ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১ ঘন্টা আগে
ডা. শিরীন সাবিহা তন্বী

ডা. শিরীন সাবিহা তন্বী

মেডিকেল অফিসার, রেডিওলোজি এন্ড ইমেজিং ডিপার্টমেন্ট,

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।


৩০ অক্টোবর, ২০১৭ ১৫:০৩

আমার ভাইয়ের হাত ভাঙার বিচার চাই

আমার ভাইয়ের হাত ভাঙার বিচার চাই

ডান হাতে কলম ওঠার দিনটি মনে নেই। এলাকার প্রচলিত নিয়মানুযায়ী চার বছর চার মাস চারদিন বয়সে এক ধর্মপ্রাণ মুসলিম ইমাম ছোট্ট অনুষ্ঠানে ডান হাতে খড়ি ঘুরিয়ে প্রথম কিছু লিখিয়েছিলেন। আমি বলব না কেবল পড়াশুনা করতেই ডান হাত লাগছে। যে শেফ ডান হাতে রান্না করে,যে মেয়ে ডান হাতে সেলাই করে, যে মেয়ে ডিজাইনার ড্রেস ডিজাইন করে সকলেরই শুধু হাত নয়, শরীরের প্রতিটি অঙ্গই দরকারী।

আমাদের ছোট ভাই ডা. শামীম ও ডান হাতে কলম তুলেই সফলতার সাথে কাটিয়েছে জীবনের এত গুলো বছর। ঢাকা মেডিকেলেই স্নাতকোত্তর পড়াশুনা চলছে তার আরো বড় ডাক্তার হবার প্রতীক্ষায়। কিন্তু না।আজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক হৃদরোগে আক্রান্ত রুগীর মৃত্যু মেনে নিতে না পেরে রুগীর স্বজনরূপী সন্ত্রাসীরা অবিশ্বাস্য ধ্বংস যজ্ঞ চালিয়েছে। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী আনসারদের মেরে রক্তাক্ত করেছে। তারপর হায়েনার মত জানালার ভাঙ্গা কাঁচের টুকরা এবং চেয়ার নিয়ে হামলা করে ভেঙ্গে দিয়েছে ডা. শামীমের ডান হাত। আহত করেছে আরো অনেক ডাক্তারদের। ডা. শামীমের এক্স-রে প্লেটের ঐ ভাঙ্গা হাড় দেখাচ্ছে শামীমের কতটা ক্ষতি হয়েছে।

প্রিয় শেখ হাসিনা, সময় হয়েছে এমনই এক এক্স-রে প্লেট দিয়ে দেশের স্বাস্থ্য খাতের সব অব্যবস্থা, ডাক্তারদের সব দুর্ভোগ দেখা এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া। আপনি ভাই হারা বোন। আপনার মত করে ভাইয়ের বুকে আঘাতের কষ্ট আর কে বুঝবে? আমি আপনার কাছেই বিচার চাই। আমার ভাই সেই এতটুকু বয়স থেকে পড়াশুনা করে দোষ করেছে? ভালো রেজাল্ট করে দোষ করেছে? মেডিকেলে চান্স পেয়ে দোষ করেছে? ডাক্তার হয়ে দোষ করেছে? দুটি হাত দিয়ে রুগীদের সুস্থ করে দোষ করেছে? ক্রিটিক্যাল রুগীদের বিশেষ শুশ্রসা দেয়ার জন্য চান্স পেয়ে এবং নিজেকে আরো যোগ্য করে তুলতে শিক্ষা নিয়ে দোষ করেছে? আমরা বার বার বলেছি। আমরা রোগের চিকিৎসা করতে পারি নিজেদের প্রতিষ্ঠালব্দ্ধ জ্ঞান দিয়ে। আমরা ঐশ্বরিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত না। এখন পর্যন্ত মৃত্যুকে কে পরাজিত করতে পেরেছে? এমন কোন ক্ষমতাধর আছে যে চিরকাল বেঁচে থাকবে? মৃত্যুদূতের সাথে চুক্তিপত্র সই করে বাংলাদেশের ডাক্তাররা ডাক্তারী করতে আসি নাই। বাংলাদেশের জনগনের তা বুঝতে হবে। রুগী মারা গেলেই কেন পৃথিবীতে আমাদের বেঁচে থাকাটাই হারাম হয়ে যাবে? আমরা আমাদের কর্মক্ষেত্রে এসে রুগীর স্বজনের অত্যাচারে আহত হবো, এর থেকে অমানবিক কিছু কি হতে পারে?

আপনি আমাদের মা। আপনি কথা দিন, এই ঘটনা এই দেশে আর ঘটবে না। আমার কোন ভাই আমার কোন বোন নিজের কাজের জায়গাতে আর অপমানিত বা আহত হবে না। আমার যে ভাইটি আজ ডান হাত ভেঙ্গেছে, নিজের সবথেকে গুরুত্বপূর্ন একটি অঙ্গ হারিয়েছে। আপনি তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন এবং যে সন্ত্রাসী তার হাতের হাড় ভেঙ্গেছে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিবেন।

আপনি কথা দিন, হাসপাতালে আজ থেকে রুগীর সাথে কোন অযাচিত, অপ্রয়োজনীয় আত্মীয় রূপী সন্ত্রাসী কোনভাবেই প্রবেশ করতে পারবে না। কথা দিন বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে ডাক্তারগণ কর্মস্থলে নিরাপত্তা পাবে। আর কোনদিন কোন ডাক্তার কর্মস্থলে এক বিন্দু আহত হবে না।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত