ঢাকা      রবিবার ২১, অক্টোবর ২০১৮ - ৬, কার্তিক, ১৪২৫ - হিজরী



যোবায়ের মাহমুদ

শিক্ষার্থী, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ। 


একেকটা পরীক্ষা আসে অনেকখানি স্ট্রেস নিয়ে

পরীক্ষা চলছে। এইতো সেদিন শুরু হলো।
কিন্তু মনে হচ্ছে অনন্তকাল ধরে আমি গাইডের পাতা উল্টে যাচ্ছি, অবিরত। কান পাতলে যে কেউ হয়তো শুনতে পাবে, পৃষ্ঠা উল্টে যাচ্ছে.. যাচ্ছে..

এই পৃষ্টা উল্টানোর মধ্যে কোন ছন্দ নেই।
যারা গান গাইতে পারেন, সুর করতে পারেন, যাদেরকে আমরা গায়ক বলি, সুরকার বলি; তারা অন্ত্যমিল, ছন্দ নিয়ে চিন্তা করেন, তাল-লয় নিয়ে গবেষণা করেন।
কিন্তু আমি এমন এক সাধারণ পাঠক, প্রতিটা পরীক্ষার আগে যার অসংখ্য নতুন প্রশ্ন জীবনে প্রথমবারের মত দেখতে হয়।
কাজেই ছন্দ খোজার কাজ এই উঠোনে সাজে না।
মানায় না।

বরং বিরতিহীনভাবে আমি পৃষ্ঠা উল্টে যাই।

একেকটা পরীক্ষা আসে অনেকখানি স্ট্রেস নিয়ে, শেষ হয় অনেকখানি চাপ কমিয়ে দিয়ে। তাও সাময়িক।
কারণ একটা দিন বাদ দিয়েই আবার!
যখন ছোট ছিলাম, একটা শব্দ পড়েছিলাম দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র। যে ভদ্রলোক এই শব্দের প্রবক্তা, তার নামটা বোধহয় সেই সময়ে খুব জরুরি ছিলো। এখন আর মনে নেই। 
শুধু মনে হয়, পরীক্ষার দুষ্টচক্রে পড়ে গেছি।
পরীক্ষা আর পরীক্ষা।
আকাশে বাতাসে পরীক্ষা।

মাঝেমধ্যে ভাবি এইসব ছেড়েছুড়ে দিয়ে একদিকে চলে যাই। আমার আম্মুকে প্রায়ই বলি, হবে না আম্মু। আমারে দিয়ে হবে না। আম্মু হাসে।
বলি, ফেল করবো।
বলে, কর।

যে সময়টাতে বসে বসে আমি এইসব ছাইপাশ লিখছি, সেই সময়টাতে চাইলে হয়তো খানিকটা পড়া এগিয়ে নেওয়া যেত।
আমারই কোন বন্ধু হয়তো এই সময়টাতে পড়ছে।
নতুন একটা ডেফিনিশন, নতুন একটা মেকানিজম। কার্ড কোশ্চেন, নতুন করা অন্যরকম প্রশ্ন।

যে বেশি পড়তে পারে, স্রষ্টা তারে আরো পড়ার তৌফিক দিক।
আমার মত যারা ফাঁকিবাজ, স্রষ্টা তাদেরকে পাশ করিয়ে দিক।

খালি পাশ।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে চান্স না পেলে এখন মেডিকেলে পড়ে!

ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে চান্স না পেলে এখন মেডিকেলে পড়ে!

মেইড ইন চায়না এখন শুধু জিনিসপত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। শুরু হয়েছে হিউম্যান রিসোর্স…

মুলারিয়ান এজেনেসিস: প্রকৃতির অবিবেচক খেয়াল ও প্রমিতির কান্না

মুলারিয়ান এজেনেসিস: প্রকৃতির অবিবেচক খেয়াল ও প্রমিতির কান্না

প্রমিতি, বয়স- ১৬। এইচএসসি ১ম বর্ষে পড়ে। প্রাণবন্ত, উচ্ছ্বল প্রজাপতির মতো। যখন কথা…

সব মৃত্যুই দুঃখের, সুখের কোন মৃত্যু নেই!

সব মৃত্যুই দুঃখের, সুখের কোন মৃত্যু নেই!

তখন আমি সিওমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন। মেডিসিন ওয়ার্ডে রাউন্ড দিচ্ছেন প্রফেসর ইসমাইল পাটোয়ারি…

‘কেটা ফের জানতোক যে, পিঁপিয়া খাল্যে ছ্যালা ধলো হয়?’

‘কেটা ফের জানতোক যে, পিঁপিয়া খাল্যে ছ্যালা ধলো হয়?’

এক সদ্য গর্ভবতী রোগীকে কাঁচা পেঁপে খেতে নিষেধ করলাম। - আনারস আর কাঁচা…

ইন্টার্ন ডাক্তারদের আবার কষ্ট আছে নাকি?

ইন্টার্ন ডাক্তারদের আবার কষ্ট আছে নাকি?

আপনার বেতন কত? ছোটবেলায় শুনেছিলাম এ প্রশ্ন করা নাকি বেয়াদবি! সেই ভয়ে…

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা

ফাঁকিবাজির মহান ব্রত নিয়ে ইন্টার্নি শুরু করেছিলাম। আমি জন্মগত ভাবেই ফাঁকিবাজ। সবাই…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর