ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১ ঘন্টা আগে
ডা. রেদওয়ান বিন আবদুল বাতেন

ডা. রেদওয়ান বিন আবদুল বাতেন

জনস্বাস্থ্য গবেষক

ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া


২৫ অক্টোবর, ২০১৭ ২০:১৭

রোড টু পিএইচডি-২৫: কত টাকা লাগবে? কে দিবে?

রোড টু পিএইচডি-২৫: কত টাকা লাগবে? কে দিবে?

আমেরিকায় পোস্ট গ্র্যাজুয়েশান লেভেলে টিউশান ফি অনেক বেশি। মাস্টার্স বা পিএইচডি যে প্রোগ্রামেই আপনি পড়তে চান না কেন তা অনেক ব্যয়বহুল। উচ্চশিক্ষা এখানে আপনার অধিকার নয়। এটি এক ধরনের প্রিভিলেজ। বিলাসিতাও বলতে পারেন। টাকা থাকলে আপনি পড়বেন, না থাকলে পড়বেন না। হিসেব খুব সহজ।

আমাদের মতো গরীব দেশের মেধাবী স্টুডেন্টরা বাইরে পড়তে যেতে চায়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে তাদেরকে পয়সা দিবে কে? বিষয়টা জটিল।

কিছু রূপকথা শোনা যায়। আমাদের অনেক প্রফেসরেরা সরকারি টাকায় বিলেতে গিয়ে পড়ে ডিগ্রি নিয়ে ফিরেছেন। কেউ আবার না ফিরেই বিলেতেই থিতু হয়েছেন। কাহিনীগুলো সত্য। সাথে আরও যা সত্য তা হলো সেই প্রফেসরেরা সরকারি বৃত্তি নিয়ে পড়তে গিয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু দেশে ফিরে সে স্কলারশিপের সুযোগ নিজেরাই বন্ধ করে দিয়েছেন।

অর্থাৎ, এখন আর মেডিকেল সেক্টরের কেউ সরকারি বৃত্তি নিয়ে বাইরে যেতে পারেন না। কারণ সেই সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। থ্যাংক্স টু প্রফেসর মহীরুহ।

হঠাৎ করে একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখলেন যে আপনার নামে ডাকে চিঠি এসেছে। আপনি স্কলারশিপ পেয়ে গেছেন। সরকার নিজে প্লেনে করে আপনাকে বিলেতে পৌছে দিবে। আপনি ডিগ্রি করে রাজার বেশে ফিরে আসবেন। ওয়েক আপ ব্রো।

রিয়েলিটি অনেক চেঞ্জ হয়ে গেছে। আপনি বৃটিশ আমলের স্বপ্ন মুঘল আমলের চশমা দিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন। ঘুম থেকে উঠুন ভাই। চোখে মুখে পানি দিন।

নিজে চাকরি করে পয়সা জমিয়ে পড়তে যাওয়াও সম্ভব না। কারণ প্রথম জীবনে যে ধরনের চাকরি পাবেন এবং করতে বাধ্য হবেন তাতে নিজে চলে মাটির ব্যাংকে কিছু পয়সা জমাতে পারবেন। কিন্তু বাইরে পড়তে পারবেন না। বিষয়টি আরও জটিল হয় যখন পারিবারিক দায়িত্ব নামক বস্তুটি আপনার কাঁধে এসে পড়ে।

তাহলে উপায়? উপায় একটিই। রিসার্চ বা গবেষণা। হ্যাঁ, গো + এষনা = গবেষণা। এই গবেষণা বস্তুটি বিদেশিদের খুব প্রিয়। যেহেতু তৈলমর্দন আর চাটুকারিতায় মেধা অপচয় করতে হয় না তাই গবেষণাই তাঁদের ধ্যান আর জ্ঞান। এজন্য পকেটের বিস্তর টাকাপয়সা খরচ করে তারা আনন্দভোগ করে। সেই টাকার পরিমাণ মিলিয়নের অংকে পরিমাপ করতে হয়। আমাদের দেশের মতো শ’ বা হাজার দিয়ে তাদের পোষায় না। কী অদ্ভুত তাই না?

পশ্চিমা দেশগুলোতে দু’ধরনের ডিগ্রি আছে। রেগুলার আর রিসার্চ। রেগুলার ডিগ্রিগুলোতে টাকার বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিছু কোর্স করবেন।

অন্যদিকে রিসার্চ ডিগ্রিগুলোতে কিছু কোর্সের পাশাপাশি রিসার্চ ওয়ার্ক থাকবে। আপনাকে একটা থিসিস বা মৌলিক গবেষণা করতে হবে। এই গবেষণা করার জন্য আপনাকে কোন একজন প্রফেসরের আন্ডারে কাজ করতে হবে। এই প্রফেসর আপনাকে শুধু শুধু নিবেন না, তাঁর ব্যক্তিগত রিসার্চ প্রজেক্টে সহকারী হিসেবে নিবেন।

অর্থাৎ আপনি ঐ প্রফেসরের নির্দেশনায় তাঁর গবেষণা প্রজেক্টের বিভিন্ন কাজে সহযোগী হিসেবে কাজ করবেন। বিনিময়ে আপনার টিউশান ফি মাফ করে দিবে অর্থাৎ আপনাকে বেতন দিয়ে পড়তে হবে না। ভাগ্য ভালো হলে আপনি মাসিক একটা অ্যামাউন্ট বেতন হিসেবে পাবেন যা দিয়ে সংসার চালাবেন। এই হলো বাইরে পড়তে আসার সারাংশ।

তাই দেশের বাইরে অ্যাপ্লাই করার সময় এই গবেষণা ডিগ্রিগুলোতে অ্যাপ্লাই করতে হবে। এখন অ্যাপ্লিকেশানের যে কাজগুলোর জন্য টাকা লাগবে সেগুলোর একটা খসড়া করার চেষ্টা করিঃ

০১। GRE Exam Fee

০২। GRE Score sending to each University Fee

০৩। TOEFL/IELTS

০৪। TOEFL Score sending to each University Fee

০৫। SOPHAS Fee for each program

০৬। Individual University Application Fee

০৭। WES Verification Fee

০৮। Academic Transcript and Certificate Fee

০৯। International Courier Fee

১০। Master Program Tuition Fee

১১। Transport Fee

১২। Food and Entertainment Fee

১৩। Office Stationary Fee

১৪। Internet Fee

১৫। Laptop, Modem, accessories Fee

ইন্টারনেট ঘেঁটে এই ফিগুলো ক্যালকুলেট করে ফেলুন। এগুলো রেগুলার চেঞ্জ হয়। আর ব্যক্তিগত লাইফস্টাইলের কারণে দৈনন্দিন জীবনের অনেক খরচ উঠানামা করে।

মনে রাখবেন এই টাকাটা আপনাকেই অ্যারেঞ্জ করতে হবে। কেউ আপনাকে টাকাটা হাতে দিবে না। আপনাকে কষ্ট করে যোগাড় করে তারপর পুরোটাই অ্যাপ্লিকেশানের পেছনে খরচ করে ফেলতে হবে।

এখানে মাত্র কয়েক লক্ষ টাকার ট্রাঞ্জেকশান হবে। কিন্তু জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে এই সামান্য ক’টি টাকাই যথেষ্ট। ভুল বললাম, এই সামান্য ক’টা টাকার ‘যথাযথ খরচ’ই জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে যথেষ্ট। তাই খুব সাবধানে খরচ করবেন।

আরো একটি বিষয় হলো এই টাকাটা কিন্তু একবারে এক সময়ে খরচ করতে হবে না। বরং ধাপে ধাপে কয়েক বছরব্যাপী আপনাকে খরচ করতে হবে। তাই এখনই আপনার হাতে কয়েক লক্ষ টাকা থাকার দরকার নেই।

পরিকল্পনা করুন যে কোন কাজটি আগে করবেন। সেই কাজের জন্য টাকা আগে অ্যারেঞ্জ করুন। মাস্টার্সের পুরো টাকা একসাথে দিতে হবে না, সেমিস্টার ওয়াইজ টাকা দিতে হবে। তাই ক্যালেন্ডার করে কবে কোন খাতে কত টাকা দিতে হবে তার খসড়া হিসেব করুন। প্রথমে মনে হবে অসম্ভব। হয়তো সময় একটু বেশি লাগবে। কিন্তু আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ্‌।

চাকুরি করে আয় করে এভাবে আবার সেভিংস করাটা খুব খুব কঠিন কাজ। পরিবার থাকলে, পারিবারিক দায়িত্ব থাকলে বিষয়টি আরো কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু ব্যাপারটি অসম্ভব নয় মোটেও। শুধু প্রয়োজন একটু পরিকল্পনার, একটু ম্যানেজমেন্টের, নিজেকে একটু সামলে চলার, পরিবারের একটু আন্ডারস্ট্যান্ডিং মানসিকতার। আর অবশ্যই আল্লাহর অনেক অনেক রহমতের প্রয়োজন।

রিজিকের মালিক যেহেতু আল্লাহ, তিনিই ঠিক করে রেখেছেন কখন কোথায় আপনার ভাগ্য লিখা আছে। আপনার কাজ শুধুই চেষ্টা করে যাওয়া। তাই না?

ডিসক্লেইমার

পূর্ববর্তী পর্ব: রোড টু পিএইচ ডি-২৪: স্কাইপ ইন্টারভিউ

পরবর্তী পর্ব: রোড টু পিএইচ ডি-২৬: এসব করতে কতদিন লাগবে?

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত