ডা. আমিনুল ইসলাম

ডা. আমিনুল ইসলাম

শিক্ষার্থী, বিএসএমএমইউ


০২ নভেম্বর, ২০১৭ ০৯:৫৫ এএম

ফি না পাওয়ার দুঃখ থাকে কতক্ষণ?

ফি না পাওয়ার দুঃখ থাকে কতক্ষণ?

পাঁচ দিন আগে ২৫ বছর বয়সী যুবকটি হঠাৎ বোবা হয়ে গেছে। সে কোন ভাবেই আর কথা বলতে পারছেনা। পীর, হুজুর, হোমিওপ্যাথ, কবিরাজ যেখানেই যায় সাথে খাতা কলম নিয়ে যায়। লিখে লিখে সে তার সমস্যার কথা জানায়। কিছুতেই তার মুখে টু শব্দটিও ফুটেনা। আজ এসেছে আমার চেম্বারে। সাথে খাতা কলম। সঙ্গে স্ত্রী সহ পরিবারের বেশ কয়েকজন। সবাই উদ্বিগ্ন, বিষন্ন, আশাহত, হতাশ।

রোগী লিখে চলে- "আমি কথা বলতে চাই, আমার চিকিৎসাটা ভাল করে করেন, আমাকে নতুন জীবন দেন।" 
আমাকে মুখে খাওয়ার কোন ওষুধ দিবেন না, ইঞ্জেকশনও না। আমি বলি তাহলে নাকে নল দিয়ে ওষুধ দেই। সে লিখে নো, নো, নো।

তাকে শারীরিক পরীক্ষা করে সমস্যা কিছু পাইনা।

সে তার সমস্যার কথা লিখেই চলে আমি তাকে reassure করেই চলি। স্বজনদের কাউকে কিছু বলতেও দেয়না। এর মাঝেই তার মা আকুতি করে আমাকে বলে, "পোলার মুখে একবার হলেও কথা শুনে মরতে চাই বাবা।" চেম্বারে আসার আগে নতুন কিনে আনা খাতাটা প্রায় শেষ হয়ে আসে। সে শুধু নানাবিধ সমস্যার কথা লিখেই চলে। এর মধ্যে চলে যায় মিনিট পচিশেক সময়। এক পর্যায়ে সে লিখে, ভিজিট একটু কমায়ে রাখবেন স্যার। এই প্রথম আমি বলি, পরিস্কার করে লিখেন, লেখা বুঝা যাচ্ছেনা। সে আবার ভিজিট কমায়ে রাখার কথা লিখে, আমি আবার বুঝতে পারছিনা জানিয়ে স্পষ্টাক্ষরে লেখার অনুরোধ করি। এভাবে পাচঁ-ছয়বার সে একই কথা লিখে, আমি বার বার একই পরিস্কার করে লেখার অনুরোধ করি। অবশেষে সে আমার দিকে বিস্ময় নিয়ে তাকায়, আমি তার দিকে। ডাক্তার এবং রোগী দুজনেই দুজনের কাছে ধরা পড়ে গেছে। দুজনেই জেনে গেছে একে অন্যের সাথে ভান ধরেছে।

এক পর্যায়ে এক অসতর্ক মুহুর্তে সে বিরক্ত হয়ে রাগ সামলাতে না পেরে উচ্চস্বরেই বলে উঠে- ভিজিটে টান পড়ছে, বুঝবেন কি করে। তার মুখ দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে এই অলৌকিক ব্যাপারটার স্বাক্ষী যারা সেই স্বজনেরা একে অপরকে জড়িয়ে, বিশেষ করে তার নববিবাহিতা স্ত্রী হাউমাউ করে কেঁদে উঠে।

পরে অবশ্য তারা আর ফি দেয়নি। ডাক্তারতো কোন ওষুধ দেয়নি- ফি কেন, আমার সহকারীকে এ যুক্তি তারা দিচ্ছে আমি ভেতর থেকে তা শুনছিলাম।

আমার মধ্যে এক দারুন অনুভুতি ভর করলো তবুও।

“রোগীর আরোগ্যের কথা করিলে চিন্তন।
ফি না পাওয়ার দুখ থাকে কতক্ষণ?”

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না