রবিবার ১৭, ডিসেম্বর ২০১৭ - ২, পৌষ, ১৪২৪ - হিজরী



জয়নাল আবেদীন

শিক্ষার্থী, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, ঢাকা। 


প্রচলিত মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে মেডিকেল শিক্ষার্থীর জবাব

কেবল মেডিকেলের ছেলে- মেয়েরা "জনগণের টাকায়" পড়ে, বহুল ব্যবহৃত এই মিথটা নিয়ে কিছু বলতে চাই। আর নিতে পারছি না।

সরকারি প্রতিষ্ঠান মাত্রই সরকারি অনুদান থেকে চলে। সেই টাকা আসে জনগণের পকেট থেকে। সেই হিসেবে সরকারি মেডিকেলের ছাত্ররা জনগণের টাকায় পড়ে কথাটা যেমন সত্য, তেমনি বুৃয়েট, রুয়েট, ঢাবি, জাবি, শাবি, কারমাইকেল, আনন্দমোহন, বিএল, বিএম, এমসি...এই সবকটা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্ররাও জনগণের টাকাতেই পড়ে। কিন্তু "জনগণের টাকার" দায়, খোঁটা, গালি এর সবটাই কেন জানি কেবল মেডিকেল ছাত্রদের জন্য বরাদ্দ। আসলে মেডিকেলের ছাত্ররা জনগণের টাকার কতখানি লুটেপুটে খাচ্ছে এটা ক্লিয়ার হওয়া উচিত। এই ট্যাগের উৎস কী এবং যৌক্তিকতা কী?
আসুন জেনে নিই।

মেডিকেল সেক্টর মূলত দুটি ধারায় বিভক্ত। এমবিবিএস এবং বিডিএস।

প্রথমে দেখি এই দুই ধারার ছাত্ররা জনগণের কত টাকা মেরে খাচ্ছে প্রতি বছর?

কলেজভেদে দুই কোর্সের ছাত্রদের ভর্তি হতে হয় ১২-১৮ হাজার টাকা দিয়ে। এর মধ্যে আছে ছাত্র উন্নয়ন ফি, পরিবহন ফি, চিকিৎসা ফি, খেলাধূলা ফি সহ যাবতীয় সব কিছু। আমার জানা মতে সরকারি ভার্সিটিতেও প্রায় একই খাত বিশিষ্ট রশীদ নিয়ে ছাত্র ভর্তি করা হয় এবং এর পরিমাণ লাখ লাখ টাকা নয়। বরং হিসেবে মেডিকেলে ভর্তির চেয়ে কমই। আমি শাবিতে ভর্তি হয়েছিলাম ৪৮০০ টাকা দিয়ে এবং মেডিকেলে ভর্তি হয়েছি ১২ হাজার টাকা দিয়ে।

সুতরাং শুরুতেই জনগণের টাকা লুটে খাওয়ার ব্যাপারে মেডিকেল ভার্সিটির সাথে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছে।

পড়াশোনা করতে গেলে আনুষাঙ্গিক কিছু ব্যাপার লাগবেই। এই যেমন একটা কলেজ বিল্ডিং লাগবে, ক্লাস রুম লাগবে, ফ্যান লাগবে, এসি লাগবে। লাগবে সরকারি বেতনভুক্ত কিছু শিক্ষক- শিক্ষিকা।
জনগণের টাকায় মেডিকেলের ছাত্ররা এসব সুবিধা নিচ্ছে।
প্রশ্ন হচ্ছে ভার্সিটি বা সরকারি কলেজে কি এসব সুবিধা নেই? তারা কি খোলা ময়দানে ক্লাস করে? তারা শিক্ষক ছাড়াই ক্লাস করে?
বরং নতুন অনেক মেডিকেল এবং অধিকাংশ ডেন্টাল ইউনিটে পর্যাপ্ত ক্লাসরুম নেই। সুবিধা অসুবিধা সব জায়গাতেই থাকে।
ধরলাম এখানে আমরা জনগণের টাকা কম খাচ্ছি না। সমান খাচ্ছি। ১-১।

স্কোর লাইন, আমরা ২-১ এ পিছিয়ে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের আরেকটা বড় ক্ষেত্র হচ্ছে হোস্টেল সুবিধা। ভার্সিটির মতো মেডিকেলেও হল আছে। তবে আপনি যদি নিরপেক্ষ এবং সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ হোন তবে হলগুলোর মধ্যে একটা তুলনা করে দেখবেন। ঢাকা মেডিকেলের মতো হাতে গোণা দুচারটা মেডিকেল আছে যারা পর্যাপ্ত হোস্টেল সুবিধা পায়। বিপরীতে জগন্নাথের মতো খুব কম ভার্সিটিই আছে যাদের হোস্টেল সুবিধা নেই। অধিকাংশ ডেন্টাল ইউনিটের ছাত্ররা হল পাচ্ছে না। ইকুয়েশনটা যদি আপনি মানতে না চান তবে একটু কষ্ট করে হলগুলো পর্যবেক্ষণ করুন। সিম্পল একটা হিসেব দিই। আমার পড়াশোনা প্রায় শেষ এবং আমি এখনো ১৪ জনের রুমে থাকি। জনগণের টাকা আমাকে গোসল করার জায়গা করে দিতে পারে নি। আমরা ছাদে গোসল করি। কোন ভার্সিটি বা বুয়েটের ক্ষেত্রে এটা ভাবতে পারেন?

স্বীকার করেন আর নাই করেন, জনগণের টাকা খাওয়ার ব্যাপারে এখানেও আমরা গোল খাইছি।
স্কোরলাইন, আমরা ৩-১ এ পিছিয়ে।

আমি জানি আপনাদের মনে কিছু প্রশ্ন উঁকিঝুঁকি মারতে শুরু করেছে। এত ব্যয়বহুল পড়াশোনা। কী সব ফকিরি গল্প শোনাচ্ছে!

সত্যি বলতে মেডিকেল এতটা ব্যয়বহুল না যতটা ভাবা হয়। এটা সিস্টেমের ত্রুটি। সেই হিসেব দিচ্ছি। আগে জনগণের টাকার হিসেব দিই।

অবকাঠামোগত ব্যাপারের বাইরে কিছু নির্দিষ্ট লজিস্টিক সাপোর্ট লাগে পড়াশোনার জন্য। ব্যয়ের জায়গা মূলত এটাই। "জনগণের টাকা"র সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠতে পারে এখানে।

কী কী লজিস্টিক সাপোর্ট পাই আমরা?

ফার্স্ট প্রফে এমবিবিএস ও বিডিএস উভয়েই এনাটমি, ফিজিওলজি ও বায়োকেমেস্ট্রি পড়ে। বিডিএস ছাত্ররা বাড়তি আরেকটা সাবজেক্ট পড়ে, এসডিএম।

এনাটমির জন্য হাড় হাড্ডি এবং শরীরের অঙ্গ প্রতঙ্গ লাগে। কলেজে এই হাড় হাড্ডি মাত্র কয়েক সেট করে থাকে। বাংলাদেশের লাশের অভাব নেই। সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেগুলো কিনতে হয় বলে বিশ্বাস হয় না। তাও যদিদি কিনতেই হয় সর্বোচ্চ কয়সেট হাড় বা ভিসেরা থাকবে?
চারটা ব্যাচ হলে চারসেট। এর দাম কত? ছাত্রের মাথাপিছু কত পড়ে?

হিস্টোলজিতে মাইক্রোসকোপ থাকে। কয়টা থাকে সর্বোচ্চ?
১০ টা? ফিজিও বায়ো ল্যাবে বিকার, টেস্টটিউব থাকে। কিছু রিএজেন্ট থাকে। পুরো ল্যাবের দাম কয়লাখ টাকা হবে?

বলতে পারছি না। তবে একটা ধারণা দিচ্ছি। আমি যে সরকারি ইন্টার কলেজে পড়তাম সেখানে বায়োলজি ল্যাবে মাইক্রোসকোপ ছিল ২০ টা। কেমেস্ট্রি ল্যাব ছিল ফিজিও ল্যাবের চেয়ে দুইগুণ বড়।

ছাত্ররা ছিল কতজন জানেন?
আমাদের সিনিয়র ব্যাচে ২ জন। হাঁ, টোটাল দুইজন ছাত্রের জন্য সরকার এতটা সুবিধা দিয়েছে।

পরের কথা, ভার্সিটিতে যারা পড়ে তারা কি এসব লজিস্টিক সাপোর্ট পায় না?
বুয়েটের একেকটা মেশিনের জানি দাম কত? ঢাবির সায়েন্সের যে কোন ডিপার্টমেন্টের যন্ত্রপাতির দাম কত?

কথা আরেকটু বাকি এ ব্যাপারে। বায়োকেমেস্ট্রি বলে যে ল্যাব আছে সেটা মূলত হাসপাতালের রোগীদের কাজে লাগে। আর বিডিএস এর এসডিএম সাবজেক্টের ল্যাব সুবিধা বলে কোন কিছু কোথাও কেউ দেয় কিনা আমার জানা নেই। দিলেও কয়েকশ টাকার জিনিসপত্র থাকবে, এর বেশি না।

তো, আমরাই সব লুটেপুটে খাইতেছি, তাই না?

আসি পরের পর্বে। 
পুরাতন সিলেবাসে এমবিবিএস সেকেন্ড প্রফ এবং বিডিএস সেকেন্ড প্রফে প্যাথলজি, মাইক্রোবায়োলজি, ফার্মাকোলজি কমন পড়তে হয়। এমবিবিএস বাড়তি পড়ে ফরেনসিক আর কমিউনিটি মেডিসিন। ডেন্টালে বাড়তি পাবলিক হেল্থ আর ডেন্টাল এনাটমি।
এখানেও হিসেব একই। প্যাথলজি আর মাইক্রো ল্যাব রোগী ছাত্র উভয়েই শেয়ার করে এবং এখানকার কোন কিছুর দাম চিন্তার বাইরে না। ফরেনসিকে লাঠি, দড়া, দা, কিরিচ লাগে। আর কোন সাবজেক্টে আলাদা কিছু নেই।

লাস্ট ফেজে লজিস্টিক সাপোর্ট বলতে একমাত্র রোগী আর হাসপাতাল। হাসপাতাল তো রোগীদের। আর রোগীকেও যদি আপনারা জনগণের ট্যাক্সের দান করে করেন আর কী বলার থাকে।

পড়াশোনার পর্বে কোন জিনিষটাকে পাবলিক ভার্সিটির চেয়ে বেশি মনে হলো? তর্কে গেলে বরং কম সেটা প্রমাণ করে দিতে পারব। গেলাম না। ১-১ মেনে নিলাম।

রেজাল্ট, আমরা এখনো ৪-২ এ পিছিয়ে।

এবার আসি অন্যান্য সুযোগ সুবিধাতে।

ভর্তির সময় আমাদের কাছ থেকে সরকার যে সব খাতে টাকা নেয় তার কোনটাই ফিলআপ হয় না। যাতায়াত বাবদ টাকা নেয়। আমাদের পরিবহন সুবিধা বলে কিছু নেই। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে অবশ্য একটা বাস মাঝে মধ্যে দেখি। পাঁচ বছর কেটে গেছে, সেখানে পাছা দাবিয়ে বসার সুযোগ এখনো হয় নি। আমার জানামতে কোন মেডিকেলই এই সুবিধা পায় না।

ঢাবি, জাবি, শাবির বাস জানি কয়টা?

খাইলাম এক গোল।

বিনোদন সুবিধা বলতে আমাদের তেমন কিছুই নাই। বছরে সরকারকে তৈল মর্দনকারি এক দুইটা প্রোগ্রাম হয় বটে, তবে সেটা বিনোদনের পর্যায়ে পড়ে না। বক্তব্য আর দুই একটা গানে শেষ। আমাদের বিনোদন খাতের টাকাও মাইর খায়। (যে দুএকটা বাড়তি প্রোগ্রাম হয় সেটা সম্পূর্ণ ছাত্রদের টাকায়)
ভার্সিটিগুলোতে মাসে কয়টা করে প্রোগ্রাম হয় জানি?

খাইছি আরেকটা গোল।

যতদূর জানি ভার্সিটিতে ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। আমাদের অধিকাংশ মেডিকেল ভীষণ সৎ। ছাত্র হইলেও তোমাকে দশ টাকার টিকেট কিনতে হবে। জনগণের দশ টাকা মারার উপায়ও নাই।

ছোটখাটো আরেকটা গোল।

ভার্সিটি বা বুয়েটের ছাত্ররা এই অলিম্পিয়াড সেই প্রোগ্রাম করে জনগণের টাকায় বিদেশ ঘুরতে পারে। মেডিকেলের ছাত্রদের এরূপ প্রতিভা দেখানোর কোন সুযোগ নেই। এমনকি বাধ্যতামূলক একাডেমিক একটা ট্যুরের টাকাও আমাদের নিজেদের দিতে হয়েছিল যেটা সরকার থেকে আসার কথা।

লও আরেক গোল।

এবার একটা মজার কথা বলি।
আচ্ছা কেউ কি কখনো ভেবে দেখেছের ভার্সিটির ক্যাম্পাস কত বড় হয়? মেডিকেলের কোন ক্যাম্পাস আছে?

উদাহরণ হিসেবে বলি, এক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় যত জায়গা জুড়ে আছে বাংলাদেশের সব সরকারি মেডিকেলের ক্যাম্পাস যোগ করলে তার কত ভাগ হবে?
সিলেটের এমসি কলেজের পুকুরের যে আয়তন, পুরো সিলেট মেডিকেল তত বড় নয়।

ভাই, জমির দাম নাই?
এই জমি জনগণের না?
ভার্সিটির ছাত্রসংখ্যা - মেডিকেলের ছাত্র সংখ্যা যোগ করে এবার হিসেব করেন কে কতটা জমি পায়।

জনগণের টাকা লুটতে গায়ে খাইলাম বড় আরেকটা গোল। মাঝখানের সবকটা গোল যোগ করে যদি একটাও ধরি তারপরও আমরা ৫-২ এ পিছিয়ে।

তাহলে কি মেডিকেলে পড়তে কোন টাকাই লাগে না?

লাগে ভাই, ভালো পরিমাণেই লাগে। প্রথমে বই কিনতে ১০-১২ হাজার লাগে, হাড় কিনতে ৩৫ হাজার লাগে। ডেন্টালের ছাত্রদের ক্যামেকেল আর ইন্সট্রিমেন্ট কিনতে লাগে কম হলেও ৪-৫ হাজার।

এরপর বিপি কিনতে হয়, স্ট্যাথো কিনতে হয়। বছর বছর নতুন করে বই কিনতে হয়। মেডিকেলে নোংরা থাকার সুযোগ নেই। এখানেও কিছু টাকা ব্যয় করতে হয়। ফাইনাল ইয়ার বিডিএস এ ১৫-২০ হাজার জিনিসপত্র কিনতে হয়। 
প্রসববেদনার মতো প্রফ বেদনা উঠলে খরচ হয় ১০-১২ হাজারের মতো। সাপ্লি জুটলে খরচটা ডাবল হয়। মামাদের এমনকি রোগীদেরও টাকা দিয়ে খুশি রাখতে হয়। টিউশনি বা কোচিং করানোর সুযোগ কম।

সব মিলিয়ে কম গ্যাড়াকল না।
বলাই বাহুল্য, এই টাকার একটাও জনগণ বা সরকার দেয় না। কারো ট্যাক্স থেকে না। সব যায় বাপের পকেট থেকে। রিপিট বাপের টাকা...এগেইন রিপিট..পুরোটাই বাপের টাকা।

এই বাপের পকেটের টাকাই এক সময় মিথ প্রক্রিয়ায় সরকারি টাকা বা জনগণের টাকা বা "আমার" টাকা হয়ে যায়।

সরকারি মেডিকেলের ছাত্ররা "জনগণের সব টাকা খায়া ফেলতেছে" ধারণার পেছনে আরেকটা যুক্তি আছে। সেটা হচ্ছে প্রাইভেট মেডিকেল। প্রাইভেট মেডিকেলের ছাত্ররা ২০ লাখ টাকা দিয়ে ভর্তি হয়। কোর্স শেষ করতে করতে অর্ধ কোটি টাকা খরচ করে ফেলে। তাই জনগণেরও ধারণা সরকারির ছেলেরাও বোধহয় তাদের পকেটের কোটি টাকা খাচ্ছে।

ব্যাপারটা আসলে ঐরকম না।
প্রাইভেট মেডিকেল পুরোই একটা ব্যবসা। চাহিদা বেশি, সুতরাং দামও বেশি। কারো যদি বেশি মুনাফা নেয়ার সুযোগ থাকে তবে সে কেন ছাড়বে?
সহজ কথায় বলি। কোন মেডিকেলের ভর্তি ফি ১০ লাখ, কোন মেডিকেলে ২০ লাখ। কেন বলতে পারবেন?
কারণ ঐ মার্কেট ভ্যালু। পুরোটাই ব্যবসা।

তাছাড়া ওরা নেবে না কেন?
একেকটা মেডিকেলের অনুমোদন নিতে কয়শো কোটি টাকা কোথায় ঘুষ দিতে হয় একটু খোঁজ করে দেখবেন। ওদের সেই টাকা তুলতে হবে না? এখানে পুরাটাই ব্যবসায়িক হিসেব। প্রাইভেটের ছাত্র শিক্ষকেরা এখানে নিতান্তই গোবেচারা।

আরো ক্লিয়ার করে বলি। ফার্মগেট মোড়ের দেড়শ টাকা দামের টি শার্ট শো রুমে ঢুকে হয়ে যাচ্ছে ১২০০ টাকা। এই টি শার্টের দাম আপনার কাছে ১২০০ হতে পারে, কিন্তু আমার কাছে ১৫০ টাকাই।

প্রাইভেটের ব্যবসায়িক এবং দুর্নীতিগ্রস্থ সিস্টেমের দায় কেন সরকারি ছাত্রদের নিতে হবে?
কেন কানের কাছে আজন্ম ঝাঁ ঝাঁ আওয়াজ আসবে "তুই জনগনের টাকায় পড়তেছিস" 'তুই আমার টাকায় পড়তেছিস।" আমার পা টিপে দিতে তুই বাধ্য।

স্বীকার তো করছি আমরা জনগণের টাকায় পড়ি। কিন্তু আমরা কি একলাই?
কেন বুয়েটের ছাত্রটার কানে এ আওয়াজ যায় না? একই সুবিধাভোগী কোন ভার্সিটি ছাত্রও কেন আমাকে টিটকারি মারবে? ন্যাশনালের ছাত্রটার কেন কোন দায়ই থাকবে না?

জনগণের টাকা বললে সবাইকেই বলতে হবে। নইলে কাউকেই না। হিসেব ক্লিয়ার।

আরেকটা কথা।
আমার বাপও জনগণ। আমারও বাপও ট্যাক্স দেয়। আমাকে মেডিকেলে পাঠিয়ে আমার বাপ ট্যাক্স দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে ব্যাপারটা তা না। বেশি যন্ত্রণা করলে বলব, আমি আমার বাপ বা আত্মীয় স্বজনের ট্যাক্সের টাকায় পড়ি। তোর বাপের ট্যাক্সের টাকায় তুই পড় গা।

মোর ইমপরট্যান্টলি, আমি যোগ্যতা দিয়ে টাকাটা নিচ্ছি। যে যোগ্যতায় নিচ্ছে বুয়েট, ঢাবি বা ন্যাশনালের ছাত্র।

এই লেখা যারা পড়লেন আপনি বিবেকওয়ালা হলে আশা করি আর কোন মেডিকেলের ছাত্রকে "জনগণের টাকার" খোটা দেবেন না। একজন মানুষ বুঝতে পারলেও আমি স্বার্থক। এটাকে গালির মতো মনে হয় ইদানিং।

জানি ভুল ওভুলেশনের ফলে বেড়ে উঠা কিছু আদমছানা তারপরও এসে গালি দেবে। টপিকের বাইরে গিয়ে "আমার বাপ দাদা চৌদ্দ গোষ্টীরে ডাক্তাররা মেরে ফেলছে" "কসাই" "মার-ধর" "তোর মায়েরে-বাপেরে..." বলবেই। তাদের জন্য হেদায়াতের দোয়া এবং ব্লক।

পরিশেষেঃ

১। ডাক্তারি কোন কুৎসিত পেশা না, কোন আহামরি পেশাও না। আর দশটা পেশার মতো এটাও একটা সাধারণ পেশা। একে উপরে বা নিচে নামানোর কিছু নেই। আর সবার মতো এখানেও ভালো খারাপ মানুষ আছে। এখানে গালি খাওয়া বা সুপিরিয়রিটি ফিল করার কোন সুযোগ থাকা উচিত না।

২। একজন ডাক্তার কী যে কোন অবস্থায় রোগী বা জনগণের সেবা করতে বাধ্য?
- হাঁ অবশ্যই বাধ্য। কারণ সেবা বা চিকিৎসা করাই একজন ডাক্তারের কাজ। এখানে কোন অযুহাত চলে না।

৩। "তুই আমার টাকায় পড়ে ডাক্তার হইছিস, সুতরাং আমার সেবা করতে তুই বাধ্য" একটা কথা বললে কি কাউকে চিকিৎসা দেয়া উচিত?
- অবশ্যই চিকিৎসা দিতে হবে। আপনি বাধ্য। এমনকি তাকে ডাবল চিকিৎসা দিতে হবে।

প্রথমত তাকে রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে পাগলা গারদে পাঠাতে হবে। আগে পাগলের চিকিৎসা যত্ন সহকারে করে তারপর যে রোগ নিয়া আসছে সে রোগের চিকিৎসা দিতে হবে।
:
সবার সুস্বাস্থ এবং দীর্ঘায়ু কামনায়....

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

বার পঠিত



আরো সংবাদ


চাই প্রফেশনাল লিডারশীপ

চাই প্রফেশনাল লিডারশীপ

১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২৩:৩৩

রোগীদের বিদেশমুখীতা কমানোর উপায়

রোগীদের বিদেশমুখীতা কমানোর উপায়

১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৪:২৮






বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবার বিপর্যয়

বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবার বিপর্যয়

০৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১২:৫৮


এইডস প্রতিরোধ করাটাই জরুরি

এইডস প্রতিরোধ করাটাই জরুরি

০৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১১:২৯








শিশু কিশোরদের পাইলস

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১১:৩২

স্যালুট টু ইউ ডক্টর

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১০:৪১
























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর