ডা. রেদওয়ান বিন আবদুল বাতেন

ডা. রেদওয়ান বিন আবদুল বাতেন

জনস্বাস্থ্য গবেষক

ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া


২৪ অক্টোবর, ২০১৭ ০৮:০৯ পিএম

রোড টু পিএইচ ডি-২৪: স্কাইপ ইন্টারভিউ

রোড টু পিএইচ ডি-২৪: স্কাইপ ইন্টারভিউ

অ্যাপ্লিকেশানের ডেডলাইন পার হলে ডিপার্টমেন্টের অ্যাডমিশান কমিটি স্টুডেন্ট অ্যাপ্লিকেশানগুলো প্রাথমিকভাবে বাছাই করেন। কারো প্রোফাইল পছন্দ হলে সাথে সাথে অফার লেটার দিয়ে দেন। প্রয়োজন মনে হলে কারো কাছ থেকে অতিরিক্ত কাগজপত্র চান। অ্যাপ্লিকেশানের কোথাও কোন গ্যাপ থাকলে তা পূরণ করতে বলেন।

কোন কোন ডিপার্টমেন্টের প্রফেসরেরা আপনার সাথে কথা বলতে চাইতে পারেন। এই কথা বলাটা সাধারণত স্কাইপে হয়ে থাকে। সেটি করতে চাইলে আপনাকে ইমেইল করে তাদের স্কাইপ আইডি এবং সময়ের অপশন জানিয়ে দিবে। আপনি রিপ্লাই দিয়ে আপনার অ্যাভেইলেবল সময় এবং স্কাইপ আইডি দিয়ে দিবেন।

নির্দিষ্ট দিনে একেবারে কাঁটায় কাঁটায় নির্দিষ্ট সময়ে প্রফেসর আপনাকে স্কাইপে কল দেবে। মনে রাখবেন এক মিনিট দেরিও হবে না খুব ব্যতিক্রম ছাড়া। তাই কেয়ারফুল থাকতে হবে।

প্রফেসর একা আপনার সাথে কথা বলতে পারেন। অ্যাডমিশান কমিটির বেশ কয়েকজন মিলে কথা বলতে পারেন। শুধু অডিও কল হতে পারে অথবা ভিডিও। যে কোন সিনারিও ফেস করতে পারেন।

পশ্চিমারা সাধারণত পোশাক-আশাক নিয়ে খুব একটা ঘাঁটাঘাঁটি করে না। তাই স্বাভাবিকভাবেই ইন্টারভিউ ফেস করবেন।

পশ্চিমাদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো তারা খুব বিনয়ী। সবার সাথে একই আন্তরিকতা বজায় রেখে কথা বলাটা তাদের অভ্যাস। তাই প্রথমেই আপনার সাথে হেসে হেসে খুব বিনয়ী হয়ে কথা বলবে। এর মানে কিন্তু এই না যে আপনার প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তারা আপনার সাথে বিনয় করছে। এর মানে হলো মানুষের সাথে ব্যবহারের এটা স্ট্যান্ডার্ড। শুধু তোমার সাথে আমরা এ ব্যবহার করছি তা নয়। সবার সাথেই আমরা এই ব্যবহার করে থাকি। তাই প্রাথমিক ভালো ব্যবহারে কোন পজিটিভ সাইন খুঁজতে যাবেন না।

ওরা বুঝতে চাইবে অ্যাপ্লাই করা প্রোগ্রাম সম্পর্কে আপনি কতটুকু জানেন। এর বিষয়বস্তুর উপর আপনার দখল কতখানি। পিএইচডি প্রোগ্রামে অ্যাপ্লাই করলে স্বাভাবিকভাবেই আপনার একটি মাস্টার্স ডিগ্রি করা থাকবে, সে মাস্টার্সের থিসিস এর উপর সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন থাকবে।

হ্যাঁ, যে থিসিসটি সবচেয়ে বিরক্তিকর ছিল, যেটি করার সময় প্রায় কিছুই বুঝে উঠতে পারেননি, বেশিরভাগ সময় কপি-পেস্ট মেরে কাজ সেরেছেন, যে থিসিস করতে যেয়ে সুপারভাইজার আপনার জীবন অতিষ্ঠ করে ফেলেছিল, ঘুরাতে ঘুরাতে জুতার তলা ক্ষয় করে ফেলেছিলেন, সাধারণ বিষয়গুলো জটিল করে ইচ্ছে করে আপনার সামনে থিসিসটিকে এক কঠিন দুর্বোধ্য বিষয় করে ফেলেছিলেন – সেই মাস্টার্সের থিসিসখানি এখন আপনার জন্য ত্রাতা হিসেবে হাজির হবে।

ইন্টারভিউতে জানতে চাইবে, আপনার থিসিসের বিষয়বস্তু কী ছিল? কীভাবে স্টাডি ডিজাইন করেছিলেন? স্যাম্পল সাইজ কত ছিল? কীভাবে স্যাম্পলিং করেছেন? স্ট্যাটিস্টিক্যাল মেথড কী ইউজ করেছেন? ভ্যারিয়েবল কী কী ছিল? তাদের ক্যাটাগরি কী ছিল? স্টাডি রেজাল্ট কী ছিল? কোন কোন ভ্যারিয়েবল সিগনিফিকেন্ট ছিল? কেনই বা সিগনিফিকেন্ট ছিল? ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি।

অর্থাৎ, বিষয়বস্তুর উপর খুব ভালো দখল থাকা চাই। মুখস্ত বিদ্যার কোন কাজ এখানে নেই। মুখস্ত করলে উল্টো বিপদে পড়বেন। কারণ এই প্রফেসরদের কাছে আপনি নিতান্তই শিশু। তাদের চেয়ে বেশি জানা বা বোঝা আপনার পক্ষে কিছুতেই সম্ভব নয়। তাঁদেরকে ভুজুং ভাজুং দেয়ার চেষ্টা করা আর একটা কুঠার কিনে এনে নিজের পায়ে কোপ মারা একই কথা।

এর কারণ কি এই যে আপনার মেধা কম? বিষয়টা কিন্তু মোটেও তা নয়। বিষয়টা বরং অন্য জায়গায়। ব্যাপার হলো আপনি আমি সিস্টেম জানি না।

আমাদের দেশের এডুকেশনাল সিস্টেমের কোথাও এই এলিমেন্টগুলো নেই। প্রফেসর যে উত্তরগুলো খুঁজছেন, সেগুলো খুব খুব সহজ, একেবারে বেসিক বিষয়। কিন্তু সিস্টেমের প্যাঁচে পড়ে এগুলো শেখাটা একেবারে আপনার নিজের উপর ডিপেন্ড করে। আপনি উদ্যোগী হয়ে শিখলে কাজে দেবে নইলে বিপদে পড়বেন।

স্কাইপ ইন্টারভিউ দিয়ে নিশ্চিতভাবে আপনি নিজেকে, মাস্টার্সের থিসিস ইত্যাদিকে আচ্ছামত গালাগালি করবেন। কারণ এত সহজ আর বেসিক বিষয়গুলোতে আপনার যে গ্যাপ আছে তা কোনদিন আপনি কল্পনাও করেননি। মনে রাখবেন এটা সিস্টেমের দোষ, আপনার নয়। রিসার্চ মেথডোলজি নামক বিষয়টি আমাদের দেশে সবচেয়ে উপেক্ষিত। অথচ এই বিষয়টার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি।

দু’একজন শিক্ষক ছাড়া অধিকাংশই এ বিষয়টি স্টুডেন্টদেরকে ভালোভাবে শেখান না। ফলে রিসার্চ সম্পর্কে বেসিক প্রশ্নের উত্তর দিতে আমরা হিমশিম খাই। স্কাইপ ইন্টারভিউর আগে আপনার থিসিসটি ভালোভাবে রিভিউ করুন। আপনার কোন পাবলিকেশান থাকলে সেগুলোর টেকনিক্যাল ডিটেলস খেয়াল করুন। গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনোলজিগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করে নিন।

ইন্টারভিউ ইংরেজিতে হবে তাই ফ্লুয়েন্সি প্র্যাকটিস করতে পারেন। আপনাকে শুদ্ধ ইংরেজি বলতে হবে এটা এক্সপেক্টেড না। বেসিক কিছু বিষয় যেমন তোমার ব্যাকগ্রাউন্ড বলো, কাজের এক্সপেরয়েন্স বলো, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী এসব সম্পর্কে আগে থেকে প্র্যাকটিস করে নিলে গুরুত্বপূর্ণ কোন পয়েন্ট বাদ যাবে না।

ভালো ইন্টারনেট কানেকশান, ওয়েবক্যাম, হেডফোন আগে থেকে প্রস্তুত রাখতে হবে। কথা বলার রুমটি খালি করে লক করে বসবেন। আমি পরামর্শ দিবো আগে থেকে ব্যবহার করে আসা ল্যাপটপে মডেম ইউজ করে ইন্টারভিউ দিতে যাতে কারেন্ট চলে গেলে কোন বিঘ্ন না ঘটে।

ধৈর্য ধরে, নিজের ‘কুলনেস’ ধরে রেখে অন্তত আধা ঘন্টা এভাবে কথা বলার প্রস্তুতি নিন। ইন্টারভিউর দৈর্ঘ বাড়তে বা কমতেও পারে। তবে স্ট্যান্ডার্ড হলো ৩০ মিনিট।

ডিসক্লেইমার

পূর্ববর্তী পর্ব: রোড টু পিএইচডি-২৩: জার্নাল পাবলিকেশান

পরবর্তী পর্ব: রোড টু পিএইচডি-২৫: কত টাকা লাগবে? কে দিবে?

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত