সোমবার ২০, নভেম্বর ২০১৭ - ৬, অগ্রাহায়ণ, ১৪২৪ - হিজরী



ডা. রেদওয়ান বিন আবদুল বাতেন

জনস্বাস্থ্য গবেষক

ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া


রোড টু পিএইচডি-২৬: এসব করতে কতদিন লাগবে?

আমেরিকায় পাবলিক হেলথে পিএইচডিতে অ্যাপ্লাই করতে চান, এহেন পরিস্থিতিতে খুব প্রাসঙ্গিক একটি প্রশ্ন হলো – এর প্রস্তুতিতে কতদিন সময় লাগতে পারে? আপনার পরিবার, বন্ধুমহল, কলিগমহল এবং সর্বোপরি আপনি নিজেও এই প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন নিশ্চয়ই।

নির্মম বাস্তবতা হলো অন্য অনেক কিছুর মত এক্ষেত্রেও – ইট ডিপেন্ডস, এটা অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে। স্পেসিফিক্যালি বলা সম্ভব নয় যে আপনার প্রস্তুতিতে কতদিন লাগতে পারে।

যেটা স্পেসিফিক্যালি বলা সম্ভব তা হলো আপনি প্রস্তুতি গ্রহন শুরু করছেন কবে থেকে। অর্থাৎ আপনার জার্নির স্টার্টিং পয়েন্ট কোনটি। এর সঠিক উত্তর কেবল আপনিই জানেন। ওয়াও! গ্রেট স্টার্ট টু অ্যান আনসার্টেইন জার্নি মাই ফ্রেন্ড!!

ব্যাপার হলো যে আপনাকে একসাথে অনেকগুলো কাজ করতে হবে। একটি একটি করে কাজ করতে গেলে আপনার অনেক সময় লাগবে। অ্যাপ্লিকেশানের পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক সময়সাপেক্ষ। শুরু থেকে প্রতিটা মুহূর্তে আপনাকে কাজ করতে হবে। আপনার প্রতিটি কাজই হবে অ্যাপ্লিকেশানকে কেন্দ্র করে।

যেমন ধরুন প্রথমে আপনি একটি মাস্টার্সে ভর্তি হলেন। একই সাথে চাকরি করছেন। এরই সাথে GRE’র জন্য পড়ছেন। প্রফেসরের সাথে জার্নাল পাবলিশ করার জন্য কাজ করছেন। প্রতিদিন নিয়ম করে ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট ঘাঁটছেন। প্রফেসরদেরকে ইমেইল করছেন। বউয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে গৃহযুদ্ধ ঠেকাচ্ছেন। এই সবগুলো কাজ একই সাথে করছেন।

GRE পড়তে হয়ত আপনি ৬ মাস সময় নিবেন। কাগজপত্র গোছাতে ৩ মাস। TOEFL দিতে ২ মাস চাইতেই পারেন। সবগুলোই আপনার সিদ্ধান্ত। মূল ব্যাপার হলো আপনার লিস্ট থেকে একটা একটা করে কাজ কমছে কি না। টিক দিয়ে পরবর্তী কাজগুলোতে হাত দিতে পারছেন কি না। দিস ইজ অল দ্যাট ম্যাটারস।

আপনার মত ব্যস্ত মানুষ আর কেউ নেই। কিন্তু আপনি যে কী নিয়ে ব্যস্ত তা কেবল আপনি আর আপনার একান্ত আপনজন জানে। তাই বাইরের মানুষ নানান কথা বলবে। উদ্ভট প্রশ্ন করে মেজাজ খারাপ করে দিবে। বি কুল ম্যান।

আমার হিসেবে মোটামুটি ৩ বছর লাগতে পারে সব প্রসেস সম্পন্ন করতে। কম-বেশি হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। না হওয়াটাই অস্বাভাবিক।

আপানার পরিকল্পনা আপনার হাতে। ক্যালেন্ডার আপনার মাথায়। আপনি যেন চোখ বন্ধ করলে দেখতে পান যে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে আপনি কী করছেন এবং তখন কত টাকা আপনার হাতে থাকা চাই।

পরের বছরের এপ্রিল মাসে যে কাজটি করতে হবে তার ক্লিয়ার আইডিয়াও কিন্তু থাকা চাই। সরকারি বন্ধ বা অন্য ছুটির দিনগুলোকেও হিসেবে নিতে হবে যাতে সেসময় কাজ করে আপনি নিজেকে এগিয়ে নিতে পারেন।

কোন বছর ডিসেম্বরের ১ তারিখের মধ্যে অ্যাপ্লাই করলে পরের বছর মার্চ বা এপ্রিল মাসে রেজাল্ট আসা শুরু করবে। এর মাঝে স্কাইপে ইন্টারভিউ হয়ে যাবে। আল্লাহর অশেষ রহমতে আপনি চান্সও পেয়ে যাবেন। কিন্তু আসল অপেক্ষা যে ফান্ডের সে খবর আপনার হাতে আসবে ঐ এপ্রিলে। তাই দম বন্ধ করে এই ক’মাস অপেক্ষা করুন।

তীব্র মানসিক যাতনার এই সময়টিতে বাহ্যিকভাবে স্বাভাবিক থাকার অভিনয় করে চলতে হবে। কারো সাথে আলাপ করতে যাবেন না যে আমি অমুক অমুক ইউনি’র এতগুলো প্রোগ্রামে অ্যাপ্লাই করেছি। ভুলেও এ কাজ করবেন না। কারন আপনি চান্স পাবেন কিনা সে বিষয়ে তো কোন নিশ্চয়তা নেই তাই না?

আমাদের দেশের মানুষের স্বভাব খুব খুব খারাপ। অন্যের ব্যর্থতাকে উদযাপন করতে তারা খুব আগ্রহী। কিন্তু সফলতাকে উৎসাহ দিতে বড়ই কৃপণ।

বাস্তব জীবনে কাছের মানুষদের এ রূপটি একপর্যায়ে আপনার সামনে উন্মোচিত হবেই এবং আপনি তাতে বিস্মিত, আপসেট এবং ডিসগাস্টেড হবেন। তাই ধৈর্য ধরে পেটের কথা পেটে রাখুন।

বেশি করে দোয়া করতে থাকুন। আপনার এতদিনের এত পরিশ্রমের কোন একটি ভালো ফল নিশ্চয়ই আসবে। হতে পারে এই সামনের এপ্রিলেই আপনার হাতে এলো কাঙ্ক্ষিত সেই অফার লেটার যার জন্য আপনার এতদিনের এতসব প্রচেষ্টা।

ডিসক্লেইমার

পূর্ববর্তী পর্ব: রোড টু পিএইচডি-২৫: কত টাকা লাগবে? কে দিবে?

পরবর্তী পর্ব: রোড টু পিএইচডি-২৭: ভিসা কাহিনী

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

বার পঠিত



আরো সংবাদ

নন–ক্যাডারে ১৮০০ পদ শূন্য

নন–ক্যাডারে ১৮০০ পদ শূন্য

০৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১১:৪৯


রোড টু পিএইচডি-৩০: আমেরিকার জীবন

রোড টু পিএইচডি-৩০: আমেরিকার জীবন

৩০ অক্টোবর, ২০১৭ ২০:২৮



রোড টু পিএইচডি-২৭: ভিসা কাহিনী

রোড টু পিএইচডি-২৭: ভিসা কাহিনী

২৭ অক্টোবর, ২০১৭ ১৮:৩২










High blood pressure redefined for first time in 14 years: 130 is the new high

১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১৯:৪৬


New global commitment to end tuberculosis

১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১৯:৩১


























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর