ঢাকা      বুধবার ১৮, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ৩, আশ্বিন, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. মোঃ মাকসুদ উল্যাহ্‌

চিকিৎসক, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল


যারা সন্তানকে প্রাইভেট মেডিক্যালে পড়িয়ে ডাক্তার বানাতে চান, তাদের জন্য

তিতা কথা।

অনেকেই প্রাইভেট মেডিক্যালে ভর্তি হতে চান। বিশেষ করে তাদের অভিভাবকগন তাদেরকে ডাক্তার বানাতে চান। এ ক্ষেত্রে প্রাইভেট মেডিক্যালে ভর্তি হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ২ ভাগে ভাগ করা যায়।

(১) যারা প্রকৃতপক্ষেই ডাক্তার হয়ে রোগীর সেবা করতে চায়। এ ক্ষেত্রে তাদের অভিভাবকদেরকে আর্থিকভাবে এতটা শক্তিশালি হতে হবে যে, নিজের সন্তান / পোষ্য যখন ৬/৫ বছর পর এমবিবিএস / বিডিএস ডাক্তার হবে ; তখন অভিভাবকগন যেন নবীন ডাক্তারের ওপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল না হয়ে পড়েন। এমনকি আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে সন্তান ডাক্তারি পাস করার পরবর্তী ১০ বছরের মধ্যেও যদি অভিভাবক সন্তানের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে , সে ক্ষেত্রেও সন্তানকে ডাক্তার বানানোর চিন্তা না করাই ভালো।

এমন হলে সে এলোপাতাড়ি বেপরোয়া আয় করতে বাধ্য হবে। তখন তার ভুমিকা রোগীর সেবা না হয়ে বরং স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির একটা বড় অংশ হবে এবং সে বরং রোগীর ক্ষতি করবে। তার চাইতে বরং কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বা অন্য কোন উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করলেই ভালো হবে।

(২) আর যারা ব্যবসায়িক চিন্তা থেকে নিজের সন্তানকে প্রাইভেট মেডিক্যালে লেখাপড়া করাতে চান, তারা দয়া করে এ ঘৃণ্য কাজটা না করে বরং এখনই কোন একটি ব্যবসার সাথে নিজের ঐ সন্তানকে যুক্ত করে দিন। কারন ৬/৫ বছর পর আপনার সন্তান যখন এমবিবিএস/ বিডিএস ডাক্তার হবে , ততদিনে তার ডাক্তারি পড়ার জন্য যদি ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করেন, তখন আপনি ১ম ২ বা ১ বছরে সেই টাকাটা তুলতে চাইবেন। এতে করে আপনার সন্তান স্বাস্থ্যখাতে মহাদুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়বে । মহান পেশাকে ঘৃণ্য পেশায় পরিনত করবে। তাই এমন কিছু না করে এখনই তাঁকে ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে ৫ বছরে নতুন করে ৫০ লাখ টাকার বেশি আয় হতে পারে। ব্যবসা করার জন্য তো নামের আগে 'ডাক্তার' শব্দটা থাকা আবশ্যক নয়!

তার মানে এই নয় যে, সরকারি মেডিক্যাল থেকে পাস করা ডাক্তারেরা সবাই সাধু আর প্রাইভেট মেডিক্যাল থেকে পাস করা সবাই অনিয়ম করে। চ্যালেঞ্জ করেই বলা যায় , 'ডাক্তার মানেই কোটি কোটি টাকা' - এই কুধারনা আর কুপ্রচারের কারনে নবীন ডাক্তারেরা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে ।

যেহেতু সবাই মনে করে ডাক্তার মানেই কোটি কোটি টাকা, তাই পরিবারের কেউ ডাক্তার হওয়া মাত্র পরিবারে বাপ মা সহ সবাই তাদের চাহিদার তালিকা হাতে নিয়ে টাকার জন্য নবীন ডাক্তারের ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। সমাজের লোকেরা কোন অনুষ্ঠান বা মসজিদ / মাদ্রাসা বা মাহফিলের জন্য নবীন ডাক্তারের কাছে মোটা অঙ্কের 'দান' প্রত্যাশা করে। যাবতীয় পারিবারিক আর সামাজিক চাপে বাধ্য হয়ে নবীন ডাক্তার কথিত 'কোটি টাকা'র স্ট্যাটাস রক্ষার জন্য দুর্নীতি শুরু করে। সবাই নবীন ডাক্তারের কাল্পনিক কোটি কোটি টাকা থেকে অনেক কিছু দাবী করে।

বিপরীতে নবীন হওয়ার কারনে অভিজ্ঞতার ঘাটতি আছে ধরে নিয়ে অনেকেই তার কাছে প্রাইভেট চিকিৎসা নিতে যায় না। তাছাড়া ইন্টারনী শেষ হওয়ার পর তাকে সরকারি চাকুরি পাওয়ার আগে পরযন্ত পরবর্তী লেখাপড়া করার জন্য অন্তত ৫ বছর সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিনা বেতনে প্রশিক্ষন করতে হয়। এমন অবস্থায় সে ঠিকমতো নিজের আর্থিক খরচই যোগাতে পারে না। লাখ/ কোটি টাকা আসবে কোথা থেকে?

কয়জন ডাক্তার কোটি কোটি টাকা আয় করেন? হাতেগোনা যে ২, ১ জন কোটি টাকা আয় করেন , তারা সেটা করেন বয়স ৪০ বছর পার হওয়ার পর। তাই চ্যালেঞ্জের সাথেই বলা যায় , 'ডাক্তার মানেই কোটি কোটি টাকা' - এই জঘন্য কুসংস্কার দূর না হলে সাস্থ্যখাতে দুর্নীতি যেমন কমবে না তেমনি ডাক্তারের পরিবারে অস্থিরতাও কমবে না।

কিছু ব্যাতিক্রম থাকবে , ব্যাতিক্রম কখনোই উদাহরন নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ডিপ্রেশন থেকে আত্মহত্যা: করণীয় ও চিকিৎসা

ডিপ্রেশন থেকে আত্মহত্যা: করণীয় ও চিকিৎসা

ডিপ্রেশন একটি ভয়াবহ মানসিক ব্যাধি যা একজন মানুষকে সবার অজান্তে তিলে তিলে…













জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর