ধান পেলেন ডা. পিয়েরে। একটি কবরে তার চোখে আটকালো, কবরের সামনে লিখা ছিলো "কাউন্ট ড্রাকুলা"।

ডা. রিবনকে ডেকে দেখালেন তিনি। কবর খোড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন ডা. রিবন। কবর থেকে তোলা হল ড্রাকুলার মৃতদেহ। মূল শহর থেকে ক্যাসেলের রাস্তাটি সুবিধাজনক নয় বলে ক্যাসেলেই ডিসেকশন শুরু হল। পূর্ব থেকে ঠিক করা আরেকদল বিজ্ঞানী ক্যাসেলে পৌছে পরীক্ষা শুরু করলেন।

সাধারন মানুষকে যেভাবে ব্যবচ্ছেদ করা হয়, সেভাবেই ব্যবচ্ছেদ শুরু করা হল। skin, superficial fascia, deep fascia পর্যায়ক্রমে সরানো হল। ভিতরের হাড়গোড় ও পেশীর বিন্যাস মানুষের মতই। কিছু কোষ পাঠানো হল ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য।

মুখের এক্সপেরিমেন্টে মানুষ থেকে অনেক পার্থক্য দেখা গেল। ক্যানাইন দাঁতগুলা প্রায় চার সেন্টিমিটার লম্বা, দাঁতের অগ্রভাগে চোষক জাতীয় কিছু একটা পাওয়া গেল। লালাগ্রন্থিও মানুষ থেকে ভিন্নতর। ২ জোড়া লালাগ্রন্থি ও এক জোড়া অন্য জাতীয় গ্রন্থি পাওয়া গেল, যেগুলোর নি:সরণে মিউকাসের সাথে কিছু জীন উপস্থিত। জীনগুলা পরীক্ষা করে দেখা গেল, তাতে প্রচুর পরিমান mRNA উপস্থিত। ড্রাকুলা যখন কারো থেকে রক্ত চোষে তখন দাঁত দিয়ে তৈরী ছিদ্র দিয়ে এই mRNA গুলো বডিতে প্রবেশ করে, যেগুলা পোষকদেহে ড্রাকুলার DNA রেপ্লিকেশন করে। কাজের একপর্যায়ে হঠাৎ একজন বিজ্ঞানীর হাত কেটে কিছু রক্ত ড্রাকুলার মুখে পড়ল। বিষয়টাকে কেউ তেমন একটা গুরুত্ব দিল না। পৌষ্টিকনালীতে অনেক অজানা জিনিস দেখা গেল। পৌষ্টিকনালি পায়ুপথে উন্মুক্ত না হয়ে হৃদপিন্ডে উন্মুক্ত। পাকস্থলীর পরিবর্তে রয়েছে ক্রপ। হৃদপিন্ডে চারটি প্রকোষ্ঠের পাশাপাশি দুটি উপপ্রকোষ্ঠ পাওয়া গেল যেগুলোর সাথে পৌষ্টিকনালি মিশেছে।

স্বরতন্ত্রীতে টিউনিং ফর্ক জাতীয় কিছু একটা পাওয়া গেল, যেগুলা অনেক হাই ফ্রিকোয়েন্সি তৈরী করতে পারে। এগুলা দিয়েই ড্রাকুলা বাদুড়দের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করতো।

হাত ও পায়ে ধমনিগুলা বেশ শক্ত, স্নায়ুসংযোগও বেশি, পেশিতন্তুগুলাও অনেক মোটা। এসব দেখে বুঝা যাচ্ছে কত শক্তিধর ছিলো ড্রাকুলা।

অনেক চেষ্টা করেও করোটি আলাদা করা গেল না, যার ফলে মস্তিষ্ক গবেষনা সম্ভব হলো না। সব ধরনের ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করেও তা সম্ভব হলো না।

ল্যাব থেকে ড্রাকুলার কোষ সম্পর্কিত রিপোর্ট ইতোমধ্যে এসে পড়েছে। প্রতিটি কোষে নিউক্লিয়াস অনেক, যার কারনে ড্রাকুলার রিজেনারেশন পাওয়ার অত্যন্ত বেশি। জীনে ব্যাপক মিউটেশন ঘটেছে। বাদুড়ের জীনও পাওয়া গেল, ব্রাজিলীয়ান ভ্যাম্পায়ার বাদুড়ের জীন। ব্যবচ্ছেদ কাজ এতটুকুতেই সমাপ্ত করা হলো। অনেক রহস্য উদঘাটিত হয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা স্বস্তির নি:শ্বাস ফেললেন।

প্রাসাদ ত্যাগ করার সময় হঠাৎই ছাদের মধ্যে কিছু একটা চোখে পড়ল ডা. রিবনের। দূর থেকে চাঁদের আবছা আলোয় স্পষ্ট না হলেও লম্বা ক্যানাইন দাঁতগুলা বুঝা যাচ্ছে। দৌড়ে বিজ্ঞানীরা সবাই বেসমেন্টে ড্রাকুলার কফিনের কাছে গেলেন। কফিন খোলা, ড্রাকুলা নেই!

শহরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ড্রাকুলা। মুখে ফুটে উঠছে রাগের অভিব্যাক্তি। এতোদিন পর প্রাণ ফিরে পেয়ে যেনো উন্মাদ হয়ে উঠেছে প্রাণিটি। ঝড়ের গতিতে ছুটছে। এদিকে ডা. রিবনের কপালে চিন্তার ভাজ। নিজের অতি উৎসাহে করা এক্সপেরিমেন্টই কি তাহলে কাল হয়ে দাড়ালো মানবজাতির জন্য?

ড্রাকুলা কিভাবে জেগে উঠলো কিছুতেই ভেবে উঠতে পারছেন না ডা. রিবন। কারণ, ড্রাকুলার শরীরে রক্ত প্রবেশ ব্যাতীত ওর বেঁচে উঠার সম্ভাবনাই নেই। তাহলে কি! তড়িৎগতিতে ছুটে গেলেন ডা. পিয়েরের কাছে। জানতে চাইলে ডা. পিয়েরে কাচুমাচু করে বললেন, ড্রাকুলার মুখ পরিষ্কার করার সময় ক্যানাইন দাঁতের কোণায় লেগে তার হাতের আঙ্গুল কেটে গিয়েছিলো। সেখান থেকে এক ফোটা রক্ত ড্রাকুলার মুখে চলে গিয়েছিলো। কিন্তু, বিষয়টি তিনি ভয়ে কাউকে জানাননি। ভেবেছিলেন, কিছুই হবে না। একথা শুনে উপস্থিত বাকি বিজ্ঞানীরা ক্ষেপে উঠলেন। এতো মারাত্মক একটা তথ্য কেনো তিনি আগে জানাননি। তাহলে হয়তো সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া যেতো। লজ্জায়, অপমানে মাথা হেট হয়ে গেলো ডা. পিয়েরের। নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়ে বারান্দার দিকে চলে গেলেন তিনি। ডা. রিবন সবাইকে শান্ত করলেন। তারপর বললেন, মানবজাতির ক্রান্তিকালে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া না করি। এতে কোনো সুফল বয়ে আনবে না। বরং, এই সমস্যা মোকাবেলায় আমাদের সবার এখন একাত্ম হয়ে কাজ করা উচিৎ। আর অবশ্যই সবাই সাবধান থাকবেন। যেকোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা আমাকে জানাবেন। পাশাপাশি তিনি এই সমস্যা মোকাবেলার জন্য দশ সদস্যের একটি টীম গঠন করলেন, এবং সবাইকে তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিলেন।

রেডিওতে ড্রাকুলা নিয়ে ব্রেকিং নিউজ চলছিলো। শোনা যাচ্ছিলো ড্রাকুলার একের পর এক আক্রমণে মানুষের আক্রান্ত হওয়ার কথা। আক্রান্ত মানুষগুলোর মাধ্যমে অন্যরাও আক্রান্ত হচ্ছে। দেশজুড়ে ইমার্জেন্সী এলার্ট এবং কারফিউ জারি করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই সেনাবাহিনীর একটি স্পেশাল টীম ড্রাকুলাকে বন্দি করতে কাজে নেমে পড়েছে। ল্যাবরেটরিতে সব বিজ্ঞানীরা জড়ো হয়েছেন। যেখানে ড্রাকুলার ব্যবচ্ছেদ করা হয়েছিলো, সেখান থেকে ব্লাড স্যাম্পল গুলা কালেক্ট করা হলো। ডা. পিয়েরে জানতেন ড্রাকুলা দিনের আলোয় লুকিয়ে থাকে। তাই যা করার রাতের মধ্যেই করতে হবে। খবর পাওয়া গেলো, সেনাবাহিনী কিছু আক্রান্ত ব্যাক্তিকে জীবিতাবস্থায় আটক করতে সক্ষম হয়েছে। ডা. পিয়েরে তাদেরকে দ্রুত ল্যাবে নিয়ে আসতে নির্দেশ দিলেন। এদিকে ড্রাকুলার ব্লাড নিয়ে পরিক্ষা নিরিক্ষা শুরু হলো। উদ্দেশ্য ড্রাকুলার প্রতিষেধক এন্টিবডি তৈরী করা।

রক্তের সিরাম আলাদা করা হলো। আশ্চর্যজনক ব্যাপার ঘটলো তখন। সিরাম আলাদা করার সাথে সাথেই বাস্প হয়ে উড়ে গেলো। ডা. রিবন বুঝলেন আলোর উপস্থিতির কারণেই এমন হচ্ছে। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে আল্ট্রা ভায়োলেট আলোর মধ্যে আবার পরিক্ষা শুরু করলেন। এবারে সিরাম আলাদা করলেন এবং তা থেকে এন্টিবডি তৈরী এবং একটি এন্টিডোট তৈরী করলেন।

যখন এসব পরিক্ষা নিরিক্ষা চলছিলো তখন ডা. পিয়েরে অনুপস্থিত ছিলেন। ডা. রিবন বিষয়টি খেয়াল করেননি। স্বভাববশত ডাকতে গিয়ে খেয়াল করলেন ডা. পিয়েরে নেই। বেশ কয়েকবার ডেকেও আশেপাশে থেকে সাড়া না পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়লেন ডা. রিবন। ল্যাবের চারদিকে খুজেও ডা. পিয়েরেকে পাওয়া গেলোনা। তৎক্ষণাৎ বিষয়টা পুলিশকে জানালেন ডা. রিবন। পুলিশ হোটেলে ডা. পিয়েরের রুমে তল্লাশী চালালো। তারা রুম থেকে ডা. পিয়েরের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করলো। পাশে একটি চিরকুটে লিখা ছিলো-

"মানবজাতির এই কঠিন বিপদের জন্য আমিই দায়ী। তাই নিজের পাপের ফল অন্যকে ভোগ করতে দেখার আগেই বিদায় নিচ্ছি। জানি, কেউ ক্ষমা করবেনা। তবু এটুকুই শান্তনা আমার এই মুখ আর কাউকে দেখতে হবেনা।"

নিজের অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহকারীকে এভাবে হারিয়ে ব্যথিত হলেন ডা. রিবন। কিন্তু ভেঙ্গে পড়লেন না। তিনি পণ করলেন, মানবজাতিকে এই বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেই বন্ধুর পাপের প্রায়শ্চিত্ত করবেন তিনি।

সেনাবাহিনী কর্তৃক আটককৃত লোকগুলোর উপর প্রস্তুতকৃত এন্টিডোট পুশ করা হলো। কিন্তু, কোনো সুফল পাওয়া গেলোনা। বরং তারা যেনো আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলো। তাদের বডি থেকে ব্লাড কালেক্ট করে দেখা গেলো ড্রাকুলার স্যালাইভা আর মানুষের রক্তের মিশ্রণে তাদের দেহে স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ গুণ বেশি এন্টিবডি রয়েছে যা এন্টিডোট পুশ করার সাথে সাথেই একে নিউট্রালাইজ করে ফেলছে। বিজ্ঞানীরা পড়লেন ভীষণ বিপদে। সবাই যখন কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না, তখন একটি চিন্তা আসলো ডা. রিবনের মাথায়। ডা. ব্রুসের সাথে আলাপ করলে কেমন হয়। ডা. ব্রুস হচ্ছেন বিশ্বসেরা একজন ডাক্তার এবং মেডিকেল সাইন্টিস্ট। তিনি নিশ্চয়ই কোনো সমাধান দিতে পারবেন। যেই ভাবা সেই কাজ। ভিডিও কনফারেন্সে আলাপ শুরু হলো দুই বিজ্ঞানীর। সবশেষে সিদ্ধান্ত হলো যে, যেহেতু ড্রাকুলার ডিএনএ মানুষের দেহে প্রবেশ করার ফলে মানুষ অস্বাভাবিক আচরণ করছে, তাই সিরামের সাথে রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেজ যোগ করে দেওয়া হোক। সেই অনুযায়ী ডা. রিবন সিরামে পরিবর্তন এনে আবার ইনজেক্ট করলেন। কিন্তু, বিধিবাম! তাতেও কোনো কাজ হলোনা। কারণ পাওয়া গেলো, বিপুল পরিমান এন্টিবডি এন্টিডোটকে কাজ করার জন্য ন্যুনতম সময়ও দিচ্ছেনা। আবারও চিন্তায় পড়ে গেলেন বিজ্ঞানীরা। এবারও ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হলেন ডা. রিবন। তিনি বললেন, আমরা যদি এন্টিবডিকে নিস্ক্রিয় করতে পারি তাহলেই কেবল এন্টিডোট কাজ করার সময় পাবে।

এন্টিবডি ইনহিবিটর দিয়ে কাজ শুরু হলো। এন্টিবডি ইনহিবিটর অস্থায়ীভাবে কিছুক্ষণের জন্য এন্টিবডিকে নিস্ক্রিয় করবে। প্রায় সাথে সাথেই এন্টিডোটও প্রবেশ করানো হলো। রোগী শকে চলে গেলো। এন্টিডোট কাজ করার জন্যই রোগী শকে চলে গিয়েছে। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরে এলে রোগিটি প্রচুর বমি করতে শুরু করলো। বমি শেষ হওয়ার পর দেখা গেলো লোকটি সম্পূর্ণ সুস্থ। উপস্থিত সবার মুখে হাসি ফুটে উঠলো। বিজয়ের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়লো। মিডিয়াকর্মীদের জানিয়ে দেওয়া হলো যে তারা ড্রাকুলার প্রতিষেধক আবিষ্কার করে ফেলেছেন। মুহূর্তের মধ্যে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লো খবরটি।

ইতোমধ্যেই ড্রাকুলাটি সেনাবাহিনীর স্পেশাল টীমের হাতে ধরা পড়লো। তাকে ধরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আবারো ল্যাবে নিয়ে আসা হলো। সবাই নিজেদের নিরাপত্তার জন্য পারসোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্টস পরে নিলেন। তারপর ড্রাকুলাকে নিস্তেজ করার জন্য এনেস্থেশিয়া দেওয়া হলো। কিছুক্ষণ পরিক্ষা নিরিক্ষার পর বিজ্ঞানীরা করণীয় নির্ধারণের জন্য বসার সিদ্ধান্ত নিলেন।

দেশের প্রশাসনিক, সামরিক গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে বিজ্ঞানীরা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসলেন। বাইরে মিডিয়াকর্মীরা প্রচুর উৎসাহ নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকলেন কি সিদ্ধান্ত আসে জানার জন্য। এদিকে দেশের মানুষের মনেও নানা প্রশ্ন, ভয় আর উৎকন্ঠা তিন ঘন্টার টানা বৈঠক চললো। তারপরে সাংবাদিকদের প্রেস বিফিং করলেন ডা. রিবন। তিনি জানালেন, সবার সিদ্ধান্তক্রমে ড্রাকুলাকে চিরতরে ঘুম পাড়িয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবং একে পরবর্তী পরিক্ষা নিরিক্ষার জন্য আধুনিক পরীক্ষাগারে পাঠানোর ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেখানে বিজ্ঞানীরা ড্রাকুলার উপর গবেষণা করবেন। এবং ভবিষ্যতে যাতে এধরনের কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে সেজন্য কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সেদিন সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বক্তন্য দিলেন। তিনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার জন্য দু:খ প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ব্যাবস্থা নেওয়া আশ্বাস দিলেন।

ভীষণ ঘামছেন ডা. রিবন। বিছানায় শুয়ে ছটফট করছেন শুধু। এই কয়েকটা দিন কি উৎকন্ঠার মধ্যেই না কেটেছে তার। খাওয়া দাওয়া, ঘুম কিছুই মনে ছিলোনা। অবশেষে একটা সমাধান করতে পেরে ভালো লাগছে । কিন্তু মনে কেনো যেনো শান্তি নেই। ডা. পিয়েরের কথা বারবার মনে পড়ছে। খোলা জানালা দিয়ে দমকা বাতাস আসছে। বিছানা থেকে উঠে জানালার সামনে দাড়ালেন তিনি। মুহুর্তের মধ্যেই মাটিতে পড়ে গেলেন। তার করুণ আর্তচিৎকার কারো কানে পৌছালো কিনা জানা গেলোনা...

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত