মঙ্গলবার ১৬, জানুয়ারী ২০১৮ - ৩, মাঘ, ১৪২৪ - হিজরী



ডা. রেদওয়ান বিন আবদুল বাতেন

জনস্বাস্থ্য গবেষক

ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া


রোড টু পিএইচডি-২৯: প্লেনের টিকেট কাটা এবং ইমিগ্রেশন

প্লেনে উঠার আগে আপনাকে টিকিট কাটতে হবে তাই না? ভিসা পাবার সাথে সাথেই টিকিট কাটার কাজে নেমে পড়ুন। টিকিট কাটার জন্য অনেকগুলো ওয়েবসাইট আছে। অধম studentuniverse.com থেকে কেটেছিল।

মজার ব্যাপার হলো – এ অধম আর এক ছোট ভাই একই ফ্লাইটে, একই প্লেনে ঢাকা থেকে আইওয়া আসি, প্রতিটি ফ্লাইট সেম ছিল – কিন্তু দু’জনের টিকিটের দামে প্রায় ২০০ ডলারের পার্থক্য ছিল। এর কারন হলো টিকিটের ওয়েবসাইটগুলোতে প্রতিদিন দাম উঠানামা করে।

তাই প্রতিদিন কয়েকবার করে টিকিটের সাইটগুলোতে ঢু মারতে থাকুন। এখানে এসে কোন এয়ারপোর্টে নামতে হবে তা জেনে নিন। তারপর ডেট দিয়ে সার্চ করতে থাকুন। অধম ভুল করে প্রথমে অন্য এয়ারপোর্টের জন্য টিকেট কেটেছিল, পরে ঠিক করতে গিয়ে জরিমানা দিয়েছিল।

সবচেয়ে কম দামে যেটি পাবেন, সেটি কেটে ফেলুন। পেমেন্ট করার জন্য নিজের বা বন্ধুর ক্রেডিট কার্ড রেডি রাখবেন। আগে থেকে কাটলে সিট চুজ করার সুযোগ পাবেন।

খেয়াল রাখবেন – ট্রানজিট এর টাইম কত ঘন্টা। মানে আপনি হয়তো ঢাকা থেকে দোহা পর্যন্ত যাবেন, সেখানে ট্রানজিট ২ ঘন্টা। দোহা থেকে শিকাগো এসে ট্রানজিট হয়তো আড়াই ঘন্টা। এরপর আবার পরবর্তী ফ্লাইট। এই ট্রানজিটের সময় বেশী কম হলে নতুনদের জন্য একটু সমস্যা হতে পারে। তবে সেটা কোন বড় ব্যাপার না। একটু সজাগ আর চটপটে থাকলে সবকিছু ভালোভাবে ম্যানেজ করতে পারবেন ইনশাল্লাহ।

ঢাকা এয়ারপোর্টে – পরিবারের সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে, সোশ্যাল ড্রামা পর্ব সমাপ্ত করে – ট্রলিতে করে মালপত্র নিয়ে ভেতরে ঢুকবেন। এয়ারলাইন্সের লাইনে দাঁড়িয়ে মালপত্র জমা দেবেন।

বাসা থেকে অনলাইনে চেকইন করে আসলে খুব ভালো হয় – অনলাইন চেকইনের লাইন খুবই ছোট থাকে – আপনার সময় বাচবে। বোর্ডিং পাস নেবেন। তারপর ইমিগ্রেশানের একটা ছোট ফর্ম পূরন করে ঢুকে যাবেন ইমিগ্রেশান পুলিশের বুথে। শেষবারের মত দেশের ষন্ডামার্কা ঘুষখোর হারামী টাইপ পুলিশগুলোর চেহারা অত্যন্ত বিরক্তি সহকারে দেখে নিন। ইমিগ্রেশানের কাজ শেষ হলে বসে থেকে অপেক্ষা করুন। টয়লেটের কাজ সেরে নিন। আপনার ফ্লাইটের সময় হলে ডেকে নেবে।

এবার বডি চেক করে ডকুমেন্ট দেখিয়ে লাউঞ্জে ঢুকে বসে থাকুন। বডি চেকের সময় প্রতিবার বেল্ট খুলতে হয়, জুতা খুলতে হয়, ঘড়ি খুলতে হয় – নানা কাহিনী। তাই মানসিকভাবে এগুলো বারবার করার জন্য প্রস্তুতি রাখবেন। প্রতিটি এয়ারপোর্টে বারবার এসব করতে হবে।

এরপর ডাক আসবে প্লেনে উঠার। খাটি বাঙালী স্টাইলে সবার আগে দৌড় দেবেন না। আগে ফ্যামিলি, মহিলা, শিশু ও বৃদ্ধদের যেতে দিন। ট্রাস্ট মি – আপনাকে ওরা রেখে যাবেনা। আর প্লেনে আপনার সিট নির্দিষ্ট – ওটাও কেউ নিয়ে নিতে পারবেনা – তাই আস্তে ধীরে আগান।

প্লেনে উঠে ঠিকমত লাগেজ রেখে সিটে বসে বেল্ট বাঁধুন। এবার দোয়া পড়ুন। আল্লাহর কাছে শুকরিয়ায় মাথা নত করুন। আপনার এতদিনের পরিশ্রমের ফল যেমন আজকে আপনি পেতে যাচ্ছেন – ঠিক তেমনি আল্লাহর সাহায্য ছাড়া এক পা ও আপনি এগুতে পারতেন না – এভাবে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করুন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। তারপর দোয়া পড়তে থাকুন।

স্পীকারে ভেসে আসবে, ‘দিস ইজ ইউর ক্যাপ্টেন স্পিকিং……’। বিসমিল্লাহে তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিউল আযিম।

ডিসক্লেইমার

পূর্ববর্তী পর্ব: রোড টু পিএইচডি-২৮: ব্যাগ গোছানো-মেডিকেল চেকআপ-অন্যান্য

পরবর্তী পর্ব: রোড টু পিএইডি-৩০: আমেরিকান জীবন

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

বার পঠিত



আরো সংবাদ


ইএনটি পার্ট ওয়ান পাশের আদ্যোপান্ত

ইএনটি পার্ট ওয়ান পাশের আদ্যোপান্ত

১৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৯:০৩




নন–ক্যাডারে ১৮০০ পদ শূন্য

নন–ক্যাডারে ১৮০০ পদ শূন্য

০৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১১:৪৯


রোড টু পিএইচডি-৩০: আমেরিকার জীবন

রোড টু পিএইচডি-৩০: আমেরিকার জীবন

৩০ অক্টোবর, ২০১৭ ২০:২৮


রোড টু পিএইচডি-২৭: ভিসা কাহিনী

রোড টু পিএইচডি-২৭: ভিসা কাহিনী

২৭ অক্টোবর, ২০১৭ ১৮:৩২










ফিজিওলজিক্যাল এনাটমি অফ সিন্যাপস

১৫ জানুয়ারী, ২০১৮ ২৩:৪৬
























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর