আয়েশা আলম প্রান্তী

আয়েশা আলম প্রান্তী

শিক্ষার্থী, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ


২৮ অক্টোবর, ২০১৭ ০৯:০০ এএম

নারী চিকিৎসক সুবর্ণার বিসিএস সাফল্য

নারী চিকিৎসক সুবর্ণার বিসিএস সাফল্য

ডা. সুবর্ণা শামীম আলো, যিনি চিকিৎসক হিসেবেও মেধাবী। পাশাপাশি ৩৬ তম বিসিএস পরীক্ষায় পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হয়ে দেখিয়ে দিলেন, চিকিৎসকরা চাইলেই সব পারেন।

ডা. সুবর্ণা ছোটবেলা থেকেই মেধাবী শিক্ষার্থী। ২০০৪ সালে কুৃমিল্লা কলাগাছ এমইউ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। ২০০৬ সালে ভর্তি হোন ঢাকার ভিকারুননিসা নুন কলেজে এইচএসসি-তে। পরিবার থেকে পেয়েছেন সহযোগীতা আর অনুপ্রেরণা। বাবা মোঃ ফজলুল হক মোল্লা ও মা নাজমা বেগম এর মেধাবী মেয়ে সুবর্ণা শামীম আলো। ২০০৭ সালে চান্স প্রাপ্ত হয়ে ভর্তির সুযোগ পান সার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ৩৬ তম ব্যাচে। সেশন ২০০৭-২০০৮।

পড়াশোনা করতে ছোটবেলা থেকেই খুব ভালো লাগতো আর মেডিকেলের কিছু বন্ধুর অনুপ্রেরনা আর সাহায্য তার মেডিকেলের যাত্রাকে আরও সহজ করেছে। যাদের মধ্যে পিংকি, রুমু, ঝুমু উল্লেখযোগ্য। দক্ষতার সাথে এমবিবিএস পাশ করেন সুবর্ণা ২০১৩ সালে ও সলিমুল্লাহ হাসপাতাল থেকে ২০১৪ সালের মে মাসে ইন্টার্নি শেষ করেন। শুরু হয় চিকিৎসক হিসেবে ডাক্তার সুবর্ণার পথ চলা। মানবসেবার মহান ব্রত নিয়ে তিনি এফসিপিএস এর পড়াশোনা শুরু করেন ও ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে পেডিআাট্রিক্স (শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ) বিষয়ে এফসিপিএস পার্ট ১পাশ করেন। এরপর শুরু করেন মিটফোর্ট হাসপাতালে তার ৬ মাসের ট্রেনিং। ডা. সুবর্ণা শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেলেন। এর সাথে নতুন সাফল্য যোগ হলো বিএসএমএমইউ ( বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়), পিজিতে এমডি রেসিডেন্সিতে চান্স পাওয়া। শুরু হলো তার ট্রেনিং। এই মার্চে ২ বছর হলো ট্রেনিং-এর।

ডা. সুবর্ণা এগিয়ে চলছিলেন ও কঠোর পরিশ্রম করছিলেন একজন দক্ষ চিকিৎসক হওয়ার জন্য। কিন্তুু এর মাঝে একটি ঘটনা তার জীবনের মোড় বদলে দেয়। তা হলো ৩৬ তম বিসিএস এ পররাষ্ট্র ক্যাডারে সারা বাংলাদেশে প্রথম হওয়া। প্রতিটা নারীর সফলতার পেছনে একজন ভালো, বন্ধুসুলভ অনুপ্রেরণা ও সাহায্যদানকারী জীবনসঙ্গী অনেক বেশী দরকার। ডা. সুবর্ণার বেলাতেও তার ব্যাতিক্রম ঘটেনি।

ডা. সুবর্ণার হাসব্যান্ড ডা. আশিকুর রহমান খান, মেডিকেল অফিসার, ঢাকা মেডিকেল কলেজ। ৩০তম বিসিএস ক্যাডার (স্বাস্থ্য) ও এফসিপিএস পার্ট-১ পাশকারী মেধাবী চিকিৎসক। নিজে মেধাবী, তাই স্ত্রীর মেধার মূল্যায়ন সব সময় করেছেন তিনি। " মূলত হাসব্যান্ডের অনুপ্রেরনাতেই আমার বিসিএস এর পড়া শুরু। অনেক বেশী সাহায্য সহযোগীতা পেয়োছি তার থেকে। আজ আমার বিসিএস এ প্রথম হওয়ার পিছনে তার ভূমিকা অনেক বেশী। " বললেন ডা. সুবর্ণা।

নিজে চিকিৎসক কিন্তুু কেন পররাষ্ট্র ক্যাডারে এই প্রশ্নের জবাবে ডা. সুবর্ণা বলেন, "অনেক দিনের ইচ্ছা ছিলো ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাট হিসেবে কাজ করা। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত নারী যা দেখে অনেক বেশী উৎসাহ পেয়েছি আমি। আর আমরা চিকিৎসকরা বাংলাদেশে কতটা পরিশ্রম করে চিকিৎসক হই ও তার পরে ভালো ক্যারিয়ার গড়তে যতটা কঠিন পথ অতিক্রম করি তা একজন চিকিৎসক হিসেবে আমি জানি। কিন্তুু বিনিময়ে চিকিৎসকরা যথার্থ মর্যাদা পান না। তাদের ন্যায্য দাবি দাওয়া আদায় হয় না।

কারণ চিকিৎসকদের দাবী দাওয়া তাদের কথা উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষকে জানানোর মতো কেউ নেই। তাই মনে হয়েছে কারও এগিয়ে আসা উচিত। পররাষ্ট্র ক্যাডার হওয়া আমার ইচ্ছাপূরণকে সহজ করবে বলে আমি আশাবাদী। এর মাধ্যমে আমি দেশকে বহিঃবিশ্বে প্রতিনিধিত্ব করতে পারি। " অত্যন্ত আবেগজনিত ভাষায় কথাগুলা বলছিলেন ডা. সুবর্ণা শামীম আলো।

পড়াশোনার পন্থা ও কিভাবো এ সফলতা- এ প্রসঙ্গে ডা. সুবর্ণা জানান, তিনি মেডিকেল শিক্ষার্থী ছিলেন তাই নিয়মিত পড়ার অভ্যাস আছে তার। এটাই তাকে সবচেয়ে বেশী সহায়তা করেছে। নিজের সর্বোচ্চ পরিশ্রমটুকু করেছেন। সকালে বিকালে হাসপাতাল ডিউটি করে দিনে পড়ার সময় পেতেন না। রাতে টানা ৫-৬ ঘন্টা পড়েছেন। চেষ্টা করেছেন সব বুঝে বুঝে পড়তে আর নিয়মিত পড়েছেন। কোন কোচিং অথবা কোথাও পড়েননি তিনি। যতটুকু সাহায্য পেয়েছেন পড়ায় তা হাসব্যান্ড ডা. আশিকুর রহমানের থেকে। অধ্যবসায়, পরিশ্রম আর দৃঢ় ইচ্ছার জন্য সম্ভব হয়েছে ভালো ফল করার তাছাড়া চাকরির এই দুর্ভোগের যুগে বিসিএস চাকরিকে সম্মানকজনক ও নিরাপদ মনে হয়েছে বলে জানান তিনি।

স্ত্রী সারাদেশের সবাইকে পেছনে ফেলে প্রথম অনুভূতি জানতে চাইলে ডা. আশিক বলেন, "ভাষায় প্রকাশ করতে পারবোনা কতটা খুশি আমি। গর্বিত স্বামী আমি। আজ স্ত্রীর পরিচয়ে সারাদেশের মানুষ চিনছে। কয়জন হাসব্যান্ড এতটা সৌভাগ্যবান হোন!? নিজে প্রথম হলেও হয়তো এত খুশি লাগতো না। "

তিন বোন আর এক ভাই এর সংসারে ডা. সুবর্ণা ছাড়াও বাকি সবাই অত্যন্ত মেধাবী। সব মেয়েদের উদ্দেশ্যে এই মেধাবী নারী বললেন, " আমরা নারীরা অনেক শক্তিশালী। নিজের উপর বিশ্বাস রাখলে আর কঠোর পরিশ্রম করলে মেয়েরা সব পারবে। " এরকম হাজারও সুবর্ণা তৈরী হোক ঘরে ঘরে যারা সমাজকে আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দিবেন নারীরা পুরুষের চেয়ে কোন অংশে কম নন।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত