ঢাকা      রবিবার ২১, অক্টোবর ২০১৮ - ৬, কার্তিক, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. রেদওয়ান বিন আবদুল বাতেন

জনস্বাস্থ্য গবেষক

ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া


রোড টু পিএইচডি-২৮: ব্যাগ গোছানো-মেডিকেল চেকআপ-অন্যান্য

ভিসা পেয়ে গেছেন – এবার দেশ ছেড়ে হিজরত করার প্রস্তুতি নিন। প্রবাসে যাচ্ছেন – সাথে নিতে হবে অনেক কিছু। প্রথমেই বলে নেই – ফেসবুকের চেয়ে ভালো কোন রিসোর্স আমার জানামতে নেই। প্রয়োজনীয় সকল ইনফর্মেশান ফেসবুকের গ্রুপগুলো থেকেই পেয়েছিলাম। আপনারাও ঘাটাঘাটি শুরু করুন। এই লিখাটি ছেলেদের শপিং এর জন্য, নারীরা খুব একটা উপকার পাবেন না।

প্রথমে আপনাকে দু’টি ঢাউস সাইজ সুটকেস কিনতে হবে। সাথে একটি ব্যাকপ্যাক এবং কোমরে ঝোলানো একটি ব্যাগও কিনতে হবে। একটু পয়সা বেশী লাগলেও ভালো ব্র্যান্ডের দেখে কেনাই ভালো – এসব জিনিস বারবার কেনা হবে না। যে এয়ারলাইন্স এর টিকিট কিনেছেন, তাঁদের ওয়েবসাইটে সুটকেসের সাইজ দেয়া থাকে – সে অনুযায়ী কিনবেন।

বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি – কাপড় চোপড় কিনে সুটকেস ভরার কোন দরকার নেই। বিশেষ করে শীতের কাপড় কিনবেন না মোটেই। আপনি যখন আসবেন, সেটা সাধারনত আগস্ট মাস হবে – সে সময় আমেরিকায় সামার থাকে। তাই প্লেন থেকে নেমেই ভারী শীতের কাপড়ের দরকার হবে না। প্লেন এবং এয়ারপোর্টের ঠান্ডা মোকাবেলার জন্য হালকা জ্যাকেট রাখতে পারেন। এছাড়া বাকী সব এখানে এসে কিনতে হবে।

আপনার দু’টি সুটকেসের জন্য আলাদা আলাদা শপিং লিস্ট তৈরি করে ফেলুন। একটি সুটকেসে মশলা, চা, চানাচুর – এসব দিয়ে ভরে ফেলুন। এসবকিছুই এখানে পাবেন – দামটা বেশী থাকবে। 
বিশেষ করে মশলা, ডালের মত ‘ভারতীয়’ আইটেম ওয়ালমার্টে পাওয়া যায়না –এগুলো কিনতে হয় ইন্ডিয়ান শপ থেকে – ব্যাটারা দাম বেশী রাখে।

আরেকটি জিনিস – চা – দেশী চা পাতায় যাদের অভ্যাস তাঁদের জন্য এখানে বিপদ। তাই একটি সুটকেস ভরে এসব আনবেন। এখানে এসে আড়াইশ টাকায় সাধারণ মানের চানাচুর কিনতে নিশ্চয়ই ভালো লাগবে না আপনার।

আরেকটি সুটকেসে একটি স্যুট, প্রয়োজনীয় জুতা স্যান্ডেল এগুলো নিন। এসবই এখানে দেশের প্রায় কাছাকাছি দামে পাওয়া যায়। তাই খুব বেশী টেনশনের কিছু দেখি না। একটি ছাতা নিন। প্যান্ট শার্ট টিশার্ট এগুলো প্রয়োজনমত নিন। এগুলো এখানেও পাবেন – তাই হুড়াহুড়ি করার দরকার নেই।

যেটি সবচেয়ে বেশী দরকার তা হল – পাঞ্জাবী। এই জিনিস এখানে একেবারেই পাওয়া যায় না। আমি আসার সময় না জেনে অল্প ক’টি পাঞ্জাবী নিয়ে এসেছিলাম – ভুল করেছি। নেক্সট টাইম ইনশাল্লাহ বেশী করে পাজামা পাঞ্জাবী নিয়ে আসবো – আপনারাও তাই করুন।

একটি কাজ আছে – তা হলো ডলার এন্ডোর্স করানো এবং কেনা। সাধারনত ৩০০০ ডলার পর্যন্ত নিতে পারবেন। সবচেয়ে ভালো অপশন হলো সোনালী ব্যাংক ওয়েজ আর্নারস ব্রাঞ্চ, মতিঝিল। এটা কেউ চিনেনা, মতিঝিলে নেমে জিজ্ঞেস করেও লাভ নেই – এটা লিটারেলি কেউ চিনেনা। তাই এখানে ভীড় নেই একদমই। বাজার দরের চেয়ে কম রেটেই ডলার কিনতে পারবেন। পাসপোর্ট আর টাকা নিয়ে গিয়ে কাজ সেরে আসুন। ফ্লাইটের ১৪ দিন আগে ডলার এন্ডোর্স করে এরা। তাই ১৪ দিন বাকী আছে এমন সময়ে গেলে ভালো করবেন।

এরপর গুরুত্বপূর্ন কাজ হলো বাসা ভাড়া করা। দেশে বসেই নেটে বাসা ভাড়া করতে পারবেন। খুব ভালো হয় যদি ঐ ইউনিভার্সিটির কোন বড় ভাইয়ের হেল্প ম্যানেজ করতে পারেন। বাসা দেখে আসা, এডভান্স করা, আপনি পৌছার আগে চাবি নিয়ে আসা – ইত্যাদি কাজগুলো কোন বাংলাদেশী থাকলে খুব সুবিধা হয়।

আপনাকে এক মাসের ভাড়া এডভান্স করতে হবে, সিকিউরিটি মানি হিসেবে আরও এক মাসের ভাড়ার সমপরিমাণ টাকা জমা দিতে হবে বাড়ির মালিকের কাছে। আসার আগে ইলেকট্রিসিটি কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করে লাইন এক্টিভেট করবেন। বাকী সব ইউটিলিটি সাধারনত বাড়ী ভাড়ার সাথে এড করা থাকে। বাড়ি ভাড়া করার লিজ সাইন করার আগে এ ডিটেলসগুলো জেনে নিতে হবে।

আরও একটি কাজ আছে – ভ্যাক্সিন দেয়া। ডাক্তারেরা যদি হেলথ সায়েন্সের কোন প্রোগ্রামে পড়তে আসেন – তবে একগাদা ভ্যাক্সিন দিতে হবে। এই ভ্যাক্সিনের লিস্ট আপনার ইউনি’র কাছ থেকে চেয়ে নিবেন। তারপর সোজা মেডিনোভায় চলে যাবেন। সেখানে সব ভ্যাক্সিন মোটামুটি এভেইলেবল থাকে।

সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সেখানে যে ডাক্তার সাহেব আছেন তিনি আমেরিকার লাইসেন্সপ্রাপ্ত চিকিৎসক – তাই আপনার ভ্যাক্সিন সার্টিফিকেটে তার সাইন পেলে লাইন্সেন্সড ফিজিশিয়ানের সাইন করা সার্টিফিকেটের রিকোয়ারমেন্ট পূরন হয়ে যাবে।

হেলথ সায়েন্সের স্টুডেন্টদের অনেক টাকার ভ্যাক্সিন দিতে হয় – প্রায় ৩০,০০০ হাজার টাকার মত। ভ্যাক্সিন দিতে বেশ কিছুদিন সময় লাগে। তাই অন্তত ২ মাস হাতে রেখে কাজ শুরু করবেন। 
মেডিসিনের কোন ডাক্তার দেখিয়ে প্রেসক্রিপশানে আপনার প্রয়োজনীয় ওষুধের তালিকা লিখিয়ে নেবেন। ওষুধ প্রয়োজনমত নিয়ে আসবেন।

এছাড়া চোখ এবং দাঁত দেখিয়ে আসাটা খুবই গুরুত্বপূর্ন। চোখের ডাক্তার দেখাবেন। চশমা বানাবেন কয়েক সেট। প্রেস্ক্রিপশান নিয়ে আসবেন।গুরুত্বপূর্ন একটি কাজ হলো দাঁতের ডাক্তার দেখানো। একটা ওপিজি এক্সরে করে ডেন্টাল সার্জনের কাছে চলে যান। প্রয়োজনীয় ফিলিং, রুট ক্যানাল, আক্কেল দাঁত ফেলা ইত্যাদি কাজগুলো সেরে ফেলুন। এগুলো করতে ভালো সময় লাগে। তাই আগে থেকে কাজ শুরু করুন।

ড্রাইভিং শিখে যাওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। পাড়ার কোন ড্রাইভিং প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে যান। বেসিক আইডিয়াগুলো নিয়ে মোটামুটি কাজ চালানোর মত শিখে আসলেই চলবে।

আরেকটি খুব গুরুত্বপূর্ন বিষয় – এখানে আসার পর নতুন বাংলাদেশি সবার ফোনে প্রবলেম হয়েছে। অর্থাৎ এখানকার নেটওয়ার্কের সাথে দেশ থেকে কেনা ফোনসেট কাজ করেনি। তাই সবাইকেই নতুন সেট কিনতে হয়েছে। আপনি যেখানে যাচ্ছেন সেখানে মোবাইলের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জেনে নিন। দেশ থেকে নতুন ফোন না কিনে এখানে এসে কেনাই ভালো হবে বলে মনে হয়। এছাড়া অন্যান্য ইলেকট্রনিক্সও এখানে এসে কেনাই ভালো হবে।

একটি অবশ্যই কিনতে হবে টাইপ আইটেম হলো – বদনা। ভালো দেখে পছন্দের কালারের একটি শক্তপোক্ত বড়সড় আরএফএল এর বদনা কিনে ফেলুন ৫০ টাকা দিয়ে। ভালো করে মুড়িয়ে সুটকেসে ভরে ফেলুন। সুটকেসের সবচেয়ে দামী আইটেম কিন্তু এই বদনাটি। তাই কোনভাবেই যেন এটি ড্যামেজ না হয় – সেভাবে যত্ন করে কুশনিং দিয়ে প্যাক করবেন। বদনা কাহিনী পরের লিখায় বর্ননা করবো ইনশাল্লাহ।

এছাড়া ব্যক্তিগত ব্যবহারের জিনিসপত্র (যেমন মোজা, বেল্ট, নেলকাটার, রেজার) ইত্যাদি নিয়ে আসবেন। এইতো। সব গুছিয়ে সুটকেসে তালা মেরে ওজন মাপুন। ২৩ কেজি করে ২টি সুটকেস, ৭কেজির ব্যাকপ্যাক, কোমরের ব্যাগে প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ন ডকুমেন্ট (লিস্ট ফেসবুকে পাবেন) নিয়ে রওনা দিন এয়ারপোর্টের পথে।

ডিসক্লেইমার

পূর্ববর্তী পর্ব: রোড টু পিএইচডি-২৭: ভিসা কাহিনী

পরবর্তী পর্ব: রোড টু পিএইচডি-২৯: প্লেনের টিকেট কাটা এবং ইমিগ্রেশন

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


এডু কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এফসিপিএস পরীক্ষার অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরু

এফসিপিএস পরীক্ষার অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরু

মেডিভয়েস রিপোর্ট: এফসিপিএস পার্ট-১, প্রিলিমিনারি এফসিপিএস পার্ট-২, এফসিপিএস পার্ট-২ (ফাইনাল), এমসিপিএসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন…

এক নজরে দেখে নিন বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি 

এক নজরে দেখে নিন বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি 

মেডিভয়েস ডেস্ক: সারা বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে একযোগে শুরু হয়েছে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর