রবিবার ১৭, ডিসেম্বর ২০১৭ - ২, পৌষ, ১৪২৪ - হিজরী

একান্ত সাক্ষাৎকার

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফল এখন পর্যন্ত জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন: স্বপ্নীল আবদুল্লাহ

সদ্য অনুষ্ঠিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে স্বপ্নীল আবদুল্লাহ। এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় তার প্রাপ্ত নম্বর ৯০। তার টোটাল মেরিট স্কোর ২৯০। ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ থেকে গোল্ডেন জিপিএ ফাইভসহ বরিশাল বিভাগ থেকে প্রথম হয়েছে সে। এরআগে, ২০১৫ সালে এসএসসি পরীক্ষাতেও বরিশাল জেলা স্কুল থেকে গোল্ডেন জিপিএ ফাইভ-সহ বরিশাল শিক্ষা  বোর্ডে প্রথম হয় সে। একই স্কুল থেকে ২০১২ সালে জেএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএসহ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিলাভ করে। এরআগে ২০০৯ সালে বরিশাল জেলা স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয় আবদুল্লাহ। সেইসঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিলাভ করে সে।  

স্বপ্নীল আবদুল্লাহর পিতা ডা. শফিকুল ইসলাম। তিনি বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন। তার মা ডা. সৈয়দা সুলতানা (সুইটি)। তিনিও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে গাইনোকোলজি বিভাগে কর্মরত আছেন সহকারী অধ্যাপক হিসেবে। 

স্বপ্নীল আবদুল্লাহর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন মেডিভয়েসের বার্তা সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন। 


মেডিভয়েস :  মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়ে কেমন লাগছে?

স্বপ্নীল আবদুল্লাহ :  আলহামদুলিল্লাহ। এই অনুভূতি তুলনাহীন। এখন পর্যন্ত জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন বলতে পারি এটাকে। 

 

মেডিভয়েস :  সাফল্যের পিছনে কোন বিষয়গুলো ভূমিকা রেখেছে?

স্বপ্নীল আবদুল্লাহ :  সবার আগে অবশ্যই স্রষ্টার আশির্বাদ। নিজে সিনসিয়ার থেকেছি, ডিটারমাইন্ড থেকেছি। পরিশ্রম করেছি অনেক। পাশাপাশি ফ্যামিলির সাপোর্ট, টিচারদের গাইডলাইন এবং সবার শুভ কামনা- সব মিলেই এই সাফল্য। 

 

মেডিভয়েস :  পড়াশুনা করেছেন কিভাবে?

স্বপ্নীল আবদুল্লাহ :  যা পড়েছি, বুঝে বুঝে গুছিয়ে পড়েছি। মেইন বইয়ের পাশাপাশি কনসেপ্ট ক্লিয়ার করতে অন্যান্য বইপত্র ঘেঁটেছি। আর রেগুলারিটি মেইনটেইন করেছি।

 

মেডিভয়েস :  বাবা-মায়ের ভূমিকা কী ছিল?

স্বপ্নীল আবদুল্লাহ :  চিকিৎসক বাবা-মা আমাকে এতটা আগলে রেখেছেন যে, পড়াশোনার বাইরে কোনকিছু নিয়ে ভাবতে হয় নাই। পড়াশোনাতে প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করেছেন। আমি সত্যিই ভাগ্যবান এই রকম অসাধারণ বাবা-মা’র সন্তান হতে পেরে। 

 

মেডিভয়েস :  কখনো কী হতাশা কাজ করেছে?

স্বপ্নীল আবদুল্লাহ :  হতাশা এবং দুশ্চিন্তা জীবনেরই অংশ।  হতাশা কাজ করছে বটে।  তবে আল্লাহর রহমতে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে তা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। 

 

মেডিভয়েস :  ভর্তি পরীক্ষায় কোনো বিষয় অসামঞ্জস্য মনে হয়েছে কী?

স্বপ্নীল আবদুল্লাহ :  উত্তরপত্র এবং প্রশ্নপত্র একত্রে অ্যাটাচড থাকে। যার জন্য বার বার পেইজ উল্টাতে হয়। এটার বিকল্প ব্যবস্থা থাকলে ভালো হতো। আর কিছু প্রশ্ন থাকে রেগুলার- যার উত্তর এক-এক সোর্স বা বইয়ে এক এক রকম। এই ধরনের বিভ্রান্তিমূলক প্রশ্নের সংখ্যা কমানো আবশ্যক। 

 

 

মেডিভয়েস :  ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

স্বপ্নীল আবদুল্লাহ :  নিজেকে প্রস্তুত করতে চাই একজন ভালো চিকিৎসক হিসেবে। সেইসাথে ভালো একজন মানুষ হিসেবে। আর পেশাজীবনে সফল হওয়ার পাশাপাশি জীবনটাকেও উপভোগ করতে চাই যতটা সম্ভব। 

 

 মেডিভয়েস :  যারা সামনে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা দিবে তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।

স্বপ্নীল আবদুল্লাহ :  প্রচেষ্টা ও সাধনা অব্যাহত রাখো। হতাশ হয়ো না, আবার এতটা আত্মবিশ্বাসীও নয়। বিনয়ী হতে শেখো আর লেগে থাকো। বিজয় তোমার সুনিশ্চিত। তোমাদের জন্য শুভ কামনা রইলো। 

 

 মেডিভয়েস :  কেন ডাক্তার হতে চাইলেন?

স্বপ্নীল আবদুল্লাহ :  আমার বাবা-মা দুজনই ডাক্তার। মূলত: ছোটবেলা থেকে তাদের মানুষ বাঁচানোয় অনুপ্রেরণাদায়ী তৎপরতা দেখেই আমার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নটা বেড়ে উঠতে থাকে। 
 

মেডিভয়েস :  মেডিভয়েস পরিবারের পক্ষ থেকে আপনার শুভ কামনা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যত প্রত্যাশা করছি। 

স্বপ্নীল আবদুল্লাহ :  আপনার মাধ্যমে মেডিভয়েসের শুভ কামনা করছি। আশা করছি আগামীতে আরো দৃঢ়তার সঙ্গে পথ চলবে এবং মেডিকেল শিক্ষার্থী ও সর্বোপরি এই সেক্টরের অর্জনগুলো তুলে ধরতে সক্ষম হবে মেডিভয়েস। 

 

মেডিভয়েস :  সময় দিয়ে কথা বলার জন্য ধন্যবাদ। 

স্বপ্নীল আবদুল্লাহ :  আপনাকে এবং মেডিভয়েস পাঠকদেরকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ। 

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

বার পঠিত



আরো সংবাদ


শহীদ ডা. মিলন দিবস আজ

শহীদ ডা. মিলন দিবস আজ

২৭ নভেম্বর, ২০১৭ ১১:১৭


তিনি একজন কার্ডিয়াক সার্জন

তিনি একজন কার্ডিয়াক সার্জন

২০ নভেম্বর, ২০১৭ ১৫:৪১















শিশু কিশোরদের পাইলস

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১১:৩২

স্যালুট টু ইউ ডক্টর

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১০:৪১
























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর