ঢাকা      শনিবার ২০, অক্টোবর ২০১৮ - ৪, কার্তিক, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. মো. আবু শিহাব

এম.বি.বি.এস (আর.এম.সি)০৩-০৪

বি.সি.এস(স্বাস্হ্য)

এফ.সি.পি.এস(শেষ পর্ব), মেডিসিন

এম.ডি(ফেইজ বি), এন্ডোক্রাইনোলজি,

বি.এস.এম.এম.ইউ


রেসিডেন্সি, এমডির এডমিশন টেস্ট : তীরে যেয়ে তরী ডুবিও না

 

অভিষ্ঠ লক্ষের কাছাকাছি পৌছে যদি সামান্য ভুলের কারনে সফল হওয়া না যায়, তবে সে ব্যাথা সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হয়। ডাক্তারদের রেসিডেন্সি এমডির এডমিশন টেষ্ট এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা যেটার জন্য সারা দেশের অসংখ্য মেধাবী ডাক্তার বছর জুড়ে অমানবিক পরিশ্রম করে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে থাকে।

৩ ঘন্টার এই পরীক্ষায় ২০০ বা বলতে গেলে ১০০০ টা প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। অল্প সংখ্যক আসনের বিপরীতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া এক ঝাক মেধাবী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেন, সুতরাং এখানে লড়াই হয় হাড্ডাহাড্ডি।

এধরেন পরীক্ষায় সফল হতে হলে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি যেমন যথার্থ হওয়া উচিত তেমনি পরীক্ষার মুহূর্তেও দরকার হয় কিছু কৌশলের।

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি:

এক. আগামী ১০ ই নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে এডমিশন টেষ্ট। অর্থাৎ হাতে রয়েছে আর মাত্র ১৩ দিন। এই দিনগুলিই হতে পারে আপনার সফলতার সোপান।

দুই. প্রথম ১০ টি দিন কে ভাগ করে নিন সিলেবাস অনুসারে। এই ১০ দিন এর মুহূর্তগুলি থেকে কম সময়ে অধিক লাভ তুলতে হবে আপনাকে।

তিন. সুতরাং নতুন বা খুব কঠিন বিষয়গুলি পড়া থেকে বিরত থাকুন। যে প্রশ্নের উত্তর জানেন না বা সহজে খুজে পাচ্ছেন না সেটা খুজে সময় নষ্ট করবেন না। জানা জিনিসগুলোকেই ঝালিয়ে নিন, যেন সেগুলো পরীক্ষায় ভুল না হয়। মনে রাখবেন অনেক জটিল প্রশ্নের উত্তর পারার পর ও সহজ জিনিস ভুল করলে আপনার চান্স হবে না।

চার. বিগত সালের প্রশ্ন থেকে বরাবরই কমন পড়ে। কখনও কখনও হুবহু প্রশ্নটা না আসলেও টপিক টা কমন থাকে। এর পিছনে একটি কারণ যে প্রায় প্রতি বৎসরই একি টিচারদের কাছ থেকে প্রশ্ন নেওয়া হয়, সুতরাং তাদের পছন্দের বিষয়গুলি ঘুরে ঘুরে আসে। সুতরাং অল্প সময়ে বেশি লাভ পেতে হলে বিগত সালের প্রশ্ন/ টপিকগুলো সলভ করুন। এক্ষেত্রে ১০০% গ্রহণ যোগ্য কোন গাইড নেই, তবে last hour বইটিকে আমার কাছে তুলনামুলক গ্রহন যোগ্য মনে হয়েছে।

পাঁচ. মনে রাখবেন সুস্থ্ শরীর নিয়ে অনেক অসাধ্য ও সাধন করা যায়। তাই শরীরের যত্ন নিন। বিশেষ করে এক্সাম এর ২-৩ দিন আগে থেকে পূর্ণ ঘুম এবং বিশ্রাম নিন। মস্তিষ্ককে কুল ডাউন করুন। অধিক চাপ নিবেন না। এই সময়ের মানসিক চাপ সফলতার ব্যাস্তানুপাতিক।

ছয়. পরীক্ষার পূর্ব রাত্রিতে ৬-৮ ঘন্টা ঘুমিয়ে নিন। রাত ১১ টার মধ্যে শুয়ে পড়ুন। স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করুন। এতে চাপ কমবে, মন সতেজ থাকবে। ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বেই প্রয়োজনীয় জিনিষগুলি গুছিয়ে রাখুন- যেমন কলম, পেন্সিল-২ টা, পেন্সিল কাটার, রাবার, এডমিট কার্ড, হাত ঘড়ী, পরনের ড্রেস ইত্যাদি।

সাত. পরীক্ষার দিন সকালে ভালভাবে নাস্তা করতে কখনই যেন ভুল না হয়, কারন এত লম্বা সময়ের পরীক্ষাতে ব্রেইন পর্যাপ্ত নিউট্রিশন না পেলে হ্যাঙ্গ হয়ে যায়।

আট. ঢাকার রাস্তায় জ্যাম থাকবেই। সুতরাং সময় হাতে নিয়ে বের হবেন। অন্তত পরীক্ষার ৪৫ মি-১ ঘন্টা পূর্বে এক্সাম হলে পৌছাবেন। সিট খুজে নিয়ে প্রয়োজনে টয়লেট সেরে নিবেন।

শেষ ভাল যার সব ভাল তার। সব শেষে তাই পরীক্ষার ৩ টি ঘন্টায় আপনার ভাগ্য নির্ধারণ করে দিবে। তাই জেনে রাখুন যুদ্ধের মুহূর্তের কিছু কৌশল যা ফলো করতে পারলে জয়মাল্য আপনার প্রাপ্য।

নয়. রেসিডেন্সি এডমিশন টেষ্টে টাইম মেনেজমেন্ট টাই হচ্ছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিটা সেকেন্ড সময় এখানে মূল্যবান। পরীক্ষার্থীকে ১৮০ মিনিট এ উত্তর দিতে হবে ২০০ টি প্রশ্নের বা ১০০০ টি সত্যমিথ্যার উত্তর সঠিকভাবে বৃত্ত ভরাট করে দিতে হবে। এজন্য পরীক্ষার্থীকে শুরু থেকেই সময়ের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। সতরাং সময় কে ভাগ করে নিন। যেমন প্রতি ২০ মিনিটে ২৫ টি প্রশ্নের উত্তর দিন। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন সব উত্তর শেষে আপনার হাতে ১০-১৫ মিনিট সময় থাকে, এই সময়ে answer গুলো রিভিউ বা কারেকশনের সুযোগ থাকবে।

দশ. কিছু হার্ড কোশ্চেন থাকে বিশেষ করে anatomy তে তো থাকবেই। এসব হার্ড বা অজানা কোশ্চেনে সময় ক্ষেপন না করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ, বরং সে সময় টা বুঝে answer করতে হয় এমন questions এর জন্য রেখে দেওয়া ভাল। আমার অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়েছে হার্ড কোশ্চেনে মিথ্যা (F) বেশি থাকে। সুতরাং কোন stem টা সত্য মনে হলে সেটা T দিয়ে বাকি সব F বা ৫ টাই F দিয়ে চলে যান।

এগারো. নেগেটিভ মার্কিং এর বেপার টা ভুলে যান। রেসিডেন্সিতে নেগেটিভ মার্কিং হচ্ছে ০.০৫। অর্থাৎ ৫ টা stem এর মধ্যে যদি আপনি ১ টা সঠিক answer করতে পারেন তো আপনার loss নেই, আর ২ টা হলে আপনার প্লাস মার্ক থাকবে।

বারো. প্রতিটা প্রশ্নের ৫ টা stem একবারেই পড়ুন খুজে দেখুন কোনটা কোনটা true। ধরুন ২ টা true, তাহলে answer sheet এর উপরের T বৃত্ত দুটি ভরাট করুন এরপর নিচের F বৃত্ত ৩ টি ভরাট করুন। কখনোই একটা একটা stem পড়ে পড়ে answer sheet এ বৃত্ত ভরাট করতে যাবেন না, এতে অনেক সময় নষ্ট হবে।

তেরো. কোন প্রশ্নের উত্তর বাদ রাখবেন না, সিরিয়ালি সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাবেন। যদি কোন উত্তর নিয়ে confusion থাকে সেটা মার্ক করে রাখুন। এক্সাম এর সময় পার্শ্বের পরীক্ষার্থীদের সাথে কথা না বলাই ভাল, এতে মনযোগ এবং সময় দুটোই নষ্ট হয়। এক্সাম শেষে হাতে সময় থাকলে answer গুলো review করুন।

চৌদ্দ. এক্সাম এর সময় মাথা ঠান্ডা রাখুন, answer sheet হাতে পাওয়ার পর নিজের তথ্যগুলো সঠিক ভাবে কলম দিয়ে ভরাট করে নিন এবং রিচেক করুন।

অবশেষে যেটা বলবো যে practice makes a man perfect. তাই এখন থেকেই mock/model test দিয়ে পরীক্ষায় সময় নিয়ন্ত্রনের practice করে নিন।

আত্মবিশ্বাস রাখুন, স্রষ্টার উপর ভরসা রাখুন। প্রস্ততি যা নেওয়ার নিয়েছেন এখন কৌশলে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যান। সকল পরীক্ষার্থীদের জন্য রইলো শুভ কামনা।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


এডু কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এফসিপিএস পরীক্ষার অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরু

এফসিপিএস পরীক্ষার অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরু

মেডিভয়েস রিপোর্ট: এফসিপিএস পার্ট-১, প্রিলিমিনারি এফসিপিএস পার্ট-২, এফসিপিএস পার্ট-২ (ফাইনাল), এমসিপিএসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন…

এক নজরে দেখে নিন বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি 

এক নজরে দেখে নিন বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি 

মেডিভয়েস ডেস্ক: সারা বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে একযোগে শুরু হয়েছে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর