সোমবার ২০, নভেম্বর ২০১৭ - ৬, অগ্রাহায়ণ, ১৪২৪ - হিজরী



ডা. রেদওয়ান বিন আবদুল বাতেন

জনস্বাস্থ্য গবেষক

ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া


রোড টু পিএইচডি-২৭: ভিসা কাহিনী

অফার লেটার পেয়ে গেছেন – এখন দেশান্তরের প্রস্তুতি নিতে হবে তাই না? খুব সাবধান থাকবেন – চান্স পাবার আনন্দে যেন ভিসা এবং ইমিগ্রেশানের জটিল প্রসেসের কোথাও ভুল হয়ে না যায়।

অফার লেটার পাবার পর আপনি ইউনিভার্সিটির কাছে I-20 চাইবেন। এই কাগজটি ওরা আপনাকে কুরিয়ার করে পাঠাবে। এ কাগজে আপনার নাম, প্রোগ্রামের নাম, কতদিনের প্রোগ্রাম, টিউশান ফি এবং লিভিং কস্ট মিলে কত টাকা খরচ হতে পারে, আপনার ইউনিভার্সিটি আপনাকে কত টাকা দিচ্ছে – ইত্যাদি সবকিছুর বর্ননা থাকবে। কাগজটি হাতে পাবার পর ভালোভাবে দেখে নেবেন যে সব ঠি কাছে কিনা।

I-20 পাবার পর অনলাইনে কিছু ফর্ম পূরন করে SEVIS Fee জমা দেবেন। এটি বাসায় বসেও দিতে পারেন, আবার ব্যাংক এশিয়া মতিঝিল শাখায় গিয়েও দিতে পারেন – আপনার ইচ্ছা।

তারপর মার্কিন দূতাবাসের ওয়েবসাইটে গিয়ে ভিসার জন্য এপ্লিকেশান করবেন। আপনি এপ্লাই করবেন F1 বা স্টুডেন্ট ভিসার জন্য। নির্দিষ্ট তারিখে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভিসা ইন্টারভিউ এর এপোয়েন্টমেন্ট এর জন্য এপ্লাই করবেন। তারপর একটা নাম্বার দেবে আপনাকে। সেটি ব্যবহার করে ভিসার ফি জমা দেবেন ইস্টার্ন ব্যাংকের নির্দিষ্ট কোন শাখায়।

নির্ধারিত দিনে সময়ের আগেই আমেরিকান এম্বেসিতে হাজির হবেন। আমি প্রেফার করি সকাল সকাল ইন্টারভ্যু’র টাইম নেবার। কারন তখন ভীড় কম থাকে, রাস্তায় জ্যাম থাকেনা। বেলা গড়াতে থাকলে রাস্তায় জ্যাম বাড়ে, তাপ বাড়ে, ঘাম শুরু হয়, মানুষের ঠেলাঠেলি আর আজাইরা খাজুরে আলাপ শুরু হয়, লাইন দীর্ঘ হতে থাকে। তাই সকাল সকাল টাইম নেয়টা ভালো।

এম্বাসিতে যা হয় তা হোল – আপনাকে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করিয়ে, সিকিউরিটি চেক করিয়ে অবশেষে ইন্টারভ্যু কাউন্টারে যেতে দেবে। আপনার সাথে একটা ট্রান্সপারেন্ট ফাইলে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট থাকবে। এছাড়া মোবাইল ফোন বা কোন ইলেকট্রনিক্স বা ব্যাগ বা পানি বা খাবার ইত্যাদি কিছুই নিতে পারবেন না। এগুলোর লিস্ট আমেরিকান এম্বেসির ওয়েবসাইটেই থাকে – সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে যাবেন।

ভিসা ইন্টারভ্যু আসলেই একটি অদ্ভুত জিনিস। এপ্লিকেশানের পুরো প্রক্রিয়াটি যেমন অনিশ্চয়তায় ভরপুর ছিল – ভিসা ইন্টারভ্যুটিও ঠিক সেরকমই একটি অভজ্ঞতা দেবে আপনাকে। যদি আপনি ফুল ফান্ডেড স্টুডেন্ট হন, তবে আপনার ভিসা পাবার সম্ভাবনা অনেক বেশী। যদি পার্শিয়াল ফান্ডেড হন – তবে অনিশ্চয়তার পালা শুরু।

এখানে সবচেয়ে বেশী যেটি গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার বলে আমার কাছে মনে হয়েছে তা হলো – ডকুমেন্ট । আপনার সাথে যদি প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট যথাযথ ফরম্যাটে রেডি থাকে – তবে অনেক ভেজালের মধ্যেও আপনি সফল হতে পারেন। আবার ফুল ফান্ড থাকার পরও কাগজপত্র ঠিক নেই বা অনলাইনে ফর্ম পূরনের সময় ভুল করেছেন – তো আপনার ভিসা কাহিনী লম্বা হবে এটাই স্বাভাবিক।

ফেসবুকে অনেকগুলো গ্রুপ আছে – যারা স্টুডেন্টদের ভিসা প্রসেস নিয়ে কাজ করে। এই গ্রুপগুলোতে ভিসা ইন্টারভ্যুর প্রচুর এক্সপিরিয়ান্স শেয়ার করা থাকে, আগের বছরগুলোর এক্সপিরিয়ান্সও তোলা থাকে ফাইলে অপশনে – সবগুলো ঘেটে পড়ুন। পরিশ্রম করুন। কোন একজনের কাছে হয়তো একটি ডকুমেন্ট দেখতে চেয়েছিল যা আর কারও কাছে কখনই চায় নি – সেটিও আপনার ট্রান্সপারেন্ট ফোল্ডারে ঢুকিয়ে নিন।

কেয়ারফুল থাকুন, আপ্টুডেট থাকুন। ট্রাম্প মামার আমলে সবকিছুই একটু উঠানামা করে – তাই সচেতন থেকে কাজগুলো এগিয়ে নিন। 

ডিসক্লেইমার

পূর্ববর্তী পর্ব: রোড টু পিএইচডি-২৬: এসব করতে কতদিন লাগবে?

পরবর্তী পর্ব: রোড টু পিএইচডি-২৮: ব্যাগ গোছানো-মেডিকেল চেকআপ-অন্যান্য

সংবাদটি শেয়ার করুন:

বার পঠিত



আরো সংবাদ

নন–ক্যাডারে ১৮০০ পদ শূন্য

নন–ক্যাডারে ১৮০০ পদ শূন্য

০৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১১:৪৯


রোড টু পিএইচডি-৩০: আমেরিকার জীবন

রোড টু পিএইচডি-৩০: আমেরিকার জীবন

৩০ অক্টোবর, ২০১৭ ২০:২৮













High blood pressure redefined for first time in 14 years: 130 is the new high

১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১৯:৪৬


New global commitment to end tuberculosis

১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১৯:৩১


























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর